সাড়ে তিন ঘণ্টা বিলম্বে ছাড়লো ঢাকাগামী ‘পদ্মা এক্সপ্রেস’

আপডেট: নভেম্বর ১৫, ২০১৯, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ‘রংপুর এক্সপ্রেস’ লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর ‘পদ্মা এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি সাড়ে তিন ঘণ্টা বিলম্বে ছেড়ে গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ট্রেনটি ৪টার দিকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার সময়সূচি থাকলেও সাড়ে তিন ঘণ্টা বিলম্বে সাড়ে ৭টায় রাজশাহী রেলস্টেশন থেকে ছেড়ে গেছে।
এর আগে ছাড়ার ঠিক আগ মুহূর্তে রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনটি বাতিল করা হয়েছিলো।
রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার আব্দুল করিম বলেন, সিরাজগঞ্জে দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজ শুরু এবং শেষ হতে গভীর রাত পর্যন্ত সময় লাগার আশঙ্কায় প্রথমে ঢাকাগামী আন্তঃনগর পদ্মা এক্সপ্রেসের যাত্রা বাতিল করা হয়েছিলো। পরে উদ্ধারকাজ সম্পন্ন হওয়ায় ও রেললাইন ক্লিয়ার হওয়ায় সাড়ে ৭টায় ছেড়ে গেছে। ঢাকাগামী অন্যান্য ট্রেনগুলোও চলাচল করবে। তবে রাতে ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনটি ১১টার ২০ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও সেটা রাত দেড়টার আগে ছাড়া সম্ভব হবে না। কারণ উল্লাপাড়ায় দুর্ঘটনার কারণে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সিল্কসিটি ট্রেনটি যমুনা সেতুর পূর্ব পাশে আটকা পড়েছিলো। কিছুক্ষণ আগে ওই ট্রেনটিও ছেড়ে দিয়েছে। ট্রেনটি রাজশাহীতে পৌঁছার পর তারপর রাজশাহী থেকে ধূমকেতু এক্সপ্রেস নামে ছেড়ে যাবে। এইজন্য ঘণ্টা দুয়েকের মতো বিলম্ব হবে। তবে কাল (শুক্রবার) থেকে অন্য ট্রেনগুলো নির্দিষ্ট সময়ে ছেড়ে যাবে।
এদিকে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ট্রেন যাত্রার কিছুক্ষণ আগে আন্তঃনগর পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা বাতিল করায় ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাত্রীদের। অনেকে টিকিট ফেরত দিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। অনেক টিকিট ফেরত দিয়ে বাসে যেতে বাধ্য হয়েছেন। তবে বেশিরভাগ যাত্রী পরবর্তী ট্রেনের জন্য স্টেশনে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। তবে যারা যারা টিকিট ফেরত দিয়েছেন তাদের সবাইকে স্টেশনের কাউন্টার থেকে টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে।
নগরীর উপশহর এলাকার বাসিন্দা তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ট্রেন ছাড়ার আগ মুহূর্তে মাইকে ঘোষণা দিয়ে বলা হচ্ছিলো যে, রাজশাহী-ঢাকা ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। তিন দিন আগে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটতে হয়েছে। আর আগ মুহূর্তে যদি ঘোষণা দেয়া হয় ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে তাহলে তো মেজাজ খারাপ হওয়ারই কথা। কিন্তু উপায়ও তো নেই। ট্রেন দুর্ঘটনার কারণেই তো যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। তবে বাসা থেকে খোঁজ নিয়ে দেখবো, পরে যদি ট্রেন ছাড়ে তাহলে সেই সুযোগ নেব।
কামরুন নাহার নামের আরেক যাত্রী বলেন, যেভাবে ট্রেন দুর্ঘটনা হচ্ছে তাতে ট্রেন যাত্রাও নিরাপদ না দেখছি। এখন বাস্তবতা মেনে নেয়া ছাড়া কোনো উপায় নাই।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিনসহ ছয়টি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন লেগে যায়। এ ঘটনায় ট্রেনের লোকো মাস্টার এবং সহকারী লোকো মাস্টার আহত হয়েছেন। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।