সীমান্ত দিয়ে আসছে ছোট আগ্নেয়াস্ত্র অবৈধভাবে আসা অস্ত্র উদ্ধার অভিযান পরিচালনা হোক

আপডেট: মার্চ ৯, ২০১৮, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ

এক সময় আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসীরা বিদেশি নামি-দামি ব্র্যান্ডের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করত। কিন্তু সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ছোট আগ্নেয়াস্ত্র প্রবেশ করায় বর্তমানে এর ব্যবহার সাধারণ পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে। সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে অস্ত্রের মজুদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। এতে এ ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র সন্ত্রাসীদের কাছে সহজলভ্য হয়ে পড়েছে। ফলে মাঝে-মধ্যেই আগ্নেয়াস্ত্রসহ ধরা পড়ছে পেশাদার সন্ত্রাসীরা। পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার হচ্ছে বড় ধরনের অস্ত্রের চালানও। এসব অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় সাধারণ মানুষ আতংকিত। তবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের মতে, যে কোনো অরাজক পরিস্থিতি এবং ঝুঁকি এড়াতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি। বাইরে থেকে অস্ত্র আসবে, তবে তা যথাযথ নিয়ম মেনেই আনতে হবে। যখনই নিয়ম না মেনে অবৈধভাবে অস্ত্র নিয়ে আসা হয়। তখন দেশ ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায়। তাই অস্ত্র বিক্রির রশিদ হালনাগাদ এবং আমদানি-বিক্রির কাগজপত্র যাচাই করে অস্ত্রের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছে, সীমান্তের চিহ্নিত অস্ত্র চোরাচালানের প্রবেশপথগুলো বন্ধ করতে না পারায় দেশে অবৈধ অস্ত্রের মজুদ বাড়ছে। এছাড়া যেসব বিদেশি অত্যাধুনিক অস্ত্র উদ্ধার হচ্ছে, সেগুলোর প্রতিটিরই বিশেষ সিরিয়াল নম্বর আছে। সেসব নম্বরের সূত্র ধরেও অস্ত্রের কোম্পানি, কোম্পানি থেকে কেনা ডিলারের নাম-ঠিকানা, এমনকি খুচরা ক্রেতারও সব তথ্য জানা সম্ভব। নামিদামি ব্র্যান্ডের অস্ত্র কোম্পানি থেকে বৈধ ডিলাররাই কিনতে পারেন। সেসব ডিলারের কাছ থেকে যারা অস্ত্র কেনেন, তাদেরও নাম-পরিচয়সহ বৈধ কাগজপত্র থাকে। এর ব্যতিক্রম যেখানে হয়, মূলত সেখান থেকেই অস্ত্র অবৈধভাবে চোরাকারবারিদের হাতে চলে যায়। এসব বিষয়ে ব্যাপক তদন্ত হলে অস্ত্র চোরাকারবারিদের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেট শনাক্ত করা সম্ভব। আবার অবৈধ অস্ত্রের পেছনে আন্তর্জাতিক মাফিয়া ও চোরাচালানিদের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক কাজ করছে। সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র পাচার বন্ধে বিজিবির মুখ্য ভূমিকা পালন করার কথা। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাদের জোরদার তৎপরতা হ্রাস পায়। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ ও বিজিবির কিছু অসৎ সদস্য চোরাকারবারিদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নেয়। ফলে অবৈধ অস্ত্র নিয়ে বাহকরা অবাধে সীমান্ত পার হয়ে দেশে প্রবেশ করার সুযোগ পাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের উদাসিনতাকেও দায় করা হচ্ছে। গতকাল সোনার দেশে ছোট আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে প্রধান প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাশকতামূলক বিভিন্ন কর্মকা-ে ব্যবহারের জন্যই এই আগ্নেয়াস্ত্রগুলো সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে রাজশাহীতে প্রবেশ করছে বলে মনে করছেন আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা। নাশকতার পরিকল্পনা কালে এসব আগ্নেয়াস্ত্রসহ এদের অনেককেই গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা। এই গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে জেএমবির সক্রিয় সদস্যসহ অস্ত্র ব্যবসায়ীরাও রয়েছেন। তাই অবৈধভাবে আসা আগ্নেয়াস্ত্রের বিভিন্ন রুট বন্ধ করতে হবে। সেই সাথে দেশের ভিতরে মজুদ করা অবৈধভাবে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করতে হবে। আর অস্ত্র ব্যবসায়ীদের নেটওয়ার্ক ভেঙে ফেলতে হবে। বড় বড় ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। এজন্য আইনশৃঙ্খলাবাহিনীসহ সকলকে আরও তৎপর হতে হবে। প্রয়োজনে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ