সেমিনারে বক্তারা উন্নয়নের সাথে ঐতিহ্যের ধারাকে সমুন্নত রাখতে হবে

আপডেট: জানুয়ারি ৬, ২০১৮, ১:০২ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


সেমিনারে বক্তব্য দেন রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য আনন্দ কুমার সাহা সোনার দেশ

‘চেঞ্জ, কনটিনিউটি অ্যান্ড দ্য মার্জিনাল ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, জাতীয় উন্নয়নের সাথে ঐতিহ্যের ধারাকে সমুন্নত রাখতে হবে। কিন্তু বাস্তবতা এই যে, ঐতিহ্য ধরে রাখতে গিয়ে আর মূল ধারায় থাকা সম্ভব হচ্ছে না। প্রান্তিক জনগোষ্ঠির জীবনমান উন্নয়নে এটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। বহুত্ববাদী ধারণাকে কীভাবে উন্নয়ন ভাবনার সাথে এগিয়ে নেয়া যায় সেটাই বিবেচ্য হওয়া দরকার।
গতকাল শুক্রবার সকালে বায়ার আশ্রয় রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনি সেন্টারে অনুষ্ঠিত সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয় নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আহসান আলী। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন, রাজশাহী ্িবশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য প্রফেসর আনন্দকুমার সাহা, বিশেষ অতিথি ছিলেন, সাবেক উপাচার্য প্রফেসর মিজান উদ্দিন। সেমিনার বক্তা ছিলেন, অ্যাপলয়েড অ্যানথ্রোপলজি ইন্সটিটিউিটের প্রতিষ্ঠাতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরী। আলোচনায় অংশ নেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর মেসবাহ কামাল, প্রফেসর জাহেদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ব বিভাগের প্রফেসর ইমান আলী, সমাজকর্ম বিভাগের প্রফেসর ড. মনিরুল ইসলাম খান, হাক্কানি মিশনের উপদেষ্টা শেখ আব্দুল হালিম, সিলেট বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর একেএম মাজহারুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর প্রফেসর সাজ্জাদুল হক, দৈনিক সোনার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আকবারুল হাসান মিল্লাত, বাসস এর সিনিয়র রিপোর্টার ড. আইনাল হক প্রেতলী কলেজের শিক্ষক যোগেন্দ্রনাথ সরেন।
প্রধান অতিথি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যে সংবিধান তার একটি মূল স্তম্ভ ছিল ধর্মনিরপেক্ষতা। ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের সে চরিত্র একেবারে পাল্টে দেয়া হয়। এরপর মুক্তিযুদ্ধের চেতনার শক্তি বিচ্যুত হয়ে পড়ে। এর মধ্য দিয়েই মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তি বাংলাদেশে মাথা চাড়া দিয়ে উঠে।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকেই আমাদেরকে নতুন করে সংগঠিত হতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের স্পিরিট কাজে লাগাতে হবে।
তিনি বলেন, দেশে দৃশ্যমান অনেক উন্নয়ন হয়েছে। স্বাস্থ্য, কৃষি, বিদ্যুৎ সব সেক্টরেই বাংলাদেশ এগিয়ে গেছে। মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে। আগে কখনো চিন্তা করা যায়নি লক্ষ কোটি টাকার বাজেট হবে। উন্নয়ন হয়েছে কিন্তু আমাদের মানসিক উন্নতি হয়নি। এই জায়গাটাই বড় ফাঁক থেকে গেছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মিজান উদ্দিন বলেন, উন্নয়নের সাথে সাথে লুণ্ঠন প্রক্রিয়াও থাকে। আমরা সেই টার্নিং পয়েন্ট পার করছি। সম্পদের বণ্টন অসম হলে মানুষে মানুষে বৈষম্য বাড়ে। সামাজিক অব্কাঠামোগত সমস্যার সৃষ্টি হয়। এ ধরনের সমস্যা ঘনিভুত হচ্ছে।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ছিল জনযুদ্ধ। এখানে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ছিল। এবং সেই নেতৃত্ব বঙ্গবন্ধুর। সমতা ভিত্তিক অর্থনীতির ভিত্তি গড়ার কাজটি তাঁর আমলে শুরু হয়েছিল। কিন্তু আমরা সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারিনি। জনযুদ্ধ জনগণের কাছে থাকেনি। এই অস্থির সময়ে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকেই আঁকড়ে থাকতে হবে। মুক্তিযুব্ধের নেতৃত্ব নিয়ে ধারণা পরিষ্কার হতে হবে। বুদ্ধিজীবীরা সঠিকভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে দাঁড়াতে পারলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়।
ইন্সটিটিউট অব সোসাল রিসার্চ আন্ড অ্যাপলয়েড অ্যানথ্রোপলজি (ইসরা) এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানথ্রোপলজি বিভাগ যৌথভাবে সেমিনারটি আয়োজন করে।