সিরাজগঞ্জে সিজারিয়ানের পেটে গজ ব্যান্ডেজ রেখে সেলাই

আপডেট: আগস্ট ২১, ২০১৯, ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি


সিরাজগঞ্জ শহরের মুজিব সড়কের কমিউনিটি হাসপাতাল কমপ্লেক্সে নুপুর (২৫) নামে সিজারিয়ান এক রোগির পেটে গজ ব্যান্ডেজ রেখেই সেলাই করার অভিযোগ উঠেছে। অপারেশনের পর থেকে পেটের ভিতর গজ ব্যান্ডেজ নিয়ে নিদারুন যন্ত্রণায় ভুগতে শুরু করেন গৃহবধূ নুপুর। পরে তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে পুনরায় আপারেশন করে গজ ও ব্যান্ডেজ অপসারন করা হয়েছে।
জানা যায়, গত ৮ মে শহরের রায়পুর মহল্লার নুরাল শেখের মেয়ে ও সদর উপজেলার বহুলী ইউনিয়নের চাঁদপাল গ্রামের শহীদুলের স্ত্রী নুপুরের প্রসব বেদনা উঠলে তাকে মুজিব সড়কের কমিউনিটি হাসপাতাল কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর অপারেশন (সিজার) করেন ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. কমল কান্তি দাস। সিজারিয়ানের মাধ্যমে এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেন নুপুর। অপারেশনের সময় পেটের ভিতরে গজ ব্যান্ডেজ রেখেই সেলাই করে দেয়া হয়।
অপারেশনের পর ব্যাথা সইতে না পেরে বিভিন্ন স্থানে ডাক্তারের সরনাপন্ন হন গৃহবধূ নুপুর। তারপরও রোগ নির্নয় হচ্ছিল না। একাধিক বার পরিক্ষা নিরিক্ষা করার পর ধরা পড়ে পেটের ভিতর কিছু একটা আছে। পরে শহরের বেসরকারি আভিসিনা হাসপাতালে চলতি মাসে প্রথম দিকে পুনরায় অপারেশন করানো হয়। অপারেশন শেষে নুপুরের পেট থেকে গজ ব্যান্ডেজ বের করা হয়। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন আভিসিনা হাসপাতালের চেয়ারম্যান বিশেষজ্ঞ সার্জন ডা. আশরাফুল ইসলাম।
গৃহবধূ নুপুর গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে তার বাবার বাসায় সাংবাদিকদের বলেন, আমার স্বাভাবিক জীবন ছিল, ওই কমিউনিটি হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. কোমল আমার স্বাভাবিক জীবন নষ্ট করে দিয়েছে। বর্তমানে আমি চলতে ফিরতে পারছি না, এই ঘটনার জন্য ডা. কোমলের বিচার দাবি করেন তিনি।
নুপুরের পিতা নুরাল শেখ বলেন, কমিউনিটি হাসপাতালে আমার মেয়ের সিজার করেন ডা. কমল কান্তি দাস। মেয়ের সিজারের বিল করেন ১৩ হাজার টাকা। আমি কর্তৃপক্ষের হাত-পা ধরে ৮হাজার টাকা পরিশোধ করি। তারপরও আমার মেয়ে এই হাল করল চিকিৎসক। আমি এর বিচার চাই।
ডা. কোমল কান্তি দাস এসব অভিযোগ স্বীকার করে জানান, কাজ করতে গেলে একটু ভুল হতেই পারে। তবে এ ঘটনা নিয়ে শহরের বড় বড় প্রভাবশালী লোক সমাধানের চেষ্টা করছে বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, কেউ এখনও এধরনের অভিযোগ আমার কাছে করেনি, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, যেহেতু রোগির অবস্থা ভাল না। তিনি রোগিকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো পরামর্শ দেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ