সুদের হার কমাতেই হবে: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট: এপ্রিল ১৪, ২০১৮, ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


দেশে বিনিয়োগের খরা কাটাতে ব্যাংকঋণের সুদহার এক অংকে নামিয়ে আনতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
গত মাসে দলীয় এক অনুষ্ঠানে কথা বলার মাসখানেকের মাথায় শুক্রবার গণভবনে ব্যাংক মালিকদের সামনে বিষয়টি আবারও তুলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, “ব্যাংকের সুদের হারটা আপনাদের একটু কমাতে হবে। তা না হলে বিনিয়োগ হওয়া সম্ভব না। কাজেই এটা সিঙ্গেল ডিজেটে আনতেই হবে।”
সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বার বার বলার পরও ব্যাংকগুলোতে ঋণের সুদের হার কমছে না। বরং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ঋণের নতুন সুদ হার কার্যকর করে দুই থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত সুদহার বাড়িয়ে দিয়েছে বলে খবর বের হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সুদের হার কমানোর কোনো নির্দেশনা এখনো বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে আসেনি বলে ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।
তবে এর মধ্যে ব্যাংকারদের সঙ্গে অর্থমন্ত্রী ও গভর্নরসহ অন্যান্য নীতিনির্ধারকদের বৈঠকে সুদের হার কমানোর বিষয়ে সবাই একমত পোষণ করলেও ব্যাংকগুলো এখন তা মানছে না।
সুদের হার একক অংকে নামিয়ে আনলে ব্যাংকই লাভবান হবে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,“সিঙ্গেল ডিজিটে আনলে আপনাদের লাভই বেশি হবে। মানুষই বেশি আগ্রহী হবে। মানুষ ব্যাংকের সাথে বেশি কাজ করবে।”
বেসরকারি ব্যাংকগুলোর সমস্যা সমাধানের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা উপস্থিত মালিকদের বলেন, “আপনারা যা যা সমস্যার কথা বলেছিলেন, আমরা একে একে সমস্যার সমাধান করে দিয়েছি। এখন যেটা কথা দিয়েছেন; সেটা করতে হবে।”
পহেলা এপ্রিল রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে গভর্নর ফজলে কবিরকে নিয়ে বিএবির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক বসে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সিআরআর ও রেপো হার কমানোর ঘোষণা দেন।
ব্যাংকগুলোর আমানতের বিপরীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নগদ জমার বাধ্যবাধকতা ১ শতাংশ পয়েন্ট কমিয়ে সাড়ে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা ১৫ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর কেন্দ্রিয় ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ইব্রাহিম খালিদ একটি জাতীয় দৈনিককে বলেছিলেন যে,পহেলা এপ্রিল অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বিএবির বৈঠকে ফজলে কবিরের উপস্থিত থাকা উচিত হয় নাই।
এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও বিএবির সভাপতি নজরুল ইসলাম মজুমদার শুক্রবার গণভবনে এই অনুষ্ঠানে এর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “গভর্নর কেন উপস্থিত থাকবেন না? উনি তো আমাদের নেতা।
“একজন তো আমাদের বিরুদ্ধে বলেই যাচ্ছেন।”
এই প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, “পত্রপত্রিকা কী লিখলো.. ওখান থেকে আপনারা ধারণা নিতে পারেন। ওটা নিয়ে তো ব্যাবের চেয়ারম্যানে সাহেব তো অনেকক্ষণ কথা বললেন।”
ইব্রাহিম খালিদের নাম উল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এখানে কিছু কিছু লোক আছে তারা লিখবেনই। সেটা তাদের কাজ। আপনারা সেটা পড়বেন। ওটা নিয়ে মন খারাপ না করে নিজেদের কাজ নিজেরা যথাযথভাবে করে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নতিটা যাতে হয়; সেটা অব্যাহত রাখবেন।”
সরকার প্রধানের ত্রাণ তহবিলে টাকা দেয়ায় বিএবির সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই সহযোগিতাটা আপনারা সময় সময় করেন। এতে করে বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে দুঃস্থ মানুষদের সহায়তা করে থাকি। দুর্যোগ যখন হয়: তখনও সাহায্য করি। আর প্রতিনিয়ত তো চিকিৎসার জন্য টাকা দিতেই হচ্ছে।”

বিএবির সকল সদস্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে অর্থ দিলেও শুধু ব্যতিক্রম ছিল ফারমার্স ব্যাংক।
অনুষ্ঠানে শুরুতেই নজরুল ইসলাম মজুমদার অনিয়মে ধুঁকতে থাকা ফারমার্স ব্যাংক প্রসঙ্গে বলেন, “ফারমার্স ব্যাংক আগের জায়গায় চলে গেছে।”
ফার্মার্স ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নাজিম শরাফতকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়ে নজরুল ইসলাম মজুমদার জানান, তিনি ইতিমধ্যে ২৬৭ কোটি টাকা আদায় করেছেন।
বিকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলনায় নিহতদের পরিবার ও আহতদের আর্থিক সহায়তা দেন প্রধানমন্ত্রী।
একই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ১৬৩ কোটি হস্তান্তর করা হয়।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ