স্থাপনায় স্বাধীনতাবিরোধীদের নাম বিজয় দিবসের আগেই মুছে ফেলা হোক

আপডেট: নভেম্বর ১৬, ২০১৯, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ

দেশে বিভিন্ন স্থাপনা, সড়ক ও নামফলক থেকে স্বাধীনতাবিরোধীদের নাম মুছে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের নামে নামকরণ করতে নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।
এ সংক্রান্ত চলমান একটি রিট মামলায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন প্রতিবেদন দেখে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের হাই কোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন।
নির্দেশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি জানিয়ে আগামী বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদন দিতে বলেছে আদালত। পরে ২৫ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী আদেশের জন্য বিষয়টি আদালতের কার্যতালিকায় আসবে। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী দেশে স্বাধীনতাবিরোধীদের নামে ৩০টি স্থাপনা, সড়ক ও নামফলক আছে। এর মধ্যে ২২টির নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। ৮টির এখনও পরিবর্তন করা হয়নি।
স্বাধিকারের জন্য পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে ২৩ বছরের লড়াই-সংগ্রামের পর একটি জনযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। এটি কোনো মামুলি বা অনায়াস অর্জন ছিল না। এর জন্য বাঙালি জাতিকে চরম মূল্য দিতে হয়েছেÑ যা পৃথিবীর আর কোনো জাতিকে দিতে হয় নি। একাত্তরে সংঘটিত বাঙালি জাতির জনযুদ্ধে বর্বর প্রতিপক্ষ ছিল পাকিস্তান। তারা ছিল আধুনিক অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত ও প্রশিক্ষিত। আর বাঙালিরা ছিল নিরস্ত্র। স্বাভাবিকভাবেই জাতির প্রতিরোধের মূল অস্ত্রই ছিল দেশের জন্য, ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য আত্মদান করার শক্তি ও সাহস। লাখে লাখে ৩০ লাখের আত্মদান অনেক বেশি মূল্য- স্বাধীনতার জন্য বাঙালি জাতি দিয়েছে। এই মৃত্যুসংখ্যাকে গতি দিয়েছে এ দেশেরই কুলাঙ্গার বিশ্বাসঘাতক বাঙালিদের একটি ক্ষুদ্র অংশ। যারা পাকিস্তানি বাহিনীর দোসর হয়ে বাঙালি জাতির স্বাধীনতার আকাঙক্ষা চিরতরে নস্যাৎ করতে চেয়েছিল। শুধু হত্যাযজ্ঞ চালিয়েই তারা ক্ষান্ত হয় নিÑ ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণের মত মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছে। এরাই জামাতে ইসলামী, মুসলিম লীগ, এরা রাজাকার, আলবদর, আলশামস, পিস কমিটি। এদের ধ্বংস্তুপের উপর দাঁড়িয়েই বাঙালি জাতি বিজয় অর্জন করেছে। কিন্তু পঁচাত্তরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সামরিক সরকারগুলো ধ্বংসস্তুপ থেকেই ওই স্বাধীনতাবিরোধীদের মধ্যে প্রাণ দিয়েছে, মাটি দিয়েছে, শেকড় গজানোর জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি দিয়েছে, রাজনৈতিক অধিকার দিয়েছে, মন্ত্রী, এমপি, প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছে এবং স্বাধীনতাকে- মুক্তিযুদ্ধকে নির্বাসিত করার ষড়যন্ত্র করেছে। এটা জাতির জন্য বিড়ম্বনার ছিল, তামাসার ছিল, অপমানের ছিল। সেই অপমানের ব্যবস্থা থেকে জাতি সম্পূর্ণরূপে মুক্ত হতে চায়। স্বাধীনতাবিরোধীদের চিহ্ন এখনো প্রেতাত্মার মত বিভিন্ন স্থাপনায় লেপ্টে আছে। স্বাধীন বাংলাদেশে এটা কোনোভাবেই থাকার কথা ছিল না। কিন্তু জাতিকে একটি অন্ধকার অধ্যায় পার হতে হয়েছে। আর কোনোভাবে স্বাধীনতাবিরোধীদের গৌরবচিহ্ন মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে থাকতে পারে না। তারা শুধুই জাতির ঘৃণা পেতে পারে আর অন্য কিছুই নয়। দেশের উচ্চ আদালত সেই দায় ও দায়িত্ব প্রতিপালনের তাগিদ দিয়েছেন। অবশ্যই সেই তাগিদ নিষ্ঠার সাথে সংশ্লিষ্টদের প্রতিপালন করতে হবে। এটাই মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশের অনুভব, অঙ্গীকার। বিজয় দিবসের আগেই স্থাপনা, সড়ক ও নামফলক থেকে স্বাধীনতাবিরোধীদের নাম মুছে যাবে- সেই প্রত্যাশাই রইল।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ