স্কুল ড্রেসের জন্য দুই হাজার টাকা শিক্ষা উন্নয়নে ইতিবাচক হবে

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯, ১:৪৫ পূর্বাহ্ণ

আগামী বছর থেকে সরকার প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে স্কুল ড্রেসের জন্য দুই হাজার করে টাকা দেয়া হবে। ইতোমধ্যেই সরকার বছরের শুরুতেই প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বই সরবরাহ করে থাকে। ১ জানুয়ারি সারা দেশে দেশে বই উৎসব পালন করা হয়। এটা বিশ্বের একটি বৃহত্তম উৎসব যা ব্যাপকভাবে প্রশংসিত। এর সাথে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেসের যোগান বই উৎসবের বৈচিত্র্য ও বৈভবে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।
আওয়ামী লীগের অধীন যখনই সরকার গঠিত হয়েছে তারা শিক্ষাকে অধিক গুরুত্ব দিয়েছে। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু সরকার শিক্ষাকেই উন্নয়নের মূল সোপান হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বাজেটে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রেখে সেই রাজনৈতিক সদিচ্ছারই প্রমাণ দিয়েছিলেন। ওই সময় ৩৭ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়কে একযোগে জাতীয়করণ করেছিলেন। এটা ওই সময় যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশের জন্য চ্যালেঞ্জিং সিদ্ধান্ত ছিল। বর্তমানেও আওয়ামী লীগৈর নেতৃত্বের সরকার শিক্ষাকে কাক্সিক্ষত লক্ষে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে চলেছে। স্কুলগুলোতে মিড ডে মিল চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছেÑ উপবৃত্তি প্রদান অনেক আগে থেকেই চালু আছে। এ পর্যায়ের উপবৃত্তির পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। ৩৬ হাজারের মত প্রাইমারি স্কুল জাতীয়করণসহ প্রচুর বেসরকারি কলেজ ও উচ্চ বিদ্যালয় জাতীয়করণের আওতায় আনা হয়েছে। উচ্চ শিক্ষার সাথে সাথে কারিগরি শিক্ষাকে অধিক গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। শিক্ষা উন্নয়নে নতুন নতুন অবকাঠামো গড়ে তোলা চ্ছে। শিক্ষায় প্রযুক্তি জ্ঞানকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।
স্কুল ড্রেসের জন্য সরকারি অর্থ বরাদ্দ শিক্ষা ব্যবস্থায় এক নতুন উদ্যোমের সৃষ্টি করবে। প্রান্তিক অঞ্চলের চরম দারিদ্র-পীড়িত শিশুদের স্কুলমুখি করার জন্য এটি একটি ভাল উদ্যোগ। কারণ পিছিয়ে পড়া ওই অঞ্চলগুলোয় শিশুদের স্কুলে যাওয়া না যাওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ পোশাক না থাকা। বিশেষ করে মেয়েদের জন্য এটা বড় সমস্যা। মূলত স্কুলের প্রতিটি শিক্ষার্থীর মধ্যে সমতা আনতে এবং বৈষম্য দূর করতে সেইসঙ্গে স্কুলের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়াতে সরকারের এই উদ্যোগ শিক্ষা উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সহায়ক হবে। শিশুরা আনন্দের সাথে স্কুলে লেখাপড়া করবে, অন্য শিক্ষার্থীদের থেকে সে নিজেকে পৃথক ভাববে না। স্কুলে ড্রেস পরে আসতে না পারার কষ্ট শিশুমনকে যে ভাবে পীড়িত করতো, হীনমন্যতায় ভুগাতো- সেটা থেকে সে রেহায় পাবে। স্কুল জীবন তার আনন্দের হবে। একটা নতুন ড্রেস তাদেরকে সেই আনন্দটা দেবে। সব শিশুরা একই রকম ড্রেস পরবে। গরিবের সন্তান আর ধনীর সন্তানের মধ্যে কোনো ব্যবধান থাকবে না।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের তথ্য মতে বাংলাদেশে মোট সরকারি প্রাইমারি স্কুলের সংখ্যা ৬৩ হাজার ৬০১টি। যেখানে পড়াশোনা করছে দুই কোটি ১৯ লাখ ৩২ হাজার ৬৩৮জন শিক্ষার্থী। প্রশ্ন উঠেছে এই বিপুল পরিমাণ স্কুলে এতো বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীদের কাছে এই ইউনিফর্মের অর্থ পৌঁছানো হবে কীভাবে?
এছাড়া সেই অর্থ দিয়ে শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম কেনা হচ্ছে কিনা সেটাও বা তারা কিভাবে নিশ্চিত করবেন?
আমরা মনে করি ভালো প্রতিটি উদ্যোগই চ্যালেঞ্জিং। বিনামূল্যে বই বিতরণ, উপবৃত্তির অর্থ বরাদ্দ-বিতরণ নিয়েও এমন প্রশ্ন ছিল কিন্তু সেগুলোও সমস্যা উতরে জাতির কাছে গ্রহণযোগ্যতাই শুধু পায় নিÑ শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একটি ভাল কাজ, ভাল উদ্যোগের শুরুটা করা চাই। ছোট-খাটো ত্রুটি কিংবা সমস্যা যে গুলি আসবে তার সমাধানের মধ্য দিয়েই কাজটিকে এগিয়ে নেয়া যাবে। এটা অনেকটা ধারাবাহিক অনুশীলনের মত যা উদ্যোগকে সাফল্যের শিখরে নিয়ে যায়। অনাগত আশংকা সামনে নিয়ে কোনো কাজেরই সাফল্য আশা করা যায় না। আর সব মহৎ উদ্যোগেরই একটা ধুসর এলাকা থাকে- সেটা সেই শুভ উদ্যোগকে কোনোভাবেই ভ্রান্ত করতে পারে না। রাজনৈতিক সদিচ্ছাটা দৃঢ় হলে সেটা শেষ বিবেচনায় এগিয়েই যায়।
আমরা সরকারের এই উদোগকে স্বাগত জানাই, সাফল্য কামনা করি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ