সিংড়ায় অতিরিক্ত সেচমূল্য আদায় বন্ধের দাবিতে কৃষকদের বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৯, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ

সিংড়া প্রতিনিধি


সিংড়ায় অতিরিক্ত সেচমূল্য আদায় বন্ধের দাবিতে কৃষকদের মানববন্ধন-সোনার দেশ

চলতি বোরো মৌসুমে কৃষকদের কাছ থেকে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন র্কতৃপক্ষের আওতায় গভীর ও অগভীর নলকুপের অতিরিক্ত সেচমুল্য আদায় বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে ভুক্তভোগী কৃষকরা। গতকাল সোমবার সকালে নাটোরের সিংড়া উপজেলার ২ নম্বর ডাহিয়া ইউনিয়নের বড়গাঁও ও রঘুকদমা গ্রামের মাঠে কৃষকদের আয়োজনে এই বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করা হয়। এতে অংশ নেন বড়গাঁও, রঘুকদমা, হাতিয়ানদিঘী, ছাতুয়া, মষিগারী, তাড়াই, বড়ইচড়াসহ ৭ গ্রামের প্রায় দেড় শতাধিক ভুক্তভোগী কৃষক।
বিক্ষোভ ও মানববন্ধন শেষে কৃষকরা জানায়, সিংড়া উপজেলার বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন এখানকার ৭ গ্রামের মাঠজুড়ে প্রায় ২শ একর জমিতে ৩টি গভীর নলকুপ স্থাপন করা হয়েছে। বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ তাদের আওতাধীন গভীর নলকুপের সেচমুল্য প্রতিঘন্টায় ১২৫ টাকা নির্ধারন করেছে। পুরো মৌসুম প্রতি বিঘাজ মির সেচমুল্য নির্ধারন হয়েছে ১হাজার ৫০০ টাকা। অথচ বরেন্দ্র বহুমুখী প্রকল্পের তত্বাবধানে থাকা মালিক পক্ষের অপারেটররা তা মানছেন না। তারা এই তথ্য গোপন করে কৃষকদের কাছ থেকে ২ হাজার ৮০০ শ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত সেচমুল্য আদায় করছেন। অর্থাৎ কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি বিঘায় ১৩০০টাকা থেকে ১৫০০টাকা অতিরিক্ত বেশি সেচমূল্য নেওয়া হচ্ছে।
রঘুকদমাগ্রামের কৃষক মুনছুর আলী বলেন-বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিয়ে জেনেছি সেখানে সেচমুল্য ১২৫০ টাকা আদায় করছে কিন্তু আমাদের এখানে অতিরিক্ত মূল্য আদায় করায় আমরা চলতি মৌসুমের শুরুতেই আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।
বড়গাঁও গ্রামের কৃষক মালেক সরকার বলেন-মটর ও ডিজেল চালিত নলকুপের চেয়ে গভীর নলকুপে স্বল্প খরচ পাবো এই আশায় আমরা এর আওতায় এসেছি কিন্তু এখন দেখছি মটর ও ডিজেল চালিত নলকুপের চেয়েও পানি সেচের খরচ বেশি পড়ে যাচ্ছে। হাতিয়ানদিঘী গ্রামের কৃষক জুয়েল রানা বলেন-এখানে ৩টি গভীর নলকুপের মালিক পক্ষের অপারেটর মতিন সরকার, শহিদুল ও হাশেমকে সেচমূল্য কমানোর কথা বললে তারা কৃষকদের উপর ক্ষেপে যান এবং জমিতে পানি সেচ বন্ধের হুমকি দেন। এমতাবস্থায় আমরা গত এমাসের ৭ তারিখে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একাটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। অভিযোগের কোন ফল না পেয়ে আমরা এই দাবি আদায়ে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করতে বাধ্য হয়েছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গভীর নলকুপের হাতিয়ানদিঘী মাঠের অপারেটর শহিদুল ইসলাম বলেন, কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত সেচমূল্য নিলে আমাদের কোন লাভ থাকে না। কৃষকদের কাছ থেকে ২৬০০শ, ২৮০০শ টাকা চাই। মূলতঃ ২৫০০শ টাকা নেই। রঘুকদমা মাঠের অপারেটর মতিন সরকার ও হাশেম আলী একই মন্তব্য করে বলেন-আমাদের এই মাঠের জমিগুলোতে পানি টানে বেশি তাছাড়া আগের চেয়ে বিদ্যুত খরচও বেশি হওয়ায় বাধ্য হয়ে আমরা এই টাকা নেই।
উপজেলা সেচ কমিটির সদস্য সচীব ও উপজেলা কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের সহকারী প্রকৌশলী মো. তহিদুল আলম বলেন-বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতায় উপজেলায় মোট ৭৪টি গভীর নলকুপ আছে। এলাকার জমি ভেদে সেচমূল্য নির্ধারন করা হয়। উপজেলার চামারী ও খাজুরা ইউনিয়ন ব্যতীত ডাহিয়া, ইটালীসহ ১০টি ইউনিয়নের মাঠের জমির সেচমূল্য মৌসুমে প্রতি বিঘা ১৫০০টাকা নির্ধারন করা হয়েছে।সেচ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। নির্ধারিত সেচমূল্যের চেয়ে কেউ বেশি নিলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ