সিংড়া চলনবিলে ধানের ফলন কম: ক্ষতির আশঙ্কায় কৃষক

আপডেট: এপ্রিল ২৮, ২০১৯, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ

এমরান আলী রানা, সিংড়া


সিংড়ায় বোরো ধান কাটতে ব্যস্ত কৃষকরা-সোনার দেশ

শস্য ভান্ডার নামে খ্যাত নাটোরের সিংড়া উপজেলার চলনবিল অঞ্চলে চলতি বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। তবে কৃষকরা যে স্বপ্ন নিয়ে পাকা ধান কাটতে শুরু করেছিল প্রতিকুল আবহাওয়ায় ধানের ফলন কমে যাওয়ার আশংকায় সেই স্বপ্ন ভেঙে যাচ্ছে। আগাম জাতের মিনিকেট ধান কেটে ঘরে তোলার আগ মুহূর্তে হঠাৎ শীষ মরা রোগে ধানের চাল চিটা হওয়ায় কৃষকদের মনে এই আশংকার সৃষ্টি হয়েছে।
ইতোমধ্যে যে সব কৃষক জমির কিছু ধান কেটে ঘরে তুলেছেন তাদের অনেকেরই ফলন হয়েছে গতবারের চেয়ে ৫ থেকে ৬ মণ কম। গত বছর যে জমিতে ধান হয়েছে ২৪ থেকে ২৬ মণ সেই জমিতে এ বছর ধান পাওয়া যাচ্ছে ১৬ থেকে ১৮ মণ।
ধানের ফলনের এই বিপর্যয় কারণ হিসেবে সাধারণ কৃষকরা বলছেন-চলতি মৌসুমে বোরো ধানে যে সময় ফুল ফোটে ঠিক সেই সময়েই এই এলাকায় কয়েক বার প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানে। এরমধ্যে পর পর দুইবার শীলা বৃষ্টি আর ঝড়ো হাওয়ার কারণে ধানের ফুলে ব্যাপক ক্ষতি হয়। এর প্রভাবে ধানের চাল কালো চিটায় পরিনত হয়।
এদিকে ফলন কম হওয়ার আশংকায় বিদেশী শ্রমিকরা এই এলাকায় আসার আগ্রহ হারিয়েছে বলে কৃষকরা দাবি করছেন। কৃষকরা বলছেন প্রতিবছর এই মৌসুমে যে পরিমান বিদেশী শ্রমিকরা আসত এ বছর তার অর্ধেক সংখ্যকও আসে নি। চাহিতা মত বিদেশী শ্রমিক না থাকায় স্থানীয় শ্রমিদের কদর বেড়েছে বেশি। সেই সাথে মজুরীও হাকছেন দ্বিগুন। জমি থেকে কৃষকের খোলায় ধান কেটে আনতে নিচ্ছেন প্রতি মণে ১০ থেকে ১৫ কেজি। অথচ গতবার একই জমিতে নিয়েছেন ৫ থেকে ৮ কেজি।
গতকাল সিংড়া উপজেলার চৌগ্রাম,ডাহিয়া, বেড়া বাড়ি ও তেলীগ্রামের মাঠ ঘুরে কৃষকদের এই দুর্দশার চিত্র দেখা যায়। কৃষকরা ধান কাটছেন কিন্তু তাদের মনে পাকা ধান কাটার সেই আনন্দ নাই।
বেড়াবাড়ি গ্রামের কৃষক আলতাফ হোসেন বলেন, আমার ১০ বিঘা জমির মধ্যে ৫ বিঘা কেটেছি। প্রতি বিঘায় ফলন হয়েছে ১৬ মণ। গত বছর এই জমিতে ফলন পাইছিলাম ২৩ মণ করে। এখন দেখছি আমার খরচের টাকাই উঠবেনা।
চৌগ্রাম মাঠের কৃষক জয়নুল সরকার বলেন, আমার ৮ বিঘা জমির মধ্যে ২ বিঘা জমির ধান খুবই খারাপ। কালো চিটা শীষ দেখে এই জমিতে শ্রমিকরা ধান কাটতে রাজি হচ্ছেনা। বাকি ৬ বিঘা জমির ধান কাটা শুরু করেছি।
ডাহিয়া গ্রামের আলহাজ বলেন, আমার ৩০ বিঘা জমির ধান জমিতে পেকে আছে। শ্রমিক পাচ্ছিনা। স্থানীয় শ্রমিকরা মণ প্রতি ১২ কেজি করে চাচ্ছে। বিদেশী শ্রমিকদের অপেক্ষায় আছি।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য মতে চলতি বোরো মৌসুমে সিংড়া উপজেলায় ৩৭ হাজার ১শ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে।
সিংড়া উপজেলা কৃষি অফিসার সাজ্জাত হোসেন বলেন, চলতি বোরো মৌসুমের মাঝখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আগাম জাতের কিছু জমির মিনিকেট ধানের চাল চিটা হয়েছে। তাতে আশা করা যায় ফলন খুব কম হবেনা। তবে অন্য জাতের বোরো ধানের ফলন বাম্বার হবে বলে আশা করা যায়।