সাপাহারে জমে উঠেছে ঈদ মার্কেট

আপডেট: জুন ৪, ২০১৮, ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ

সাপাহার প্রতিনিধি


সাপহারের ঈদ উপলক্ষে একটি কাপড়ের দোকের ক্রেতাদের কেনাকাটা-সোনার দেশ

আসন্ন পবিত্র ঈদের দিন ঘনিয়ে আসতে শুরু করেছে, মাত্র কয়েক দিন বাকি। ঈদের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে নওগাঁর সীমান্তবর্তী সাপাহার উপজেলার বাজারগুলো ক্রেতাসাধারণের সমাগমে তার চেয়ে অধিক পরিপূর্ণ পরিলক্ষিত হচ্ছে, জমে উঠেছে পবিত্র ঈদের বাজার। সদরের বিভিন্ন মার্কেটের শপিং মল থেকে শুরু করে ফুটপাতের দোকানগুলোতে তিল ধারনের ঠাঁই নেই। ঈদে চাই নতুন পোশাক। তাইতো সাধ আর সাধ্যের মধ্যে না থাকলেও প্রিয় জনকে উপহার দিতে ধনী ও মধ্যবিত্তদের পাশাপাশি কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছে নি¤œবিত্তের মানুষগুলোও।
উপজেলা শহরে বসবাসকারী জনসাধারণ ছাড়াও বিভিন্ন গ্রামসহ পাশ্ববর্তী উপজেলার থেকে লোকজন প্রতিদিন ঈদের বাজার করতে আসছে উপজেলা শহরে। সাপাহার উপজেলা শহরের নিউমার্কেট, লাবনী সুপার মার্কেট, চৌধুরী মার্কেট, গিয়াস মার্কেট, ভাইবোন মার্কেট, হক সুপার মার্কেট, সোনার বাংলা মার্কেট সহ বিভিন্ন মার্কেটের প্রথম পছন্দের জিনিস হল তরুণ তরুণীদের কসমেটিক, ছোট বড় ১শ ২০টি কাপড়ের বিপনী বিতানগুলোতে এবারের ঈদের কালেকশনে নজর কাড়া বাহারী পোষাকের ঝলকের মধ্যে আগের বছরের পোশাকগুলোই বেশি বেশি নজর কাড়ছে ক্রেতাদের, এগুলোর মধ্যে বাহুবলী, ঋষিকা, সেলফি, কুলফি, পাহাড়পুরি, আনারকলি, ডিভাইডার গাওন, জিপসীসহ হরেক রকমের বাহারী থ্রী-পিস, লেহেঙ্গা, ফতোয়া, সেলোয়ার, কামিজ। ছেলেদের জন্য রয়েছে, টি-শার্ট, গেঞ্জী, পাঞ্জাবী, জিন্সপ্যান্ট, রাখিবন্ধন, পটল কুমার, বজরাঙ্গি ভাইজাং, ফ্লোর টাচ গাউন, লাসা, লং স্কার্ট, আকৃষ্ট করেছে দেশীয় পণ্য টাঙ্গাইল শাড়ি, জামদানী, খদ্দর, মনীপুরী, রাজগুরু, বালুচুরী, জর্জেট শাড়ি ইত্যাদি।
লাবনী সুপার মার্কেটের মাসুম ক্লথ স্টোরের মালিক মজিবর রহমান ও জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, এবারের ঈদে তারা সেরা ডিজাইনগুলিই তাদের দোকানে এনেছেন এবং মেয়েদের একটি পোষাক সর্বোচ্চ ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। প্রতিদিন তারা কেনাবেচা করতে হিমশিম খাচ্ছেন। গতবারের তুলনায় প্রতিদিন দ্বিগুন বেচা-কেনা হচ্ছে। এছাড়াও ক্রেতা সমাগম দেখা গেছে বাসমা ফ্যাশন, অহনা, নিউ লুক, মৌ ফ্যাসন, সুলতা ক্লথ স্টোর, জুয়ের ক্লথ স্টোর, রুবেল ক্লথ স্টোর, আলভী ক্লথ স্টোর, নাজমা ক্লথ স্টোর, হক ক্লথ স্টোরগুলোতে।
এ ছাড়াও সাধারণ খেটে খাওয়া গরীব মানুষদের কেনাকাটা করার জন্য সাপাহারে রয়েছে ফুটপাত বা জনতা মার্কেট নামে সেটের দোকান সেখানেও রয়েছে প্রচুর রকমের বাহারী পোষাক, এখানকার খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ সে সব সেটের দোকানে গিয়ে তাদের ও তাদের সন্তানদের জন্য পছন্দের পোষাক কিনছেন। বিপনি বিতানগুলোতে সব সময় ভিড় লেগেই আছে। জনতা মার্কেটে বসে কাপড় কেনার সময় গ্রামের দিনমজুর রফিকুল ইসলামে সঙ্গে কথা বলে জানা গেল সে তার স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে করে ঈদের নতুন কাপড় কিনতে এসেছে। তাকে প্রশ্ন করতেই তিনি জানান, অতীতে গ্রামে এ ধরনের প্রচলন ছিলনা, আমি ও আমার ভাই বোনরা প্রতিটি ঈদে তুলে রাখা পুরাতন কাপড় পরে ঈদের নামাজ আদায় করেছি। এখনকার ছেলে মেয়ে সে কথা শোনেনা। তাদের বায়না ঈদে নতুন পোষাক। আমরা গরীব তাই মার্কেটের বড় বড় দোকানগুলোতে যেতে পারিনি জনতা মার্কেটের এই সেটের দোকানে এসেছি। আমরা খেটে খাই আগের তুলনায় এখন অনেক বেশী মজুরী পাই বর্তমানে সাপাহারে আমের মৌসুম চলছে। মালিকদের বাগানে দিন মজুরীর কাজ করে প্রতি দিন যা পাই খেয়ে পরে কিছু সঞ্চয় করতে পারি আর সে সঞ্চয় দিয়েই আজ সন্তানদের কাপড় চোপড় কিনলাম সন্তানদের সুখই আমাদের সুখ।
এবারে উপজেলা সদর ছাড়া গ্রামের লোকজন বেশী আসছে ঈদের কেনা-কাটা করতে। সাপাহার উপজেলা ছাড়া পাশ্ববর্তী পতœীতলা, পোরশা ও ধামইরহাট উপজেলা থেকে অসংখ্য মানুষ প্রতিদিন ঈদের বাজার করতে সাপাহারে আসছে। সাপাহারে এখন জমজমাট ভাবে প্রতিটি মার্কেটে ঈদের কেনা-বেচা চলছে।