সুচিত্রা সেনের বাড়ি যাচ্ছেন নিরব!

আপডেট: আগস্ট ১৮, ২০১৯, ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


সুচিত্রা সেনের বাড়ি যাচ্ছেন নায়ক নিরব। এ নিয়ে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। সব ঠিক থাকলে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে বাংলার এই মহানায়িকার স্মৃতিবিজড়িত পাবনার বাড়িতে হাজির হবেন তিনি।
এবারই প্রথম নয়, আগেও কয়েকবার নিরবের যাওয়া হয়েছে এই মহানায়িকার বাড়িতে। আগে গিয়েছেন অতিথি হয়ে, এবার যাচ্ছেন সিনেমার গল্পের প্রয়োজনে। নিরবকে নিয়ে আবারও ছবি নির্মাণ করতে যাচ্ছেন রফিক সিকদার। নাম রেখেছেন ‘বসন্ত বিকেল’। নিরব-সিকদার জুটির এটি তৃতীয় প্রজেক্ট। যেটির শুরুটা হচ্ছে সুচিত্রা সেনের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি ও শহর থেকে।
নিরবের ভাষায়, ‘আগেও বেশ কয়েকবার মহানায়িকার বাড়িতে যাওয়া হয়েছে আমার। তবে সেটি ছিল চলচ্চিত্র উৎসবের অতিথি হয়ে। আর এবার যাচ্ছি সরাসরি নিজের প্রয়োজনে। কারণ এই ছবির চিত্রনাট্যে থাকছে সুচিত্রা সেনের পাবনায় বেড়ে ওঠা রুদ্র ও চন্দ্রাবতীর বিয়োগান্তক প্রেমের গল্প। আমার ধারনা, এবারের সফরে আমার মহানায়িকা দর্শন খানিক অন্যভাবে হবে। কারণ, এবার আমি আর অতিথি নই, অভিনেতা হয়েই যাচ্ছি তাঁর (সুচিত্রা সেন) কাছে।’
১৬ আগস্ট ‘বসন্ত বিকেল’ সিনেমার জন্য চুক্তিবদ্ধ হন নিরব।
পরিচালক রফিক সিকদার বলেন, ‘মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের বাড়ি থেকেই শুটিং শুরুর পরিকল্পনা করছি আমরা। ছবির গল্পে সরাসরি তিনি নেই, তবে তার রেশ থাকছে। কারণ, এর প্রধান দুই চরিত্র রুদ্র ও চন্দ্রাবতীর বেড়ে ওঠা একই এলাকায়। বলতে ভালো লাগে, আমি নিজেও পাবনার ছেলে। সব মিলিয়ে এটি আমার স্বপ্নের প্রজেক্ট।’
সামসুজ্জামান রিমন প্রযোজিত ‘বসন্ত বিকেল’ সিনেমাটি আরবিএস টেক লিমিটেডের ব্যানারে নির্মিত হচ্ছে। পরিচালনার পাশাপাশি এর গল্প, চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন রফিক সিকদার নিজেই।
এদিকে ‘বসন্ত বিকেল’-এর রুদ্র চরিত্রে নিরব হোসেনর অভিনয় করলেও চন্দ্রাবতী চরিত্রে থাকছেন কে, সেটি এখনও নিশ্চিত করেননি নায়ক-পরিচালক কেউ-ই। এটুকু বলছেন, নায়িকার বিষয়ে থাকছে ভালোই চমক। যা প্রকাশ করবেন চলতি মাসের শেষের দিকে।
রফিক সিকদার ২০১৫ সালে নিরবকে নিয়ে নির্মাণ করেন তার প্রথম ছবি ‘ভোলা তো যায় না তারে’। ছবিটি প্রশংসা পায়। মুক্তির অপেক্ষায় আছে সিকদার-নিরব জুটির দ্বিতীয় ছবি ‘হৃদয় জুড়ে’। যেটি নির্মাণের সময় কলকাতার নায়িকা প্রিয়াঙ্কা সরকারকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনায় পড়েন রফিক সিকদার।
সুচিত্রা সেন: ১৯৩১ সালের ৬ এপ্রিল তৎকালীন বৃহত্তর পাবনা জেলার (বর্তমান সিরাজগঞ্জ জেলা) বেলকুচির সেনভাঙার জমিদার বাড়িতে জন্ম নেন রমা দাশগুপ্ত। পরবর্তী সময়ে সুচিত্রা সেন নামে পরিচিত হন তিনি। বন্ধুরা তাকে চিনতো কৃষ্ণা দাশগুপ্ত নামেও। পরে পাবনা শহরের দিলালপুরের বাড়িতে কেটেছে তার শৈশব ও কৈশোর। সুচিত্রা সেন মহাকালী পাঠশালার ছাত্রী ছিলেন। পরে পশ্চিমবঙ্গে চলে যান পরিবারের সঙ্গে।
১৯৫৫ সালে হিন্দি ভাষায় নির্মিত ‘দেবদাস’ ছবিতে অভিনয় করেন সুচিত্রা সেন। ১৯৭৪ সালে ‘আঁধি’ নামে আরেকটি হিন্দি ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। এতে একজন রাজনীতিকের ভূমিকায় দেখা গেছে তাকে। তিনি মোট ৭টি হিন্দি ছবিতে অভিনয় করেন। এছাড়া একটি তামিল ছবিতেও দেখা যায় তাকে। ১৯৭৮ সালে সুদীর্ঘ ২৫ বছর অভিনয়ের পর চলচ্চিত্র থেকে স্বেচ্ছা অন্তরালে চলে যান তিনি। ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান বাংলার এই মহানায়িকা।-বাংলা ট্রিবিউন