স্কুলে স্কুলে আনন্দের জোয়ার

আপডেট: ডিসেম্বর ৩১, ২০১৭, ১:৪১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


(উপরে বামে)আনন্দ উচ্ছ্বাসে উদ্বেল কলেজিয়েট স্কুল (বামে) ও হেলেনাবাদ গার্লস স্কুলের শিক্ষার্থীরা। (নিচে বামে) আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠে গভঃ ল্যাবরেটরী স্কুলের ও পিএন স্কুলের গার্লস শিক্ষার্থীরা-সোনার দেশ

রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের অধিনে অনুষ্ঠিত হওয়া জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা পরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আনন্দের জোয়ার ছড়িয়ে পরে। এবছর জেএসসি পরীক্ষায় রাজশাহীতে পাসের হার ৯৫ দশমিক ৫৪। স্কুলগুলোতে ঢাক ঢোল আর বাশি বাজিয়ে আনন্দ উল্লাস করে শিক্ষার্থীরা। কমতি নেই শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যেও। ছেলে-মেয়ের সাফল্যে খবর শুনতে স্কুলগুলোতে জমা হন অভিভাবকরা। এতে করে স্কুল প্রাঙ্গন মুখরিত উৎসবে।
এবছর গভ. ল্যাবরেটরি হাইস্কুল থেকে জেএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ১১৬ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ১০৮ জন জিপিএ ৫ পেয়েছে। বাকি ৮ জন পেয়েছে এ গ্রেড। পাশের হার শতভাগ। আর পিইসি পরীক্ষায় অংশগ্রহ করে ১০৮ জন পরীক্ষার্থী। যার মধ্যে সকলেই পেয়েছে জিপিএ-৫।
হেলেনাবাদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৩২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ১৩১ জন পেয়েছে জিপিএ-৫। একজন এ গ্রেড পেয়েছে। পাশের হার শতভাগ। শিক্ষার্থী তাবাসুম শাবনাম বলে, শিক্ষকদের যথাযোথো গাইড লাইনের কারণে আমরা ফলাফল ভাল করতে পেরেছি। নিয়মিত ক্লাস পরীক্ষা, মডেল টেস্টগুলো নেয়ার হয়েছিলো। তাই আমাদের অনুশীলন ভালো থাকার ফলে কাঙ্খিত ফলাফল নিশ্চিত হয়েছে।
কলেজিয়েট স্কুল থেকে পরীক্ষা অংশগ্রহণ করে ২০৫ জন ছাত্র। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৯৭ জন। এর মধ্যে ক্যান্সারে আক্রান্ত থাকায় এক শিক্ষার্থী ফেল করে। পাশের হার ৯৯.৫১। পিইসি পরীক্ষায় ১৭৬ জন পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে ১৭৫ জন জিপিএ ৫ পেয়েছে।
কলেজিয়েট স্কুল থেকে জেএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী অতুল সরকার বলেন, আজকে অনেক ভালো লাগছে। কাক্সিক্ষত ফলাফল অর্জন করতে পেরেছি। তাই শিক্ষক-বাবা-মাকে অনেক অভিনন্দন। তিনি আরো বলেন, নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতির কারণে আমাদের ফলাফল ভাল হয়েছে। এ অর্জনের মাধ্যমে আমাদের আগামি দিনের ইচ্ছে পূরণে এক ধাপ এগিয়ে যাব।
সরকারি পিএন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবছর পরীক্ষা ২১১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০৫ জন ছাত্রী। পাঁচজন ছাত্রী ‘এ’ গ্রেড এবং একজন পেয়েছে (এ-)। পিইসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ১৮৭ জন ছাত্রী। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেছেয়ে ১৭৯ ছাত্রী। আর আটজন ছাত্রী পেয়েছে ‘এ’।
শাম্মী আখতার নওরীনের মা নাসিমা আখতার বলেন, প্রত্যাশা যা ছিল তাই হয়েছে। মেয়ের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল পেয়েছি। অনেক ভালো লাগছে। ইচ্ছে আছে ভবিষ্যতে ডাক্তার হবে।
রাজশাহী মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষার্থীরা শতভাগ সাফল্য অর্জন করেছে। এবছর এ প্রতিষ্ঠান থেকে ৫৩ জন শিক্ষার্থী পিইসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ২৭ জন এ+, ২৪ জন এ, ২ জন এ- পেয়েছে।
এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১০১ জন শিক্ষার্থী জেএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ৪৮ জন এ+, ৫০ জন এ, ০৩ জন এ- জন পেয়ে কৃতকার্য হয়েছে। পরীক্ষায় পাসের হার শতভাগ। অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান বলেন, সাফল্য অর্জনকারী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবক এবং প্রাথমিক শাখার অ্যাকাডেমিক ইনচার্জ, সংশ্লিষ্ট শ্রেণির-শ্রণি শিক্ষকগণ এবং অন্যান্য সকল শিক্ষককে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
তিনি বলেন, এই সাফল্যের পেছেনে নিরালসভাবে পরিশ্রম করেছে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকগন। তাদের চেষ্টাতেই আরো সহজ হয়ে গেছে এই ফলাফল।
শিক্ষার্থী জয় জানায়, শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম, নিয়মিত ক্লাস পরীক্ষা এনে দিয়েছে সেরা সাফল্য। অভিভাবকদের মতে শিক্ষকদের ক্লাসে পড়ানোর ধরণ আর শিক্ষার্থীদের চেষ্টায় অর্জিত ফলাফলে তারা সন্তুষ্ট।