সেই পাখির জন্য জমিই কিনে দিতে চায় মন্ত্রণালয়

আপডেট: নভেম্বর ১৭, ২০১৯, ১:০০ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


বাঘার খোর্দ্দ বাউসা গ্রামের একটি আমবাগান গাছে শামুকখোল পাখি -ফাইল ফটো

এবার পাখিদের জন্য বাসাভাড়া নয় বরং স্থায়ী ঠিকানা করে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। রাজশাহী জেলা প্রশাসন বাঘা উপজেলার খোর্দ্দ বাউসা গ্রামের একটি আমবাগানকে পাখিদের অভয়ারণ্যের জন্য পাখিদের বাসা ভাড়া হিসেবে বছরে ৩ লাখ ১৩ হাজার টাকা বরাদ্দ চেয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠায়। এ মাসের ৫ তারিখে পাঠানো ওই প্রস্তাবনার আলোকে কৃষি মন্ত্রণালয় পাখিদের জন্য বাসা ভাড়া নয়- স্থায়ী আবাস তৈরি করতে ওই আমবাগানসহ সংশ্লিষ্ট জমিই অধিগ্রহণ করতে চায়। ১৩ নভেম্বর কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে রাজশাহী জেলা প্রশাসককে মৌখিকভাবে পাখিদের জন্য ওই জমি অধিগ্রহণের পাল্টা প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। রাজশাহী জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে মৌখিকভাবে জানতে চেয়েছে যে, পাখির অভয়ারণ্য করার জন্য সম্পূর্ণভাবে জমি অধিগ্রহণ করতে গেলে কী পরিমাণ টাকা লাগতে পারে। কতখানি জমি অধিগ্রহণ করতে হতে পারে? স্থায়ী অভয়ারণ্য করা গেলে পাখিরা আর অন্য কোথাও যাওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না। এসব বিষয় নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে মন্ত্রণালয়কে জানাতে বলা হয়েছে। সে অনুযায়ী জেলা প্রশাসন কাজ করছে।
তিনি বলেন, পাখির অভয়ারণ্য তৈরি করতে হলে মোটামুটি ১০ থেকে ১২ বিঘা জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। আমরা মনে করি পাখিদের স্থায়ী আবাস তৈরি করা হলে তাদের কেউ বিরক্তও করবে না। তখন পাখিদের একটি স্থায়ী ও নিরাপদ আশ্রয়স্থল হবে।
গত কয়েকবছর ধরে বাঘা উপজেলার খোর্দ্দ বাউসা গ্রামের পাঁচজন আমচাষির আমবাগানে শামুকখোল পাখি বাসা বেঁধেছে। ৩৮ টির মত গাছে ওই পাখিরা বাসা বেঁধে প্রজনন করছে। এর ফলে ওই বাগানের পরিচর্যা করা বাগান মালিকের জন্য সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। সামনের আম মৌসুমে আম উৎপাদন নির্বিঘ্ন করতে পাখিদের বাসা ভেঙে ফেলার উদ্যোগ নেয় বাগান মালিকরা। তবে পাখিপ্রেমিদের বাধার মুখে বাসা ভেঙে ফেলতে পারেনি বাগান মালিকরা। তবে বাগান মালিকরা পাখিপ্রেমিদের আমগাছ থেকে বাসা খালি করে দেয়ার জন্য ১৫ দিনের নোটিশ দিয়েছিলেন। এরপর ঘটনা উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ায়।
আমগাছ থেকে বাসা খালি করে দেয়ার বিষয়টি উচ্চ আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রজ্ঞা পারমিতা রায়। এরপর বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করে আদেশ দেন।
খোর্দ্দ বাউসা গ্রামকে কেন অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চান হাইকোর্ট। পাশাপাশি অভয়ারণ্য ঘোষণা করলে ওই আমবাগান ইজারাদারদের কী পরিমাণ ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা আছে তা ৪০ দিনের মধ্যে জানাতে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক ও বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়। এর পরপরই জরিপ চালিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করে রাজশাহী জেলা প্রশাসন।
এর আগে ২০০৪ সাল থেকে রাজশাহীর পুঠিয়ার পচা মাড়িয়ায় শামুকখোল পাখি বাসা বাঁধছে। তবে বেশিরভাগ পাখি সেখানে শীতকালে এসে বাসা বাঁধে। প্রজননের সময় থাকে না।
শিলমাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন মুকুল বলেন, আমাদের গ্রামে ২০০৪ সাল থেকে শামুকখোল পাখি শীতকালে এসে বাসা বাঁধে। এবারও পাখি এসেছে। তবে প্রজননের সময় থাকে না। আমরা সেই সময় পাখিগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে দেখাশুনা করি।
রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও পাখি বিশেষজ্ঞ আমিনুজ্জামান মো. সালেহ্ রেজা বলেন, শামুকখোল পাখি সাধারণত একটি নির্দিষ্ট সময় পর চলে যায়। কারণ একটি স্থানে শামুকখোল পাখি ১০ বছরও থাকতে পারে আবার দুই বছরও থাকতে পারে। আর বাঘার খোর্দ্দ বাউসা গ্রামে পাখি শুধুমাত্র প্রজননের জন্যই আসে। জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত থাকে। তারপর পাখিগুলো চলে যায়। এইজন্য জমি অধিগ্রহণ করাটা কতটা কার্যকরি হবে তা বলা মুশকিল। আর যেহেতু আমবাগানে পাখিগুলো বাসা বাঁধে সেখানে বাগান মালিকদের ক্ষতিপূরণ দেয়াটাই হয়তোবা কার্যকরি হবে। আর যেহেতু কয়েকদিন পর পাখি চলেই যাবে। আর বাচ্চাগুলোও উড়তে শিখেছে সেহেতু পাখির বাসা ভেঙে দিলেও খুব একটা ক্ষতি হবে না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ