হরি বোল ধ্বনিতে হিন্দু প্রতিবেশীর সৎকার করলেন মুসলিমরাই

আপডেট: April 27, 2017, 12:33 am

সোনার দেশ ডেস্ক



জাত-পাত-ধর্মের বিভাজনরেখা যেন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে রাজ্যে৷তা নিয়ে চলছে দেদার রাজনৈতিক তরজা৷ হিন্দু বনাম মুসলিম পেরিয়ে এখন দ্বন্দ্ব ভাল হিন্দু বনাম মন্দ হিন্দুরও৷কিন্তু এসব ভেদরেখাকে নস্যাৎ করেই সম্প্রীতির এক অনন্য ছবি তুলে ধরল মালদহের এক গ্রামের মুসলিম বাসিন্দারা৷সহায়সম্বলহীন হিন্দু প্রতিবেশীর সৎকার করলেন তাঁরাই৷এমনকী তাঁদের মুখে শোনা গেল হরিবোল ধ্বনিও৷
গত সোমবার মৃত্যু হয় বিশ্বজিত রজক নামে এক যুবকের৷লিভারের রোগে ভুগছিলেন তিনি৷হতদরিদ্র রজক পরিবারের না ছিল লোকবল, না ছিল অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার খরচ৷এগিয়ে আসেন মুসলমান পড়শিরাই৷মুহূর্তেই যেন মিলিয়ে গেল তথাকথিত ধর্মের বিভাজন৷মৃত প্রতিবেশীর যুবকের দেহ কাঁধে তুলে নিলেন মুসলিম গ্রামবাসীরাই৷নিয়ে গেলেন শ্মশানঘাটে৷এমনকী হিন্দু প্রথা মেনে হরিবোল ধ্বনিও দিলেন তাঁরাই৷
পুরো বিষয়টির উদ্যোগ নিয়েছিলেন স্থানীয় মসজিদের মৌলবিই৷এগিয়ে এসেছিলেন হাজি আবদুল খালেকও৷তাঁদের উদ্যোগ আর মুসলিম বাসিন্দাদের সমর্থনেই অন্তিমক্রিয়া সম্পন্ন হয় বিশ্বজিতের৷ শোকে মূহ্যমান মৃত যুবকের বাবার পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে তাঁরা জানতে চান, কীভাবে কী করা হবে? জানা যায়, পরিবারের পক্ষে কোনও কিছুই করার সামর্থ্য নেই৷তারপরই টাকা জোগাড়ের ব্যবস্থা করা হয়৷ হাজি সাহেব জানান, বিশ্বজিৎ আমাদের ভাইয়ের মতো ছিল৷ওর সৎকারের ব্যবস্থা না করলে আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করত না৷আর কোনও ধর্মই তো ঘৃণার কথা বলে না৷
তাহলে কীসের বিভাজন? কীসের ভেদাভেদের প্রশ্ন মাথাচাড়া দেয় মাঝেমধ্যে? সে প্রশ্ন গ্রামবাসীদেরও৷ জনৈক গ্রামবাসী জানাচ্ছেন, সাধারণ মানুষ এত ধর্ম নিয়ে কাটাছেড়া করে না, এত মাথাব্যথাও নেই৷ বিধ্বস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ালে, দুটো হিন্দু মন্ত্র উচ্চারণ করলে কি ধর্ম খোয়া যাবে!
যে সহজ সত্যি এই গ্রামবাসীর মুখে উঠে এসেছে, তারই যেন দেখা মেলে না রাজনৈতিক চাপানউতোরে৷ কিন্তু সে তরজাকে মিথ্যে প্রমাণ করে দিল এই সৌভ্রাতৃত্ববোধ৷অর্থনৈতিক দিক থেকে মালদহ যে খুব এগিয়ে তা নয়৷বরং দারিদ্রেরই আধিক্য৷এমনকী নানা খারাপ খবরের জেরেও শিরোনামে উঠে আসে মালদহ৷সেই আবহই যেন বদলে দিল এই একটা ছবি৷যে দেশে আজান বিতর্ক সংবাদের শিরোনামে থাকে, থাকে ফতোয়ার কিসসা, সেখানে এ দৃশ্য যে ব্যতিক্রমী তা বলার রাখে না৷আর এ ছবিই যেন বলে দিচ্ছে, সকলেই নয়, তবে কোনও কোনও মানুষ আজও ধর্ম বলতে বোঝে শুধু মানুষকেই৷-সংবাদ প্রতিদিন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ