হাতের ইশারায় নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থা

আপডেট: নভেম্বর ১৪, ২০১৭, ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


হাতের ইশারায় চলছে রাজশাহী মহানগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থা। রাস্তায় ট্রাফিক ঠিকঠাক থাকলেও অকেজো সিগন্যাল বাতিগুলো। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) অবহেলার কারণে শহরজুড়ে এখন একটিও সিগন্যাল বাতি চোখে পড়ে না। সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে অনেক আগেই নষ্ট হয়েছে বাতিগুলো। ফলে যানবাহন নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যই ভেস্তে গেছে। সেই সনাতন পদ্ধতিতেই যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে। এটাকে অনেকেই নগরীর উন্নয়ন ধারণার পশ্চাদপদতার ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন। যদিও সিটি করপোরেশন শিগগিরই ট্রাফিক সিগন্যাল আধুনিকীকরণের উদ্যোগ নিবে বলে জানিয়েছে।
নগরীর রাস্তাগুলোতে অনেকটা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলছে যানবাহন। এতে তাল-বেতাল হয়ে পড়ছে ট্রাফিক ব্যবস্থা। যানজট তো আছে, ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। নগরীতে আগের তুলনায় যানবাহন বেড়েছে কয়েকগুণ। কিন্তু যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আধুনিক না হয়ে বরং পুরান পদ্ধতিইে ফিরে গেছে।
রাসিক সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৫ সাল থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত নগরীর ২১টি পয়েন্টে ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি বসানো হয়। সে সময় সিগন্যাল বাতি বসাতে বাতিপ্রতি প্রায় ৫ লাখ টাকা করে খরচ হয়। এসময় ২১টি সিগন্যাল বাতি বসাতে ১ কোটি ৫ লাখ টাকারও অধিক খরচ হয় রাসিকের। সিগন্যালবাতিগুলোর পরিচর্যা না করায় এর কার্যকারিতা বেশি সময় ছিল না।
নগরীর ব্যস্ততম সড়কগুলোতে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ সিগন্যাল বাতি না থাকায় ট্রাফিকের হাতের ইশারায় চলছে যানবাহন। নিয়ন্ত্রণহীন গাড়ি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশকে। শুধু হাতের ইশারা আর লাঠি হাতে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ ছাড়া কোনো উপায় নেই তাদের।
বলা হচ্ছে- সড়ক প্রশস্তকরণসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় এ ট্রাফিক সিগন্যাল বাতিগুলো অকেজো হয়ে গেছে। তার পরে দীর্ঘদিন চলে গেলেও সেগুলো আর মেরামত করা হয়নি। আগামী বছরের এই সিগন্যাল বাতিগুলোর জন্য টেন্ডার দেয়া হবে বলে জানান, রাসিকের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক।
অন্যদিকে, রাসিক মহানগরীর বর্ণালীর মোড়, কাদিরগঞ্জ, গোরহাঙ্গা রেলগেট, তালাইমারী, সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট, মনিচত্বর, হজরত শাহমখদুম (রহ.) দরগা গেট, সিঅ্যান্ডবি মোড়, লক্ষ্মীপুর মোড়, ভেড়িপাড়া মোড়, সাগরপাড়া বটতলা, কাজী নজরুল ইসলাম সরণিতে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি স্থাপন করে। বর্তমানে প্রায় সবগুলোই এখন অকেজো হয়ে পড়ে আছে।
নগরীর সাগরপাড়া এলাকায় বাসিন্দা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, এখন আর রাস্তায় ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি দেখা যায় না। তাই গাড়ির চালকরা ইচ্ছেমত চালায়। আর রাস্তা পারাপারের তেমন কোনো নির্দিষ্ট স্থানও নেই। এই অবস্থায় রাস্তায় চলাচলে ঘটছে ছোট ছোট-বড় নানা ধরনের দুর্ঘটনা। তাই আবার অকেজো ট্রাফিক সিগন্যাল বাতিগুলো ঠিক করা দরকার।
অটোরিক্সা চালক সেলিম হোসেন বলেন, আগে নগরীর বিভিন্ন সড়কে ছিল সিগন্যাল বাতি। এখন আর চোখে পড়ে না। কয়েক বছর আগে সিগন্যাল বাতিগুলোর পোস্টগুলো দেখা যেতো। এখন তাও চোখে পড়ে না। ট্রাফিকের হাতের ইশারায় চলতে হয়। আর না শুনলে হাতে থাকা লাঠি দিয়ে গাড়ির পেছনে বাড়ি (মার) দেয়। তখন আবার ছুটতে হয় যাত্রীদের নিয়ে।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) মুখপাত্র ও সদর ট্রাফিক পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার ইফতে খায়ের আলম বলেন, রাজশাহী শহরের রাস্তার যানজট নিরসনে ১৬৫ জন ট্রাফিকের কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে। যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণে নগরীর সকল ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি অকেজো। এতে সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশদের। এ ব্যাপারে সিটি করপোরেশনকে বার বার তাগাদা দেয়া হয়েছে। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না।
রাসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী যান্ত্রিক (দায়িত্বরত বিদ্যুৎ নির্বাহী প্রকৌশলী) রেয়াজাত হোসেন রিন্টু বলেন, নগরীর ট্রাফিক সিগন্যাল বাতিগুলো দীর্ঘদিন বন্ধ হয়ে আছে। নতুন করে রাসিকের ২২টি পয়েন্টে সিগন্যাল বাতি লাগনোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর জন্য চাহিদাও দেয়া হয়েছে। অর্থায়ন হলে কাজ শুরু হবে।
তিনি আরো বলেন, ২২টি পয়েন্টে চায়না কোম্পানির প্রোডাক্ট নিয়ে খরচ হবে প্রায় চার কোটি টাকা। আর ইউরোপিয়ান প্রোডাক্ট নিলে খরচ হবে আট থেকে ১০ কোটি টাকা। তবে দীর্ঘস্থায়ীকরণের জন্য ইউরোপিয়ান প্রোডাক্ট দিয়েই সিগন্যাল বাতির কাজ করা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ