সোনার বলের লড়াইটা এখন তাদের দুজনের!

আপডেট: জুলাই ১৩, ২০১৮, ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


রোববার মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ জয়ের লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়া। কিলিয়ান এমবাপে ও লুকা মড্রিচ, দুজনেরই সেদিন প্রধান লক্ষ্য থাকবে নিজ নিজ দলকে পরম আরাধ্য বিশ্বকাপ ট্রফি জেতানো। তবে দলীয় এই লড়াইয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত একটা লড়াইয়েও মুখোমুখি হবেন তারা। ব্যক্তিগত সেই লড়াইটা টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার সোনার বলের।
২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে শিরোপা জিততে যাচ্ছে কে, এই প্রশ্নের সম্ভাব্য উত্তরটা ক্রমেই ছোট থেকে ছোটতর হয়ে এখন দুইয়ে এসে ঠেকেছে। ফ্রান্স কিংবা ক্রোয়েশিয়া, দুই দলের যেকোনো এক দলের হাতেই উঠতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের সোনার ট্রফিটা। শিরোপার মতো সোনার বলের প্রতিদ্বন্দ্বিতাও ছোট হয়ে এসেছে।
প্রাক-টুর্নামেন্ট ফেভারিট সব তারকা খেলোয়াড়েরাই দলের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে সোনার বল প্রাপ্তির দৌড় থেকেও ছিটকে গেছেন। ফুটবলবোদ্ধাদের মতে, সোনার বলের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতাটা এখন লুকা মড্রিচ ও কিলিয়ান এমবাপের মধ্যে। তাদের ধারণা, এই দুজনের যেকোনো একজনের হাতেই উঠতে যাচ্ছে সোনার বল।
বিশ্বকাপের আরেক ব্যক্তিগত পুরস্কার সোনার জুতোর বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত হয়েই গেছে। একটু ঝুঁকি নিয়ে বলেই দেওয়া যায়, ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেনের হাতেই উঠতে যাচ্ছে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার সোনার জুতো। রাশিয়া বিশ্বকাপে এখনো পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৬ গোল করেছেন তিনি।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪টি করে গোল আছে তিনজনের। তার মধ্যে পর্তুগালের ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ও স্বাগতিক রাশিয়ার ডেনিস চেরিশেভ টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়েছেন। তারা তাই সোনার জুতো প্রাপ্তির দৌড় থেকে বাদ। মানে হ্যারি কেনের নিকট প্রতিদ্বন্দ্বী আছেন এখন একজন, বেলজিয়ামের রোমেলু লুকাকু। ফ্রান্সের আতোইন গ্রিজমান ও কিলিয়ান এমবাপেও আছেন। তবে তারা দুজনেই গোল করেছেন মাত্র ৩টি করে। কাজেই তাদের পক্ষে হ্যারি কেনকে ছাড়িয়ে যাওয়া বা ধরে ফেলা প্রায় অসম্ভব।
গ্রিজমান-এমবাপে যেমন আরও একটি করে ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবেন, তেমনি একটি ম্যাচ আছে হ্যারি কেনেরও। সেই ম্যাচে হ্যারি কেন আবার মুখোমুখি হবেন সোনার জুতোর প্রশ্নে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী লুকাকুর। আগামী শনিবার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে হ্যারি কেনের ইংল্যান্ড ও লুকাকুর বেলজিয়াম। হ্যারি কেনকে ধরতে হলে ওই ম্যাচে লুকাকুকে করতে হবে জোড়া গোল। হ্যারি কেনেরও সুযোগ থাকবে গোল সংখ্রাটা বাড়িয়ে নেওয়ার। কাজেই সোনার জুতোর মালিকানা তিনি প্রায় হয়েই গেছেন।
কিন্তু সোনার বলের বিষয়টি এখনো এতোটা স্পষ্ট নয়। তবে পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ফুটবলবোদ্ধারা মড্রিচ আর এমবাপেকেই বড় দাবিদার মানছেন। এই দুজনের মধ্যে আবার এগিয়ে রাখছেন ক্রোয়েশিয়ার অধিনায়ক লুকা মড্রিচকে। রিয়াল মাদ্রিদের মিডফিল্ডার এ পর্যন্ত ক্রোয়েশিয়ার ৬ ম্যাচের ৩টিতেই ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছেন।
বাকি তিনটি ম্যাচেও খেলেছেন দুর্দান্ত। সবচেয়ে বড় কথা, নিজ দক্ষতায় পুরো ক্রোয়েশিয়া দলটিকেই উজ্জীবিত করেছেন তিনি। ফেভারিট পতনের টুর্নামেন্টে ক্রোয়েশিয়া যে প্রথম বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে, তার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান মড্রিচের। অন্যদিকে ফ্রান্সকে ফাইনালে তোলার পেছনে এমবাপের ভূমিকাও অনেক। বিশেষ করে তারুণ্যের ঝলকানিতে পুরো ফুটবল দুনিয়াকেই বশ মানিয়েছেন তিনি। তবে মড্রিচের চেয়ে তিনি একটা জায়গায় পিছিয়ে। মড্রিচ ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনবার। এমবাপে দুবার। তবে ফরাসি তরুণের সামনে এখনো সুযোগ আছে ম্যাচসেরার পুরস্কার সংখ্যায় মড্রিচকে ধরে ফেলার। রোববার লুঝনিকির স্বপ্নের ফাইনালে জ্বলে উঠতে পারলেই বাজিমাত করতে পারবেন তিনি। সেদিন আলো ছড়াতে পারলে ফরাসি তরুণ আসলে বাজিমাত করতে পারবেন সবকিছুই। বিশ্বকাপ জয়, সোনার বল, এমনকি এগিয়ে থাকতে পারবেন বর্ষসেরা পুরস্কার ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়েও। একই রকমভাবে সুযোগ পাবেন মড্রিচও। টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার সোনার বল ঘোষণা করে ফিফার টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপ। তারা মড্রিচ বা এমবাপের মধ্য থেকে একজনের হাতেই এটা তুলে দেন নাকি, তাদের হতাশ করে অন্য কারো হাতে উঠে, সেটা হয়তো জানা যাবে, রোববারের ফাইনালের পরই। তবে চ্যাম্পিয়ন দলের একজনের হাতেই যে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে আকর্ষণীয় এই ব্যক্তিগত পুরস্কারটি উঠবে, বিষয়টা এমন নয়। অতীত বরং বলছে উল্টোটাই। সেই ১৯৮২ বিশ্বকাপ থেকে এই পুরস্কার দিয়ে আসছে ফিফা। সেই থেকে গত ৯ আসরে ৯ জনের হাতে উঠেছে এই পুরস্কার। এর মধ্যে ৪ বারই এই পুরস্কার গেছে রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়ের হাতে। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের রোনাল্ডো, ২০০২ বিশ্বকাপে জার্মানির গোলরক্ষক অলিভার কান, ২০০৬ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের জিনেদিন জিদান ও ২০১৪ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি পেয়েছেন এই পুরস্কার। এই বিজয়ীদের প্রত্যেকের দলই স্ব স্ব আসরের রানার্সআপ হয়। এর বিপরীতে চ্যাম্পিন দলের খেলোয়াড়েরা এই পুরস্কার পেয়েছেন তিনবার। ১৯৮২ বিশ্বকাপে ইতালির পাওলো রসি, ১৯৮৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ডিয়েগো ম্যারাডোনা ও ১৯৯৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের রোমারিও। বাকি দুবার জিতেছেন সেমিফাইনালে হেরে যাওয়া দুই দলের দুই খেলোয়াড়, ১৯৯০ ও ২০১০ বিশ্বকাপে। ১৯৯০ সালে নিজেদের মাটির বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে হেরে শেষ পর্যন্ত তৃতীয় স্থান লাভ করা ইতালির সালভেদর শিলাচি পান সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার সোনার বল। ৬ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার সোনার জুতোও উঠে ইতালির ফরোয়ার্ড শিলাচির হাতেই। ২০১০ বিশ্বকাপে সোনার বল জিতে নেন সেমিফাইনালে হেরে শেষ পর্যন্ত চতুর্থ হওয়া উরুগুয়ের দিয়েগো ফোরলান। উপরের এই তালিকা বলছে, ১৯৯৪ বিশ্বকাপের পর থেকে কখনোই চ্যাম্পিয়ন দলের খেলোয়াড়দের হাতে সোনার বল উঠেনি। এবার কি ধারা পাল্টাবে?