স্ত্রীর উত্ত্যক্তের ৭ দিন পর মামলা

আপডেট: আগস্ট ১৭, ২০১৯, ১:১২ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


নগরীতে স্ত্রীকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় ৭ দিন আগে বখাটেদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছিলেন রুয়েট-এর এক শিক্ষক। ওই ঘটনায় বোয়ালিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষক রাশিদুল ইসলামের স্ত্রী তাবাসসুম ফারজানা নারী নির্যাতন ও প্যানেল কোর্টের বিভিন্ন ধারায় মামলাটি দায়ের করেছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নগর পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, ঘটনার দিন থেকেই আমরা বিষয়টি নিয়ে তৎপর ছিলাম। তবে দেরিতে হলেও মামলা দায়ের করায় আইনানুগভাবে পুলিশি তদন্ত করতে আমাদের সুবিধা হবে।
তিনি আরো বলেন, মামলায় কিশোর বয়সি উল্লেখ করে অজ্ঞাতদের নামে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমরা আসামিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছি। এক্ষেত্রে গোয়েন্দা তৎপরতাও বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে ঘটনার এক সপ্তাহ পরে মামলার করার প্রসঙ্গে জানার জন্য শুক্রবার সন্ধ্যায় মুঠোফোনে লাঞ্ছিত রুয়েট শিক্ষক রাশিদুল ইসলামের সাথে কয়েকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি কল রিসিভ করেন নি।
উল্লেখ্য, গত ১০ আগস্ট নগরীর সাহেববাজার মনিচত্বরে স্ত্রীকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় বখাটেদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছিলেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষক রাশিদুল ইসলাম। পরে এ ঘটনা নিয়ে ওই শিক্ষক ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্ট্যাটাস দেন, যা সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে।
শিক্ষক রাশিদুল ইসলাম ফেসবুকে লিখেছিলেন ‘মেনে নিন, নয়তো দেশ ছেড়ে চলে যান’ শিরোনাম দিয়ে গত ১০ আগস্ট ফেসবুকে দেয়া স্ট্যাটাসে শিক্ষক রাশিদুল ইসলাম উল্লেখ করেন, ‘এদেশে আপনার চোখের সামনে আপনার মা, বোন অথবা বউ ধর্ষিত হলেও প্রতিবাদ করবেন না, আশেপাশে কাউকে পাবেন না। মার খেয়ে মরবেন। কারণ আপনি একটা জানোয়ার, আমিও একটা জানোয়ার, জানোয়ারে ভরা সমাজ আমাদের।’
ঘটনার বর্ণনায় রাশিদুল ইসলাম লিখেন, ‘আজকের ঘটনাটা সংক্ষেপে বলি। সাহেববাজার মনিচত্বরের মতো জনবহুল এলাকাতেও আমার বউ যৌন হয়রানির শিকার হয়। একপাল ছেলের মধ্যে একজন আমার বউকে পেছন থেকে কয়েকবার ইচ্ছাকৃত ধাক্কা দেয়। দুই-তিনবার সহ্য করলেও পরেরবার প্রতিবাদ করি। ব্যস, সোনার ছেলেদের দাপট শুরু। শেষে আমাকে সোনাদিঘি মসজিদের সামনে ৫-৭ জন মিলে ঘিরে ধরে মারা শুরু করে। এই পর্যন্তও না হয় মেনে নিলাম। কিন্তু ওখানে কম করে হলেও ৫০ জন আমার মার খাওয়া দেখছিল। একজনও এগিয়ে আসেনি। মার খাওয়ার একপর্যায়ে আমি দর্শকদের উদ্দেশে বলি, ‘বাঁচান আমাকে’। কোনও রেসপন্স পাইনি। একজন মোটরসাইকেল থামিয়ে আমার মার খাওয়া দেখছিল, আমি হেল্প চাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মোটরসাইকেল চালিয়ে চলে গেলো।’
ফেসবুক স্ট্যাটাসের এ পর্যায়ে নিজের ক্ষোভ ঝাড়েন রাশিদুল ইসলাম। লিখেন, ‘মার খেয়ে কাপুরুষ আমি দর্শকদের বলি, ‘আপনারা আজ এগিয়ে এলেন না, একদিন আপনার বউয়ের সঙ্গে এমন হবে। কিন্তু কেউ এগিয়ে আসবে না। ও আমার বউ, গার্লফ্রেন্ড নয়। কাবিননামা দেখাতে হবে আপনাদের?’ একজন ভিড়ের মধ্য থেকে বলে, ‘হ্যাঁ, কাবিননামা নিয়েই চলাফেরা করতে হবে।’ তখন আবার মনে পড়লো, আমি জানোয়ারের সমাজে বাস করি, এমন উত্তরই আমার প্রাপ্য।’
রাশিদুল ইসলাম আরও লিখেন, ধরেন, দ্বিতীয়বার আক্রমণে ওরা আমাকে মেরে ফেললো। কী করবেন? ফেসবুকে কান্নাকাটি? জাত গেলো জাত গেলো রব তুলবেন? কোনোটাই করবেন না, দয়া করে। এসবে কিছুই আসে যায় না। আর যারা করবে, তাদের গিয়ে থু থু দিয়ে আসবেন।’
স্ট্যাটাসের শেষাংশে ওই শিক্ষক লিখেছেন, ‘ধরেই নিয়েছিলাম, পিএইচডি শেষ করে দেশে ফিরবো। মা-বাবা চান না, বাইরে স্যাটেল করি। এই ঘটনার পর বাইরে স্যাটেল করা নিয়ে দ্বিতীয়বার ভাববো না অবশ্যই।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ