বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

সিরাজগঞ্জে আবারো হাসপাতালের সিঁড়ির মেঝেতে প্রসূতির সন্তান প্রসব

আপডেট: December 10, 2019, 1:30 am

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি


সিরাজগঞ্জে আবারো হাসপাতালের বারান্দার সিঁড়ির মেঝেতে প্রসুতি মা তার সন্তান প্রসব করেছে। গত রোববার রাত ১০টার দিকে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। তবে এমন ঘটনার পরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা না নেয়াতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে রোগীর স্বজনরা।
জানা গেছে, জেলার শাহজাদপুর উপজেলার বেলতৈল ইউনিয়নের সাতবাড়িয়া গ্রামের শাহীন আলমের সন্তান সম্ভবা স্ত্রী মরিয়ম খাতুনকে (২৫) রোববার সকাল ১০টার দিকে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে সিট নেই এমন কথা বলে তাকে সারাদিন মেঝেতে ফেলে রাখা হয়। প্রসুতির অবস্থা সংকটাপন্ন হলেও কোনো নার্স-চিকিৎসক তার কোনো খোঁজ নেননি। রোগীর স্বজনরা বিষয়টি একাধিকবার জরুরি বিভাগে অবগত করলেও তেমন কোনো কর্ণপাত করেনি।
অবশেষে সন্ধ্যার দিকে রোগীকে বিভিন্ন পরীক্ষা-নীরিক্ষা করার পর সিজার করতে হবে বলে জানান ডা. আফরোজা খাতুন। রোগীর স্বজনরা রক্ত সংগ্রহসহ বিভিন্ন সিজারিয়ান ওষুধপত্র কিনে দেয়ার পর তাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রায় ১ঘণ্টা অতিবাহিত হবার পর রোগীর অবস্থা ভালো না এবং সিজার করা সম্ভব না এমন কথা বলে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ওই প্রসুতিকে ছাড়পত্র দেন গাইনি চিকিৎসক ডা. আফরোজা খাতুন। এর কয়েক মিনিট পরেই নার্সরা রোগীর কাপড়-চোপড়সহ তাকে দ্রুত বগুড়া নিয়ে যেতে বের করে দেন।
এ সময় প্রসূতির দরিদ্র স্বামী শাহীন আলম হাসপাতাল এলাকায় সিএনজি/অ্যাম্বুলেন্স খোঁজ করতে গেলে প্রসুতিকে নিচে নামিয়ে আনার পর সিঁড়ির মেঝেতেই শুয়ে পড়েন প্রসূতি মরিয়ম। এসময় ওখানেই তিনি একটি কন্যা সন্তান প্রসব করেন। এসময় প্রসূতির স্বজনরা চিৎকার করলেও কোনো চিকিৎসককে খুঁজে পাননি বলে জানান ভুক্তভোগিরা।
পরে জ্ঞানহীন প্রসূতিকে মেঝেতে পরে থাকতে দেখে কয়েকজন নার্স এসে প্রসূতিকে পুনরায় গাইনি বিভাগে নিয়ে যায়। বিষয়টি গণমাধ্যম কর্মিরা জানতে পারলে রাতেই হাসপাতালে যায় এবং তখনও কোনো চিকিৎসকে হাসপাতালে পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিয়ে এসময় হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ফরিদুল ইসলাম এবং তত্ত্বাবধায়ক ডা. রমেশচন্দ্র সাহাকেও একাধিকবার ফোন করলেও তারা ফোন রিসিভ করেন নি।
তবে রাত সাড়ে ১১টার দিকে জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহম্মেদকে অবগত করা হলে এসময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি দুঃখজনক। গত কয়েক দিন আগেও এমন একটি ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও আশ্বাস প্রদান করেন।
এদিকে সোমবার দুপুরে ওই হাসপাতালের গাইনি চিকিৎসক ডা. আফরোজা খাতুনের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তা সম্ভব হয়নি।
তবে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ফরিদুল ইসলাম রাতে প্রসূতির ঘটনা বিষয়ে বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। সম্ভবত গাইনি চিকিৎসক মনে করেছেন রোগীর এখানে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব না। সেজন্যই ছাড়পত্র দিয়েছেন বগুড়ায় নিতে। কিন্তু প্রসূতিকে নিয়ে যেতেই সিঁড়ির মেঝেতে আকস্মিকভাবে প্রসব হয়েছে এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি এবং বর্তমানে ওই নবজাতক ও মা সুস্থ আছে। এসময় তিনি হাসপাতালে চিকিৎসক জনবল সংকট আছে বলেও জানান।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ