সিংড়ায় সৎ ভাইকে কুপিয়ে হত্যা

আপডেট: জুন ১৫, ২০১৯, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ

সিংড়া প্রতিনিধি


নাটোরের সিংড়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হেদায়েত আলী নামে দশ বছরের ছোট সৎ ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করেছে তার বড় ভাই ইসাহাক আলী সুবল। গতকাল শুক্রবার সকালে উপজেলার পুঠিমারী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত হেদায়েত আলী ওই এলাকার আবদুল কাদের কান্দুর ছেলে ও পুঠিমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র। এ ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে সুবল। খবর পেয়ে সিংড়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জামিল আক্তার ও সিংড়া থানার ওসি মনিরুল ইসলামসহ অন্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
সিংড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুল ইসলাম ও নিহতের চাচাত ভাই জমসেদ জানান, উপজেলার পুঠিমারী গ্রামের আবদুল কাদের কান্দুর তার প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে বুলবুলি খাতুনকে বিয়ে করে। বিয়ের পর হেদায়েত আলীর জন্ম হয়। হেদায়েত আলীর জন্মের পর থেকে সৎ বড় ভাই ইসাহাক আলী সুবলের বাড়ির জমি নিয়ে বাবা আবদুল কাদের কান্দুর সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল। সুবল এক পর্যায়ে জাল দলিল সৃষ্টি করে বাড়ির ১৭ শতক ভিটে জমি তার নিজ নামে খাজনা খারিজ করে নেয়। এ বিষয়টি পরবর্তীতে জানাজানি হলে সুবলের বিরুদ্ধে আদালতে একটি চিটিং মামলা দায়ের করেন আবদুল কাদের কান্দু । সম্প্রতি বাড়ির ১৭ শতক ও মাঠের ৩০ শতক জমি ছোট পক্ষের ছেলে হেদায়েত আলী ও বড় পক্ষের ছেলে ইউনুস আলী এই দুই ছেলেকে সমান ভাগে জমি রেজিস্ট্রি করে দেয়া হয়। এরই এক পর্যায়ে শুক্রবার সকালে হেদায়তে আলী তার ঘরে একা ঘুমিয়ে ছিল। এই সময় তার বাবা মা কেউ বাড়িতে ছিল না। সুযোগ ঝুঝে ইসাহাক আলী সুবল ঘুমন্ত অবস্থায় তার দশ বছরের সৎ ভাই হেদায়েত আলীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। হেদায়েত আলীর চিৎকারে পরিবারের লোকজন এগিয়ে এলে ইসাহাক আলী সুবল পালিয়ে যায়। পরে আহত অবস্থায় হেদায়েতকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায়। বর্তমানে নিহত হেদায়েত আলীর মরদেহ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রয়েছে।
সিংড়া থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকে ইসাহাক আলী সুবল পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশি অভিযান শুরু করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও থানায় কোন মামলা হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।