বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

সড়কে আনফিট যানবাহন সাত মাসে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরার অপেক্ষা

আপডেট: December 6, 2019, 1:03 am

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) সূত্র মতে, দেশে বর্তমানে মোট বাসের সংখ্যা ৪৬ হাজার ৭০২টি। এরমধ্যে ফিটনেস আছে ২৮ হাজার ১৪৯টি বাসের। বাকি ১৮ হাজার ৫৫৩টি বাসের কোনো ফিটনেস নেই বা আনফিট।
মোটরসাইকেলের অবস্থা আরও ভয়াবহ। দেশে মোট মোটরসাইকেলের সংখ্যা ২৬ লাখ ৬৮ হাজার ১২৩টি। অথচ এরমধ্যে পেশাদার ও অপেশাদার মিলে মোট ১৩ লাখ ৮৮ হাজার ৮৭ জনের লাইসেন্স আছে। ১২ লাখ ৮০ হাজার ৩৬টি মোটরসাইকেল চলে অবৈধ চালকের হাতে।
এর মধ্যে পেশাদার লাইসেন্স আছে মাত্র এক লাখ ৭০ হাজার ২৭৩ জনের। এরমধ্যে আবার ১৫১ জন নারী। অন্যদিকে ১২ লাখ ১৭ হাজার ৮১৪ জন চালকের অপেশাদার লাইসেন্স রয়েছে। এরমধ্যে নারী চালকের সংখ্যা সাত হাজার ৭৮৮ জন। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
সন্দেহ নেই এটা উদ্বেগ জাগানিয়া তথ্য। তা হলে এটার সমাধান হচ্ছে না কেন? দেশের সড়কে ১৮ হাজারের বেশি আনফিট বাস চলছে কীভাবে? মোটর সাইকেলের ক্ষেত্রে ওই একই অবস্থা। বিআরটিএ কিংবা সংশ্লিষ্ট অন্য সংস্থা এগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে- তারা চুপ কেন? এমন নানা প্রশ্ন সঙ্গতভাবেই বারবার সামনে আসে কিন্তু সমস্যাটির সমাধান হয় না। অথচ সড়কের এই নৈরাজ্য মানুষের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। আর এ কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়কে ঝরছে প্রাণ। সংবাদ মাধ্যমে তথ্য বলছে মোটরসাইকেলের কারণে একদিকে যেমন সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে, তেমনি সড়ক ও ফুটপাতের যাত্রী ও পথচারীরা বেশিরভাগ সময়ই বিরূপ পরিস্থিতিতে পড়ছেন। ফিটনসেবিহীন বাস ও মোটরসাইকেলের কারণে সড়কে চলাচলে সবচেয়ে বেশি অসুবিধায় পড়ছেন নারী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা।
সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ উচ্চ ঝুঁকির দেশ। প্রায় প্রতিদিনই সংবাদ মাধ্যমে আসছে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ও নিহতের খবর। মর্মান্তিকভাবে ঘটছে এসব দুর্ঘটনা। বিশেষজ্ঞ সূত্রমতে, চালক ও কন্ডাক্টরদের অদক্ষতা ও অসাবধানতা, ফিটনেসবিহীন ও রুট পারমিটবিহীন গাড়ির কারণেই এসব দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়ক থেকে পুরনো ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি উচ্ছেদ না হওয়ার পেছনে যে দুর্নীতি কাজ করে তা রোধ করা না হলে এ সেক্টরে বিপর্যয়ের আশংকা করা হচ্ছে।
২০২০ সালের জুনের পর থেকে ফিটনেবসবিহীন বাস ও অবৈধ মোটরসাইকেল চালকদের কোনো ছাড় দেবে না বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)। হাতে প্রায় সাত মাস সময় আছে। এরমধ্যে বাসের ফিটনেস ফিরিয়ে আনতে হবে। তা না হলে সড়কে ফিটনেসবিহীন পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে বিআরটিএ। একইসঙ্গে কোনো মোটরসাইকেল চালক লাইসেন্স না নিলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। তাই সাত মাসের মধ্যেই লাইসেন্স করার নির্দেশ দিয়েছে বিআরটিএ।
সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার গুরত্ব বলার অপেক্ষা রাখে না। এর সাথে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের বিষয়টি খুবই ওতপ্রোতভাবে জড়িত আছে। টেকসই উন্নয়নের সাথেও এর বাধ্যবাধকতা আছে। সড়কে শৃঙ্খলার দাবি এ দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের। সরকার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবে সেই প্রতাশ্যাই রইল ।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ