সার্চ কমিটি নিয়ে বিতর্ক! || নাম সুপারিশ পর্যন্ত অপেক্ষা নয় কেন?

আপডেট: January 28, 2017, 12:07 am

নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে নাম সুপারিশের দায়িত্ব পাওয়া সার্চ কমিটি নিয়ে বিতর্ক এখন তুঙ্গে। বিশেষ করে বিএনপির পক্ষ থেকে ঘোর বিরাধিতা করা হচ্ছে। বুধবার সার্চ কমিটির সদস্যদের নাম প্রকাশিত হলে বিএনপির মহাসচিব প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “নিরপেক্ষতার চরম যে নির্দশন, মহামান্য রাষ্ট্রপতি আমাদেরকে সেটা দিয়েছেন। আমরা শুধু হতাশ হইনি, আমরা ক্ষুব্ধ হয়েছি। এই সার্চ কমিটি কী ধরনের নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন, তা এখনই বুঝতে পারছি।” এই সার্চ কমিটি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে পারবে কিনা- সে বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেন ফখরুল। সার্চ কমিটি নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে আলোচনা- সমালোচনা হচ্ছেÑ যা সংবাদ মাধ্যমে ফলাও করে প্রকাশিত ও প্রচারিত হচ্ছে।
পরবর্তী নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতির কাছে নাম প্রস্তাবকারী এই সার্চ কমিটির প্রধান করা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে। বর্তমান ইসি গঠনে গতবারও একই দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি।
গতবারের মতো এবারও সার্চ কমিটিতে হাই কোর্ট বিভাগের একজন বিচারক থাকছেন। এবার এই দায়িত্ব পেলেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান।
গতবারের মতোই সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান ও কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের (সিএজি) পদধারী ব্যক্তিরা থাকছেন এই কমিটিতে। তারা হলেন পিএসসির এবারের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাদিক এবং সিএজি মাসুদ আহমেদ। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য শিরীণ আখতারকে সার্চ কমিটিতে নেয়া হয়েছে। আজ শনিবার প্রথম সভায় বসছে সার্চ কমিটি।
দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নেতিবাচকতা অনিবার্যভাবে চলে আসছে। রাজনৈতিক স্বার্থকে এতই উগ্রভাবে বিবেচনা করা হয় যে, প্রতিক্রিয়ার কোনো প্রভাবকে বিবেচনায় নেয়া হয় না। অবশ্য এর মাশুল আমরা জাতিগতভাবেই দিয়ে যাচ্ছি। সার্চ কমিটির কাজ হলো: কিছু ব্যক্তিকে তাঁরা মনোনয়ন দিবেন যারা পরবর্তী ৫ বছরের জন্য সকল নির্বাচন পরিচালনা করবেন। সে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়নি বিএনপি নেতৃত্বকেÑ তার আগেই তারা সার্চ কমিটিকে দলীয় মোড়কে নিয়ে পরিস্থিতির আগাম বিশ্লেষণ করছেন। অর্থাৎ সার্চ কমিটিকে বিতর্কিত করার মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে অসহিষ্ণুতার ধারাবাহিকতাকেই রক্ষা করা হয়েছে। এটা আমাদের জাতীয় রাজনীতিরই চরিত্র। আসলে ‘নিরপেক্ষ’ লোক বলতে রাজনৈতিক দলগুলোর কেমন সংজ্ঞা তা তারা কখনোই পরিস্কার করে নাই। বাংলাদেশে আদৌ কোনো নিরপেক্ষ মানুষ আছেন যারা সার্চ কমিটিতে আসলে বিশেষ করে দেশের বৃহত্তম দুটি দল মেনে নিবেন? এটি আমাদের দেশে ভীষণভাবে অসম্ভব। তবে এটা ঠিক যে, দেশের মানুষের জন্য ব্যাপারটি ভিন্ন।  দেশের মানুষ যদি মনে করে যে, নির্বাচন কমিশন ভাল নির্বাচন করেছেন, তারা যদি আশ্বস্ত হনÑ তবে সেই নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ। এমন দৃষ্টান্ত খুব কম নেই।
আমরা ব্যক্তির রাজনৈতিক অবস্থানকে ভয়ঙ্কররূপে দেখাতে চেষ্টা করি কিন্তু তার পেশাদারিত্বের অবস্থানকে বিবেচনায় নিতে চায় না। আমাদের সময় এসেছে মানুষের পেশাদারিত্বের উপর ভরসা রাখার। এটি করতে ব্যর্থ হতেই থাকলে একটাা সময় এমন পরিস্থিতি হওয়াও অসম্ভব নয় যে, নিজেই নিজেকে আর বিশ্বাস করা যাচ্ছে না।
বর্তমান সার্চ কমিটির প্রতি সারা দেশ চেয়ে আছে- তাঁরা কোন ব্যক্তিদের নাম সুপারিশ করবেন- যার মধ্য থেকে মাননীয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের মনোনয়ন দিবনে। সে পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলোকে অপেক্ষ করা উচিৎ নয় কি?