হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে ১৬ বছর পর বিপদসীমা অতিক্রম করলো পদ্মার পানি

আপডেট: অক্টোবর ২, ২০১৯, ১:৩৫ পূর্বাহ্ণ

সেলিম সরদার, ঈশ্বরদী


ঈশ্বরদীর পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে দীর্ঘ ১৬ বছর পর বিপদসীমা অতিক্রম করলো পদ্মার পানি। গতকাল মঙ্গলবার হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পানি পরিমাপ করার স্থানে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ড হাইড্রোলজি বিভাগের উত্তরাঞ্চলীয় নির্বাহী প্রকৌশলী কেএম জহুরুল হক জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মার পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানি বেড়েছে ১৪ সেন্টিমিটার। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বিপদসীমা ১৪ দশমিক ২৫ সেন্টিমিটার অতিক্রম করেছে পানি।
এদিকে পদ্মায় পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষীকুন্ডা ও সাহাপুর ইউনিয়নের ৫-৬টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ গতকাল থেকে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। চরকুড়ুলিয়া, সাহাপুর, মাধপুর, কামালপুর, কৈকুন্ডা, লক্ষীকুন্ডা গ্রামের বসতবাড়িও জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। সাঁড়া, পাকশী, সাহাপুর ও লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের প্রায় ১ হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। সাহাপুর ইউনিয়নের পদ্মা নদীর পাড় ঘেঁষা চর এলাকায় আবাদ করা ফুলকপি, মূলা, বেগুন, মরিচ, করলা, লাউ, পটলসহ বিভিন্ন সবজির খেত জলমগ্ন হয়ে পড়ায় সবজি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
মানিকনগর গ্রামের কৃষক আমিরুল ইসলাম জানান, ৫ বিঘা জমিতে আগাম মাসকলাই ও ৪ বিঘা জমিতে ফুলকপি চাষ করেছিলাম, ফলনও ভালো হয়েছিল, কিন্তু পদ্মার পানি হঠাৎ বাড়ার কারণে সব জমির ফসল তলিয়ে গেছে। সাঁড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমদাদুল হক রানা জানান, অনেক বছর পর এবার পদ্মা নদীতে পানি পানি বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন। এ গ্রামের কৃষকরা সবাই দরিদ্র শ্রেণির বলে জানান তিনি।
পাবনা জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ গতকাল বলেন, পদ্মার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করার আগে থেকেই পাবনা জেলা প্রশাসন সতর্ক দৃষ্টি রাখছে। ইতোমধ্যে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে নদীরপাড় এলাকার এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যখন যেভাবে প্রয়োজন পাবনা জেলা প্রশাসন তখন সেখানে সেভাবে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের দেওয়া তথ্যমতে, এ মওসুমে ঈশ্বরদীর পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে বিভিন্ন ফসলের আবাদ হয়েছে প্রায় এক হাজার হেক্টর জমিতে। ইতোমধ্যে পদ্মা নদীতে অস্বাভাবিকভাবে পানি বৃদ্ধির ফলে চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকার আবাদি ফসল তলিয়ে গেছে। তলিয়ে যাওয়া ফসলের অধিকাংশই দরিদ্র কৃষকদের। কৃষকরা জানান, আর দু-একদিন এভাবে পানি বাড়তে থাকলে পদ্মার চরে আবাদ করা বাকি জমির ফসলও তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উল্লেখ্য সর্বশেষ ২০০৩ সালে এই পয়েন্টে পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছিল।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ