স্বাগত ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ || অফুরান সম্ভাবনার বাংলাদেশ এগিয়ে যাক

আপডেট: জানুয়ারি ১, ২০১৮, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ

২০১৭ সাল রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার মধ্যেই শেষ হলো। সে ক্ষেত্রে বলা যায়, বছরটি দেশের মানুষের জন্য অনেকটাই স্বস্তির ছিল। অর্থনৈতিকভাবেও বাংলাদেশ সক্ষমতা দেখিয়েছে, যা বিশ্বব্যাপি প্রশংসিত। সামাজিক অনেক সূচকেই বাংলাদেশ অন্য দেশের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বিদায়ি বছরে জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কিছুটা হলেও দুর্ভাবনা ছিল কিন্তু তা ভীতি- আতঙ্ক সঞ্চারক ছিল না। জঙ্গিবাদ দমনে ২০১৭ সাফল্যের বছর। জঙ্গি দমনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনির তৎপরতা ও তাদের সাফল্য প্রশংসনীয়। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে দেশ নতুন বছরে অর্থাৎ ২০১৮ সালে পদার্পণ করলো। এই সূচনা নতুন কিছু ইতিবাচক ধারণার ইঙ্গিত দিচ্ছে। নতুন বছরে বাংলাদেশ আরো ভাল করবে, সেই প্রত্যাশা দারুণভাবে উজ্জীবিত।
জিডিপি প্রবৃদ্ধি বিদায়ি বছর ৭ শতাংশের ঘর অতিক্রম করেছে। বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার সন্তোষজনক পর্যায়ে আছে। চালের বাজারে উর্ধগতি সরকারকে উদ্বেগের মধ্যে ফেললেও মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়েই আটকে রাখা গেছে। হাওরাঞ্চলে আগাম বন্যার পর ভারি বর্ষণে পাহাড় ধসের পাশাপাশি ফের মৌসুমী বন্যা, সঙ্গে নিয়মিত বিরতিতে সাগরে নি¤্নচাপ ও ঘূর্ণিঝড় মিলিয়ে বিদায়ি বছর জুড়ে দেশের সব প্রান্তে ছিল দুর্যোগের হানা। এতে ফসল ও সড়ক অবকাঠামোসহ অন্যান্য অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়। ছিল ধারাবাহিক প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা যা সরকারকে বার বার বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে ফেলেছে। বিদায়ি বছর নির্বাচনের বছর ছিল, আবার নির্বাচনের ব্যাপক ডামাডোল নিয়ে নতুন বছর শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশন এখন পর্যন্ত তাদের সক্ষমতা প্রমাণ করতে পেরেছে।
বাড়ছে বিদেশি ঋণ-সহায়তা; রাজস্ব আদায়ের গতিও ভালো। বিদেশি বিনেয়োগ বাড়ছে, রফতানি আয়ের ধারা অব্যাহত আছে। দেশে অনেক মেঘা প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছেÑ যা সম্পন্ন হলে উন্নয়নের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মসেতুর কাজ ইতোমধ্যেই ৫০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এই প্রকল্প কাজ সম্পন্ন হবে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করছে। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের মূল কাজ শুরু হয়েছে।
শুভ ইঙ্গিত নিয়েই বাংলাদেশ নতুন বছরে প্রবেশ করেছে। ৩০ ডিসেনম্বর জেএসসি ও পিএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। সজীব স্বপ্ন বুকে করে ঘুমিয়েছে আর সকালে সেই স্বপ্নই দিনের শুরুতে নতুন শপথে উদ্ভাসিত করেছে কোটি শিশুকে। ২০১৮ এর সকালের প্রথম সূর্যটাও অন্যরকম রং ছড়াবে। এই রঙ আবহ তৈরি করবে আনন্দ-উচ্চ¦াসের- ভবিষ্যত নির্মাণের। দেশের কোটি কোটি শিশু বই উৎসবে সামিল হবে আজ, বুক ভরে নতুন বইয়ের গন্ধ নিবে। প্রতিটি বই স্বপ্নফুল হয়ে শিশুদের হাতে হাতে শোভা পাবে।
এসব শিশুর ভবিষ্যত নির্মাণের দায়িত্ব অভিভাবকদের, রাজনৈতিক নেতৃত্বের। তারা কোনোভাবেই শিশুদের স্বপ্ন ভেঙ্গে দিতে পারে না- তা কোনো অজুহাতেই। নতুন বছরে আমরা যেন নির্ভয়ে সব উৎসব আনন্দচিত্তে উদযাপন করতে পারি, মুক্ত চিন্তার প্রকাশে অন্ধকারের শক্তি যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়- গণতন্ত্র অনুশীলনের পথ উন্মুক্ত হোক, বাংলাদেশ অফুরান সম্ভাবনার পথচলা জাতির ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণে সফল হোক এটাই প্রত্যাশা।
ইংরেজি নববর্ষে দৈনিক সোনার দেশ এর সকল পাঠক, শুভ্যানুধায়ী ও বিজ্ঞাপনদাতাদের অনেক অনেক শুভেচ্ছা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ