হংকং-এর সব স্কুল বন্ধ ঘোষণা

আপডেট: নভেম্বর ১৪, ২০১৯, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


হংকংয়ে সাম্প্রতিক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ক্রমবর্ধমান সহিংসতার মুখে বৃহস্পতিবার অঞ্চলটির সব স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার হংকং এডুকেশন ব্যুরোর এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, পরিবহন সংকট ও নিরাপত্তাজনিত কারণে আজ বৃহস্পতিবার সব স্কুল কর্তৃপক্ষ ক্লাস স্থগিত রাখবে। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।
এক সময়ের ব্রিটিশ উপনিবেশ হংকং এখন চিনের অংশ। ‘এক দেশ, দুই নীতি’র অধীনে কিছু মাত্রায় স্বায়ত্তশাসন ভোগ করছে হংকং। অঞ্চলটির নিজস্ব বিচার ও আইন ব্যবস্থা রয়েছে, যা মূল চিনের চেয়ে ভিন্ন। গত ৯ জুন থেকে সেখানে কথিত অপরাধী প্রত্যর্পণ বিল বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের আশঙ্কা, ওই বিল অনুমোদন করা হলে ভিন্নমতাবলম্বীদের চিনের কাছে প্রত্যর্পণের সুযোগ সৃষ্টি হবে। লাখো মানুষের উত্তাল গণবিক্ষোভের মুখে একপর্যায়ে ওই বিলকে ‘মৃত’ বলে ঘোষণা দেন হংকংয়ের চিনপন্থী শাসক ক্যারি ল্যাম। তবে এতে আশ্বস্ত হতে না পেরে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে সেখানকার নাগরিকরা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হংকংয়ের স্বাধীনতার দাবি। সর্বশেষ গত ৮ নভেম্বর বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের গুলিতে আহত এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে অঞ্চলটির গণতন্ত্রপন্থীদের চিনবিরোধী বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। এরমধ্যেই সোমবারের বিক্ষোভে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। হংকংয়ে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটলো। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাজনিত কারণে স্কুল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে বিক্ষোভকারীদেরও যাবতীয় সহিংস কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়।
মূলত সোমবার হংকংয়ে পুলিশ কর্তৃক দুই বিক্ষোভকারীকে গুলিবর্ষণের পর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে বিক্ষোভকারীরা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অঞ্চলটির ক্রমবর্ধমান সহিংসতায় ‘গভীর উদ্বেগ’ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারী উভয় পক্ষকেই শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি। সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র মর্গান ওর্তেগাস এক বিবৃতিতে নিজ দেশের এমন অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র গভীর উদ্বেগের সঙ্গে হংকং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।’ বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র সব পক্ষের সহিংসতার নিন্দা জানাচ্ছে। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছে। পুলিশ ও বিক্ষোভকারী সব পক্ষকেই আমরা শান্ত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। এদিকে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে চিন।
তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন