সৌম্যর বিষাদে মিশে দলের হতাশা

আপডেট: জানুয়ারি ২১, ২০১৭, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



সৌম্য সরকারের ব্যাটে জোর যত বেশি, কণ্ঠ ততটাই নরম। কথা বলেন একদম নীচু স্বরে, ধীরে ধীরে। কাছ থেকেও কান পেতে শুনতে হয়। এদিন কণ্ঠ যেন আরও মলিন। কেমন মনমরা কণ্ঠে বলে যাচ্ছিলেন, “ফরম্যাট যেটাই হোক, আমার দরকার ছিল রান। চেষ্টা করেছিলাম যেখানেই খেলি রান করতে। নিজেকে নিজের জায়গায় ফিরিয়ে নিতে…।”
কথার মাঝেই প্রশ্ন, “এখন কি তাহলে খুশি?” সৌম্যর মলিন কণ্ঠে হঠাৎই দৃঢ়তা, “অবশ্যই না!” কতদিন পর আবার ব্যাট উঁচিয়ে ধরলেন। মুষ্ঠিবদ্ধ হাতে বুকে গর্বের চাপড় – প্রায় ভুলে যেতে বসা সেই উদযাপন দেখা গেল কত কত ম্যাচ পর! তার পরও খুশি নন সৌম্য। ৮৬ রান করার তৃপ্তি নয়, তার কাছে বড় আরও বড় কিছু করতে না পারার অতৃপ্তি। দলকে ভালো জায়গায় নিতে না পারার আক্ষেপ। সৌম্যর রান খরা নিয়ে আলোচনা-গবেষণা অতীত অনেক আগেই। গত কিছুদিন ধরে চলছিল স্রেফ আশার বিপরীতে আশা। যদি কোনোভাবে ভালো খেলে ফেলেন!
টি-টোয়েন্টি সিরিজটায় ছিল খানিকটা ইঙ্গিত। শেষ দুই ম্যাচে করেছিলেন ৩৯ ও ৪২। দুবারই আক্ষেপ ছিল বড় কিছু করতে না পারায়। রান পেয়েছেন কিছু, তবে অর্ধশতকও তো হয়নি!
টেস্ট সিরিজে তার দর্শকই হয়ে থাকার কথা ছিল। হঠাৎই সুযোগটা এলো ইমরুল কায়েসের চোটে। টেস্টে প্রথমবার সুযোগ পেলেন প্রিয় পজিশন ওপেনিংয়ে। সব মিলিয়ে ফেরার মঞ্চ ছিল প্রস্তুতি। যাবতীয় রান খরা আর প্রত্যাশাভঙ্গের অনেকগুলো পর্ব পার হয়েছে। অনেক অনেক বৈরিতার মাঝে টেস্টে তাই প্রত্যাশা বেশি ছিল না। হয়ত সেটিই কিছুটা ফিরিয়ে আনল পুরোনো সৌম্যকে। ওয়ানডের ঢংয়েই খেললেন চার টেস্ট ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ইনিংস।
মুখে যদিও হাসি নেই। গত এক বছরে ঘরোয়া-আন্তর্জাতিক সব ধরনের ক্রিকেটে, সব সংস্করণ মিলিয়ে মাত্র দ্বিতীয়বার ছুঁলেন পঞ্চাশ। স্বস্তি অন্তত পাওয়ার কথা। কিন্তু সৌম্যর মনে দলের ব্যর্থতার ছাপ। “আমি ইনিংসটি বড় করতে পারলে তো দলেরই লাভ হতো বেশি। হয়ত আমি আউট না হলে সাকিব ভাই, সাব্বিরও আউট হতো না। আমি থাকলে দলের রান আরও বেশি হতো…।”
সৌম্য আর সাকিবের ১২৭ জুটিতে একসময় দারুণ জায়গায় ছিল দল। ৮৬ রান করে সৌম্যর বিদায় দিয়েই পালাবদলের শুরু। ৩ ওভারের মধ্যে সৌম্য, সাকিব ও সাব্বিরকে হারিয়ে ভেঙে পড়ে দল। শেষ পর্যন্ত কাটিয়ে দেওয়া হয়নি প্রথম দিনটিও। দলের সর্বোচ্চ রান করেও তাই নিজেই নিজেকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন সৌম্য। প্রথমবার ওপেন করতে নেমে রান পাওয়ার আনন্দটাই হারিয়ে গেছে আরও বড় কিছু করতে না পারার হতাশায়। “ওপেনিংয়ে খেলতেই আমি স্বচ্ছন্দ বোধ করি। ইমরুল ভাই ও তামিম ভাই তো বাংলাদেশের হয়ে অনেক ভালো করছিলেন, কাজেই সুযোগ ছিল না। তবে ভেবেছিলাম যখনই সুযোগ পাব, নিজেকে প্রমাণ করার চেষ্টা করব। এবার ইমরুল ভাইয়ের ইনজুরিতে সুযোগটা পেয়েছি, বাইরের মাঠ, তবু চেয়েছি সুযোগটা কাজে লাগাতে।” “প্রথমবার ওপেন করে চেয়েছি বড় ইনিংস খেলতে। আমার দিক থেকে শতভাগ চেষ্টা ছিল। ইনিংসটি যদি বড় করতে পারতম, এত সহজে না এসে আরেকটু কষ্ট করে থাকতাম, তাহলে নিজের জন্য ভালো হতো। দলের জন্য আরও ভালো হতো।” সৌম্যর মন খারাপ লাগা কণ্ঠ ছড়িয়ে পড়লো যেন হ্যাগলি ওভালের বাতাসে। সেখানেও মিশে আছে একইরকম অনুভূতিগুলো; সুযোগ হারানোর আক্ষেপ, হতাশা। সৌম্যর হতে পারত সেঞ্চুরি, বড় সেঞ্চুরি। বাংলাদেশের স্কোর হতে পারত বড়, আরও বড়!-বিডিনিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ