সিন্দুকে কী আছে?

আপডেট: অক্টোবর ৫, ২০১৯, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


মতিঝিল ক্লাবপাড়া। সব সময় ছিল লোকে লোকারণ্য। কিন্তু সেখানে এখন সুনসান নীরবতা। পুলিশ ক্লাবগুলো সিলগালা করলেও ভেতরে রয়েছে বড় বড় সিন্দুক। অত্যাধুনিক এসব সিন্দুক বন্ধ থাকায় অনেকের মাঝে কৌতূহল- সিন্দুকের ভেতর কী আছে।?
বৃহস্পতিবার দুপুরে এ বিষয়ে কথা হয় সদ্য বিদায়ী মতিঝিল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওমর ফারুকের সঙ্গে।
তিনি বলেন, ‘সিন্দুকগুলো ডিজিটাল পাসওয়ার্ড দিয়ে লক করা। এতটাই সুরক্ষিত যে, হাতুড়ি দিয়ে ভাঙা তো দূরের কথা, গ্যাসকাটার দিয়েও কাটা সম্ভব নয়। সিন্দুগুলো এত বড় যে তা সরানোও যাচ্ছে না। পাসওয়ার্ড না পেলে খোলা সম্ভব নয়। একমাত্র যে এটি আগে পরিচালনা করতেন কেবল তিনিই খুলতে পারবেন। তবে খুলতে না পারায় ভেতরে কী আছে তা বলতে পারছি না। এজন্য আদালতের আদেশ চাওয়া হয়েছে।’
সরেজমিন গিয়ে ক্লাবপাড়ার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ক্লাবের সুরক্ষিত বড় বড় সাইজের সিন্দুকগুলোতে জুয়া খেলার চিপস, অস্ত্র এবং টাকা থাকতে পারে। যা ব্যাংকের ভল্টের মতো। ক্যাসিনোর সিন্দুকে টাকাই থাকবে বেশি। প্রতিদিনই জুয়া খেলার জন্য বিপুল অঙ্কের নগদ টাকার লেনদেন করতে হয়। আবার টাকা নিরাপদ রাখতে সিন্দুকের কোনো বিকল্পও নেই। এ কারণে সিন্দুক না থাকলে জুয়ার ব্যবসা অসম্ভব।
আরামবাগ ক্লাবের সামনে দীর্ঘদিন ধরে তেহারি বিক্রি করেন মো.জাহাঙ্গীর। ক্লাবপাড়ায় বেশিরভাগ সময় কেটেছে তার। তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘ক্যাসিনোর সিন্দুকগুলো আকারে বেশ বড়। অনেকটা ব্যাংকের ভল্টের মতো। ক্যাসিনো ডিলাররা সাধারণত এগুলো পরিচালনা করেন। একেকটি ক্লাবে দুজন করে ডিলার ছিলেন। যারা জুয়ার বোর্ড পরিচালনা করা সঙ্গে ছিলেন সিন্দুকের দায়িত্বেও। কিন্তু তারা এখন সবাই গা ঢাকা দিয়েছে।’
সূত্র জানায়, ভিক্টোরিয়া, দিলকুশা, মোহামেডান ও আরামবাগ ক্লাবের ক্যাসিনোতে ব্যাংকের ভল্টের চেয়েও বড় সিন্দুক আছে। এগুলোর একেকটির ওজন অন্তত ৪০০ কেজি। আগুন প্রতিরোধী সিন্দুকগুলো স্টিলের ঢালাইয়ে তৈরি। অর্থ নিরাপদ রাখতে যেমন সিন্দুক রাখা হয়, তেমনি এর নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হয়। এসব সিন্দুকের বড় বাজার গুলশান এলাকায়। ক্লাবগুলোর বেশিরভাগ সিন্দুক এই এলাকা থেকে কেনা হয়। তবে এত বড় সিন্দুক নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি কিনেছেন বলে ব্যবসায়ীরা বলছিলেন।
তারা আরো বলেন, সিন্দুকগুলো ক্যাসিনোতে বা কোথায় নিয়েছে তা বলতে পারব না। আধুনিক সব নিয়মে করা। এ কারণে কেউ ইচ্ছে করলে এর দরজা খুলতে পারবে না। একমাত্র যে পাসওয়ার্ড জানেন তিনিই খুলতে পারবেন।
প্রসঙ্গত, ১৮ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু করে র‌্যাব। এ সময় পুরান ঢাকার ৩ ক্যাসিনো ব্যবসায়ীর বাসায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। তাদের বাসায় সিন্দুক থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার উদ্ধার হয়।
তথ্যসূত্র: রাইজিংবিডি