সাফল্য অর্জনে সরকারের পঞ্চম বছরে পদার্পণ

আপডেট: জানুয়ারি ১২, ২০১৮, ১:০১ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন দ্বিতীয় মেয়াদের বর্তমান সরকার অর্থনীতি, অবকাঠামো, কূটনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক উন্নয়নের উল্লেযোগ্য অগ্রগতি অর্জনের মধ্যদিয়ে সাফল্যের সঙ্গে দেশ পরিচালনা করে পঞ্চম ও শেষ বছরে পদার্পণ করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব ও সাফল্য গত চার বছরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। এই সময়ে মাতৃভূমি থেকে বিতাড়িত মিয়ানমারের কয়েক লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে শেখ হাসিনা মানবতা ও শান্তির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এর জন্য আন্তর্জাতিক মহল তাকে ‘মাদার অফ হিউমিনিটি’ এবং ‘নিউ স্টার অব দ্য ইস্ট’ অভিধায় ভূষিত করে।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল বিজয় অর্জনের পর ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য সরকার গঠন করে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে গতবছরে বাংলাদেশে অবকাঠামো উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, পুষ্টি, মাতৃত্ব এবং শিশু স্বাস্থ্য, প্রাথমিক শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন ইত্যাদি ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে।
দেশ আর্থ-সামাজিক সূচকসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রত্যাশাজনক সাফল্য অর্জন করেছে এবং মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিসহ এখন মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের কাজ অব্যাহতভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গত ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের জন্য পাঁচ দফা প্রস্তাব সংবলিত যে ভাষণ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তার ভূয়সী প্রশংসা করেছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির (জিডিপি) হার ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ, বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ ৩২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার এবং রফতানির পরিমাণ ৩৮ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার দাঁড়িয়েছে।
মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬১০ ডলার। এ সময়ে মুদ্রাস্ফীতি বিগত ৫৩ মাসের মধ্যে সর্বনি¤্ন ডিসেম্বরে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। দারিদ্র্য হার ৫৭ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ২২ শতাংশ। মানুষের গড় আয়ু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২ বছর।
বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণের লক্ষ্য পূরণের সুবাদে দেশের ১৬২ মিলিয়ন জনসংখ্যা একটি ডিজিটালাইজড জ্ঞানভিত্তিক সমাজে পরিণত হয়েছে।
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের দুই মেয়াদে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূীচর (এডিপি) আকার ও ব্যয় কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে মেগা প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নে দেশের সক্ষমতা বেড়েছে।
অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ড. মুস্তাফা কে মুজেরি বাসসকে বলেন, বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে ২০২১ সাল নাগাদ মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত দেশে পরিণত করতে চায়।
সাম্প্রতিককালে দেশের খাদ্যশস্যের চাহিদা মিটিয়ে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে কৃষি খাতের ব্যাপক উন্নয়ন ঘটেছে।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ বাসসকে বলেন, সরকারের যথাযথ সমর্থন এবং কিছু কার্যকর নীতির কারণে বর্তমানে কৃষিখাত ভালো অবস্থানে রয়েছে।
দেশের টেলিকম খাতেও ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। দেশের মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২০১৭ সালে নভেম্বরে দাঁড়িয়েছে ১৪৩ দশমিক ১০৬ মিলিয়ন। এসময় মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০ দশমিক ১৬৬ মিলিয়ন।
দেশের ৫৭ দশমিক ৬৭ লাখ লোককে তাদের দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসতে আর্থিক সহযোগিতা দিতে সরকার সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর প্রসার এবং বরাদ্দ বৃদ্ধি করেছে।
দেশের ৮৩ শতাংশের বেশি লোক এখন বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। বাংলাদেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬ হাজার মেগাওয়াট।
জেন্ডার সক্ষমতায় বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে। গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট ২০১৬-তে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বৈশ্বিকভাবে বাংলাদেশের অবস্থান ৭ম।
পদ্মা ব্রিজ, রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র, মেট্রো রেল, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পায়রা সমুদ্র বন্দর, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পদ্মাসেতু রেল লিংক এবং দোহাজারি-কক্সবাজার-গুনদুম রেল লাইনের মতো মেগা প্রকল্পের কাজ চলছে।
গত বছরের ৩০ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বহু প্রতীক্ষিত দেশের প্রথম রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করায় বাংলাদেশ গ্লোবাল নিউক্লিয়ার ক্লাবে প্রবেশ করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প বহুমুখি পদ্মাসেতু প্রকল্প। দেশের বৃহত্তম এই অবকাঠামোর নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যেই ৫০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
দেশের প্রথম ৬ লেনের ফ্লাইওভার নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ের আগেই সম্পন্ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৪ জানুয়ারি ফেনী জেলার মহিপালে এই ফ্লাইওভার উদ্বোধন করেন।
দেশের আইটি খাতের নতুন সম্ভাবনা যশোরে ‘শেখ হাসিনা সফটওয়ার টেকনোলজি পার্ক’ প্রধানমন্ত্রী ১০ ডিসেম্বর উদ্বোধন করেছেন।
মাতারবাড়িতে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিপিজিসিবিএল) সুমিতোমো’র নেতৃত্বাধীন জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
তথ্যসূত্র: বাসস

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ