সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ উন্নত ব্যবস্থাপনাও গড়তে হবে

আপডেট: নভেম্বর ২, ২০১৯, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ

১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’। আইনটি প্রণয়নের এক বছরেরও বেশি সময় পর বাস্তবায়নের সূচনা হলো। পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের বাধার মুখে এতদিন আইনটি বাস্তবায়ন করা যায়নি। গেল মাসের ২২ অক্টোবর আইনটি কার্যকরের তারিখ ১ নভেম্বর ঘোষণা করে গেজেট জারি করে সরকার। নতুন আইনে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী মোটরযান মালিক, মোটরযান শ্রমিক, পথচারীসহ সকল অংশিজনকে ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’ এর একাদশ অধ্যায়ে বর্ণিত অপরাধ, বিচার ও দণ্ডের বিষয়গুলো জেনে তা মেনে চলার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। এই আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা। এছাড়া বিভিন্ন অপরাধের জন্য জেল-জরিমানার সঙ্গে চালকের পয়েন্ট কাটা হবে।
‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’ কতটুকু জনবান্ধব বা পরিবহণ শ্রমিক-মালিকের স্বার্থ রক্ষাকারী তা নিয়ে বিতর্ক থাকতেই পারেÑ কিন্তু প্রশ্নটি সেখানে নয়- প্রশ্নটি হলো- আইনের প্রায়োগিকতার যথার্থ নিয়ে। কেননা প্রয়োগ যথার্থ না হলে এর কার্যকারিতা বাস্তবিক পর্যায়ে থাকবে না। বাংলাদেশে ভাল ভাল আইন আছে, সহস্রাধিক। এ দেশের মানুষের স্বার্থেই এসব আইন প্রণীত হয়েছে। কিন্তু সেগুলোর যথার্থ অর্থাৎ গণমানুষের কল্যাণে প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেছে- এমনটি বলা যায় না। বরং আইনের প্রয়োগ নিয়ে দেশের মানুষের অভিজ্ঞতা মোটেও ভাল নয়। মোটরযান নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত আইন আগে থেকেই আছে। কিন্তু এর যথার্থ প্রয়োগ হয়েছে বলে দেশের মানুষ বিশ্বাস করে না। আর প্রয়োগ হলে পরে ফিটনেসহীন গাড়ি সড়কে চলতে পারে না, লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালাতে পারে না- কিন্তু সেটাই বাস্তবতা। বলা হয়ে থাকে রাজধানীতে গাড়ি চলাচল করে তার আশি শতাংশই সড়কে চলার জন্য উপযুক্ত নয়। আইনের বাস্তবিক প্রয়োগ হলে এসব গাড়ি চলাচলের সুযোগ থাকতো না কিংবা লাইসেন্স ছাড়া চালক গাড়ি চালাতেও পারতো না।
‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’ যাত্রা শুরু করেছেÑ এতে দেশের মানুষ আশান্বিত হতে চায়। আইনের ধারা- উপধারা মেনেই সড়কে গাড়ি চলবে। তা হলে সড়কে যে নৈরাজ্য সেটা দূর হবে। সড়ক দুর্ঘটনায় উদ্বেগজনক মৃত্যুর হার কমে আসবে। সড়ক দুর্ঘটনা কাক্সিক্ষত পর্যায়ে নামিয়ে আনা উন্নয়ন টেকসই লক্ষ্যমাত্রাÑএসডিজিরও একটি লক্ষ্য। সড়কে শ্ঙ্খৃলা ফিরিয়ে আনার জন্য আইনের যথার্থ প্রয়োগ নিশ্চিত করা চাই। তার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থাপনা আছে কি? এখানে প্রচুর ঘাটতি রয়ে গেছে। উন্নত ব্যবস্থাপনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ । আইনের প্রয়োগের জন্যই এই ব্যবস্থাপনার সার্বিক উন্নয়ন প্রয়োজন। সেদিকেও নিবিড় নজর দিতে হবে।