সিপিএ সম্মেলনে বাংলাদেশি পণ্য মেলা

আপডেট: নভেম্বর ৬, ২০১৭, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


বাংলাদেশি পণ্য বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের (সিপিএ) সম্মেলনস্থলে বসেছে ‘বাংলাদেশি পণ্যের মেলা’।
বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারের (বিআইসিসি) আঙিনায় এ মেলায় সরকারের একাধিক মন্ত্রণালয় ও বিভাগসহ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা অংশ নেন।
আয়োজক ও অংশ্রহণকারীরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশি পণ্য বিশ্বের কাছে পৌঁছে দিতেই তাদের তিন দিনের এ আয়োজন।
রোববার ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ৬৩তম সিপিএ কনফারেন্স। সকালে সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম সংসদীয় ফোরাম সিপিএ’র ৫২টি দেশের মধ্যে ৪৪টি দেশ, ১৮০টি শাখার মধ্যে ১১৪টি শাখা এবারের সম্মেলনে অংশ নিচ্ছে। এসব দেশের জাতীয় ও প্রাদেশিক সংসদের ৫৬ জন স্পিকার, ২৩ জন ডেপুটি স্পিকার এবং সংসদ সদস্যসহ সাড়ে পাঁচশর মত প্রতিনিধি এ সম্মেলন উপলক্ষে অবস্থান করছেন ঢাকায়।
বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রের পূর্ব পাশে দুটি আলাদা প্যান্ডেলে মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মোট ২২টি স্টলে স্থান পেয়েছে পাট ও চামড়াজাত দ্রব্য, হস্ত ও কুটির শিল্প, তৈরি পোশাক, বাংলাদেশের ঐহিত্যবাহী ঢাকাই জামদানির মত বিভিন্ন পণ্য।
সিপিএ সম্মেলনে আসা বিদেশি প্রতিনিধিদের মুদ্রা বিনিময়ের জন্য রাষ্ট্রয়াত্ব সোনালী ব্যাংকের একটি বুথও রাখা হয়েছে মেলায়।
মেলার আয়োজন প্রসঙ্গে সিপিএ চেয়ারপারসন ও সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সিপিএ সম্মেলনে যেসব ডেলিগেট অংশ নিচ্ছেন তাদের ব্যস্ত সময় কাটাতে হবে। এজন্য হয়ত তারা বাইরে কোথাও কেনাকাটা করতে যাওয়ার সুযোগ পাবেন না। আমরা তাদের জন্য এই মেলার আয়োজন করেছি।
“এখানে বাংলাদেশি বিভিন্ন পণ্য এক ছাতার নিচে আনার চেষ্টা করেছি, যাতে এখান থেকেই বিদেশিরা কেটাকাটা সারতে পারেন।”
বাংলাদেশি পণ্যকে বিশ্বের কাছে পরিচিত করা এ মেলার অন্যতম উদ্দেশ্য জানিয়ে শিরীন শারমিন বলেন, “মেলায় আসা প্রতিনিধিরা নিজেরা পণ্য কেনার পাশাপাশি বাংলাদেশি পণ্যের বিষয়ে তাদের আগ্রহ তৈরি হবে। এতে করে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির পথও উন্মুক্ত হবে।”
বাংলাদেশের অর্থনীতি যে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, তার একটি চিত্রও এ মেলায় উঠে আসবে বলে আশা করছেন স্পিকার।
মেলার প্রবেশ মুখেই রয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিকে তুলে ধরার জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ স্টলটি দেওয়া হয়েছে।
বঙ্গবন্ধুর বেশ কিছু দুর্লভ আলোকচিত্র, তার অসমাপ্ত আত্মজীবনী, কারাগারের রোজনামচাসহ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা বইসহ অন্যান্য উপকরণ রাখা হয়েছে ওই স্টলে। বঙ্গবন্ধু কর্নারে ভিডিও চিত্রে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণসহ তার জীবনীর ওপর প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হচ্ছে। মেলায় অংশ নিয়েছে এসএমই ফাউন্ডেশন। সংস্থাটি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের তৈরি বিভিন্ন পণ্যের প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। এসএমই ফাউন্ডেশনের সহকারী ব্যবস্থাপক আবু মনজুর সাইফ বলেন, “আমরা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের নিয়ে কাজ করি। তাদের স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করি, বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দিই। তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা উদ্যোক্তাদের তৈরি পণ্য মেলায় নিয়ে এসেছে। এসএমই ফাউন্ডেশন বিষয়টি সমন্বয় করছে। প্রত্যোকটি পণ্য যে উদ্যোক্তা তৈরি করেছেন, তার নামেই বিক্রি ও প্রদর্শন করা হচ্ছে।” চামড়াজাত পণ্যের উদ্যোক্তা গুজ লিমিডেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিতা বোস বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বাংলাদেশি পণ্য বিশ্বের কাছে পরিচিত করে তুলতে মেলায় অংশ নিয়েছি। চামড়াজাত পণ্যের সামান্য কিছু বাদে পুরোটাই এই দেশীয়। বাংলাদেশের চামড়াজাত পণ্যের কদর বিশ্বব্যাপী।” মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জয়িতা ফাউন্ডেশন, জয়িতা মহিলা পরিষদ, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এ মেলায় অংশ নিচ্ছে। আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত এ মেলা চলবে।

Don`t copy text!