সাপাহারে গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ স্বামীর দাবি ডাকাতির ঘটনা

আপডেট: অক্টোবর ২১, ২০১৯, ১:৩০ পূর্বাহ্ণ

সাপাহার প্রতিনিধি


নওগাঁর সাপাহারে নিজ স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে বিষয়টি ডাকাতির ঘটনা বলে চালানোর চেষ্টা করছে স্বামী নজরুল ইসলাম বলে অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার বিদ্যানন্দী বাহাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নজরুল ওই গ্রামের মোজাফ্ফর রহমানের ছেলে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন ধরে নজরুলের বাবা-মা বাড়িতে ছিলনা কয়েক দিন ধরে সে বাড়িতে ও স্ত্রী সন্তান নিয়ে থাকত। ঘটনার দিন রাত ২টার দিকে নজরুল ইসলাম তার বাড়ি থেকে বেরিয়ে গ্রামের অন্যলোকের দরজায় আঘাত করলে গ্রামের কয়েকজন লোক বেরিয়ে আসে এবং তাকে তার মুখে কসটেপ আটানো ও দুই হাত পেছনের দিকে গামছা দিয়ে বাধাঁ অবস্থায় দেখতে পায়। এসময় তারা তার মুখের টেপ ও বাধঁন খুললে সে তাদেরকে বলে যে আমার বাড়িতে ডাকাত প্রবেশ করেছে। তারা আমার ছেলেকে কুপের মধ্যে ফেলে দিতে চায় আপনারা আমার ছেলেকে বাঁচান বলে জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। গ্রামের লোকজন তার বাসায় ছুটে এসে দেখতে পায় যে, বিছানায় তার স্ত্রী রুমী (২৫) অচেতন অবস্থায় পড়ে রয়েছে ও সন্তান রাফি (২) ঘুমন্ত অবস্থায় রয়েছে। লোকজন তৎক্ষনাত তাকে ও তার স্বামী নজরুল ইসলামকে সেখান থেকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করে। এসময় কর্তব্যরত চিকিৎসক নজরুলের স্ত্রী রুমীকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত রুমীর গলায় শ্বাসরোধ করে হত্যাকরার স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে।
নিহত গৃহবধূ রুমীর স্বামী নজরুল ইসলাম জানান, রাত দেড়টার দিকে সে বাড়ির বাথরুম থেকে বেরোনোর সময় তাকে অপরিচিত ৩ জন লোক ঝাপটে ধরে এবং তাকে তার ঘরের মধ্যে নিয়ে গিয়ে বাইরের দরজার চাবি আদায় করে। বাড়ির দরজায় তালা ছিল তারা কি করে বাসায় প্রবেশ করল এ প্রশ্নের জবাবে সে কিছুই বলতে পারেনা। এর পর ডাকাতরা চাবি দিয়ে বাড়ির সদর দরজা খুললে আরো ৬ জন লোক বাসায় প্রবেশ করে এবং তাকে তার শয়ন ঘরের মধ্যে নিয়ে গিয়ে গামছা দিয়ে দুই হাত বেধেঁ ফেলে ও মুখে স্কচটেপ এঁটে দেয়। এর পর আবারো তাকে ঘর হতে বের করে নিয়ে বাড়ির আঙ্গিনায় যায়। এসময় সে ডাকাত দলের হাত থেকে ফসকে সদর দরজা দিয়ে বেরিয়ে প্রতিবেশীদের ডাক দেয়। এর মধ্যে ঘরে ডাকাতদল কি করল এবং কি সম্পদ লুট করল তা তার জানা নেই বলে জানান এবং এ পর্যন্ত তার স্ত্রী ও সন্তান ঘুমেই ছিল বলেও তিনি জানান।
নিহত গৃহবধূর পিতা রমজান আলী ও বড় চাচা নুরমোহাম্মাদের দাবি, তাদের মেয়েকে জামাই নজরুল হত্যা করে ডাকাতির নাটক সাজিয়েছে। তাদের বাড়ি ধামইর হাট উপজেলার ফতেপুর গ্রামে।
সাপাহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল হাই নিউটন ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছেন। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন মামলা দায়ের না হলেও হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
ওসি আবদুল হাই নিউটন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এটি চুরি কিংবা ডাকাতির কোন ঘটনা নয়। স্বামীর দ্বারাই ঘটনাটি ঘটতে পারে, তবে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে আসল রহস্য উম্মোচিত হবে বলে তিনি মনে করেন। নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মো. রাশেদুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।