সীমান্তে ভারতীয় গরু-মহিষের পদচারণায় শত শত বিঘা জমির ফসল নষ্ট

আপডেট: ডিসেম্বর ২৭, ২০১৭, ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ

সাপাহার প্রতিনিধি


নওগাঁর সাপাহার উপজেলার কলমুডাঙ্গা সীমান্তে চোরাকারবারীদের ভারতীয় গরু-মহিষের পদচারণায় শতাধিক কৃষকের কয়েকশ বিঘা জমির সরিষা ফসল নষ্ট হয়েছে। এতে লাখ লাখ টাকার ক্ষতির শিকার হয়েছে কৃষকগণ। সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) নিরব ভূমিকা পালন করায় স্থানীয় কৃষকরা হতাশা প্রকাশ করেছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এবারের বন্যায় ওই এলাকার কৃষকের আমন আবাদ ক্ষতি হওয়ায় কৃষকগণ তাদের সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্নে সমস্ত জমিতে সরিষার আবাদ করে। কিন্তু চোরাইপথে ভারত থেকে গরু আনা অব্যাহত থাকায় প্রতি রাতে তাদের সীমাহীন ক্ষতির সম্মুখিন হতে হচ্ছে। প্রতি রাতেই চোরাকারবারীরা ওই সীমান্ত দিয়ে শত শত গরু মহিষ কৃষকের ফসলের মাঠের উপর দিয়ে দেশের অভ্যন্তরে আনছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে কৃষকরা তাদের ফসল ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য করমুডাঙ্গা (বিওপি) বিজিবি ক্যাম্পে গিয়ে মৌখিকভাবে অভিযোগ জানালে বিজিবি সদস্যরা তাদের নিজের ফসল নিজকে রক্ষা করতে বলেন। আবার রাতে তারা চোরাকারবারীদের হাত থেকে ফসল রক্ষার জন্য মাঠে পাহারা দিতে গেলে টহলরত বিজিবি সদস্যরা তাদেরকে চোরাকারবারী বলে ধমক দিয়ে মাঠ থেকে তাড়িয়ে দেয়। এমতবস্থায় মাঠের ফসল রক্ষায় তারা কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করবে ভেবে না পেয়ে হতাশায় ভুগছে।
ভারতীয় গরুর পদচারণায় কৃষকের ক্ষতি দেখতে সরে জমিনে সম্প্রতি সাপাহার প্রেসক্লাবের কয়েকজন সাংবাদিক ওই এলাকায় গেলে করমুডাঙ্গা গ্রামের কৃষক এমদাদুল হক, শাহিন আলম, ফারুক হোসেন, সোলাইমান আলী, সাইদুর রহমান, ইয়াছিন আলী, আ. রশিদ, আফজাল হোসেন, মামুন হোসেন, কছিমুদ্দীন, জালাল উদ্দীন, হাবিবুর রহমান, আ. খালেক ও আলমসহ শত শত কৃষক সাংবাদিকদের সামনে তাদের ক্ষতির বর্ণনা দিয়ে কেঁদে ফেলেন এবং সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর প্রতি নানা অভিযোগ তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার নায়েক সুবেদার নুরুল আমিনের সঙ্গে ফোনে কথা হলে তিনি কৃষকদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিজিবি সংখ্যায় অনেক কম, চোরাকারবারীদের কবল থেকে কৃষকের ফসল রক্ষার জন্য আমরা সবসময় কৃষকের সহযোগিতা চেয়েছি কিন্তু কৃষকরা আমাদের কোন সহযোগিতা না করে উল্টো আমাদেরকে দুষছে। কৃষকের সহযোগিতা পেলে প্রয়োজনে চোরাকারবারীকে গুলি করে হত্যা করবÑ একটি পাখিও ভারত থেকে আসতে দিব না বলেও তিনি জানান। তবে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মুকুল মিঞা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে কৃষকের সাথে একত্মতা প্রকাশ করেন এবং বিজিবির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ