সারাবছর লাল শাক চাষে লাভবান হচ্ছে নগরীর কৃষক

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৯, ১:৩৬ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


মাত্র এক মাসেই লাল শাক চাষ করে লাভবান হচ্ছে নগরীর কৃষকরা। জমি তৈরি থেকে সার দেয়া বীজ রোপন নিড়ানি দেয়ার পরেই মাত্র ২৫ থেকে ৩০ দিনের মাথায় শাক বিক্রি করতে পারছে কৃষক। ফলে অল্প সময়ে এখন অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে নগরীর কৃষক। গতকাল শনিবার নগরীর সিটিহাট নওদাপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, রোপিত লাল ও সবুজ শাকের মাঝে নতুন করে ঘাস জন্মেছে। আর জন্মানো ঘাসগুলো কামলা দিয়ে নিড়ানি দেয়া হচ্ছে। কথা হয় কয়েকজন কৃষকের সাথে, তারা জানান, এই সকল জমিতে বিভিন্ন শাক-সবজি চাষাবাদ করে বর্র্তমানে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে নগরীর অনেক পরিবার। শুধু তাই নয়, এখানে চাষাবাদের সাথে যুক্ত হয়ে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। অনেক অসহায় পরিবার এখানে মুজরিতেও কাজ করে পরিবার চালাচ্ছে। ১৩ দিন আগে এক বিঘা লাল শাক বুনেছেন কৃষক রিয়াজ উদ্দিন, তিনি জানান, এখানে জমি তৈরি, পানি, সার দেয়া, দিন মুজুরির খরচসহ এক বিঘা জমিতে সব মিলে খরচ হচ্ছে ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা। আর লাল শাক বিক্রি করছে ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা। তবে মাঝে মাঝে দাম বাড়লে আরো বেশি দামে বিক্রি করা হয়। সবচেয়ে বড় কথা মাত্র এক মাসেই এই শাক বিক্রি করতে পারছি।
আরেক কৃষক আশরাফ আলী জানান, এই খানে শুধু লাল শাক নয়। অনেক রকমের শাক-সবজি অল্প সময়ে করা যায়, যার মূল কারণ হচ্ছে রাসিকের তৈরি ড্রেনের পানি। এই পানির জন্য সবসময় এখানে আমরা চাষাবাদ করতে পারি। এখন সারা মাস লাল শাক চাষ করে লাভবান হওয়া যায়। করণ লাল শাক চাষাবাদে ক্ষতির সম্ভাবনা অনেক কম। এখানে যেমন আমাদের লাভ হয়, তেমন অনেক গরিব পরিবার রয়েছে তারাও এখানে দিন মুজরিতে কাজ করছে।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামসুল হক বলেন,‘এই লাল শাকের অনেকগুলো জাত রয়েছে। তবে লাল ও সবুজ শাক নামেই পরিচিত। সবচেয়ে বড় বিষয়ে মাত্র ২৫ থেকে ৩০ দিনের মাথায় এই শাক বিক্রি করা যায়। জমি তৈরি বাদে বছরে ৮ বার এই শাক চাষ করা যায়। প্রতি বছর এক বিঘা জমিতে ৪০ হাজার টাকা লাভ করা যায়। পোকা মাকড়ের আক্রমণ কম হওয়ায় খরচ কম লাগে। কিটনাশক তেমন লাগে না। জমি তৈরির সময় ভালো করে সার দিলে অনেক ভালো হয়। তবে দুই-তিন দিন অন্তর অন্তর পানি দেয়া লাগে।