হাসপাতালে কেমন আছে উদ্ধার হওয়া কিশোররা?

আপডেট: জুলাই ১৩, ২০১৮, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


প্রায় ৩ সপ্তাহ অন্ধকারে কাটিয়ে এলেও থাইল্যান্ডের গুহা থেকে উদ্ধার হওয়া কিশোররা বড় ধরনের কোনও স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিতে নেই; জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তারা জানিয়েছেন, গুহায় খাবারের অভাবে তাদের খানিকটা স্থাস্থ্যহানি হলেও কিশোররা তেমন কোনও সংকটে ছিল না। চিকিৎসকরা আশা প্রকাশ করেছেন, বেশিরভাগ শিশুকেই এক সপ্তাহ পর হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া যাবে।
গত ২৩ জুন ফুটবল অনুশীলন শেষে ২৫ বছর বয়সী কোচসহ ওই ১২ কিশোর ফুটবলার থাম লুয়াং নামের গুহাটির ভেতরে ঘুরতে গিয়েছিল। কিন্তু বৃষ্টিতে গুহার প্রবেশমুখ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা আটকা পড়ে। টানা ৯ দিন নিখোঁজ থাকার পর গত ২ জুলাই গুহার ভেতরে জীবিত অবস্থায় ১২ কিশোর ফুটবলারসহ তাদের কোচকে শনাক্ত করেন ডুবুরিরা। রোববার (৮ জুলাই) থাইল্যান্ড সরকার তাদের উদ্ধারে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ৩ দিনের সফল অভিযানের মধ্য দিয়ে সবাইকে বের করে আনা হয়।
উদ্ধার করার সঙ্গে সঙ্গে ১১ থেকে ১৬ বছর বয়সী ওই শিশু ফুটবলারদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। সংক্রমণ এড়াতে তাদের রাখা হয় সুরক্ষিত কক্ষে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিন কিশোরকে সামান্য নিউমোনিয়াজনিত জটিলতার জন্য চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বুধবার সকালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শক তোংচাই লের্তভিরাইরাতানাপং বলেন, গুহায় থাকা অবস্থায় প্রত্যেক শিশুর ভর গড়ে দুই কেজি করে কমলেও তারা ‘ভালো অবস্থা’য় ছিল। তাদের স্বাস্থ্য অপেক্ষাকৃত ভালো থাকার কৃতিত্ব দেওয়া হয়েছে ২৫ বছর বয়সী কোচ এক্কাপল আকে চান্তাওংকে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শক বলেন, ‘শিশু ফুটবলারদের দেখাশোনা করেছেন যে কোচ তার প্রশংসা না করলেই নয়।’
তোংচাই লের্তভিরাইরাতানাপং বলেন, গুহায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করার আগের নয়দিনে শিশুরা কোনও খাবার খায়নি, তারা গুহার ঘোলাটে পানি পান করেছে। তাতেই তাদের জীবন বেঁচে গেছে। মঙ্গলবার (১০ জুলাই) কর্তৃপক্ষ জানায়, শিশুদের কেউ কেউ চকলেট মাখানো পাউরুটি খেতে চেয়েছে। তবে বেশিরভাগ সময় তাদেরকে প্রোটিন ও নিউট্রিয়েন্টযুক্ত দুগ্ধজাতীয় খাবার দেওয়া হচ্ছে।
গুহার ভেতরে শিশুদের সহায়তা দেওয়ার জন্য থাই নেভি সিলের কয়েকজন সদস্য ও একজন চিকিৎসক তাদের সঙ্গে ছিলেন। চূড়ান্ত অবিযান শেষ হওয়ার পর তারাও গুহা থেকে বের হয়ে আসেন। তাদেরকেও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শক বলেন, ‘কারও কারও মাংসপেশীতে সংক্রমণ হয়েছে, ঠা-া লেগেছে, জ্বর হয়েছে এবং কয়েকজন মনোবিজ্ঞানী তাদের চাপ কমাতে সহায়তা করছেন।’
থাই গুহার এ অভিযান এতোটাই কষ্টসাধ্য ছিল যে ভীষণ অভিজ্ঞ গুহা ডুবুরিদের কেউ কেউও বলছেন, এটি জটিল উদ্ধার অভিযানগুলোর জন্য নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বুধবার (১১ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের এশিয়াবিষয়ক ব্যবস্থাপক গ্লেন ম্যাকইওয়েন বলেন, ‘অভিযানের জটিলতা, মাত্রা ও ঝুঁকি নজিরবিহীন রকমের ছিল।’
উল্লেখ্য, থাইল্যান্ডের বড় গুহাগুলোর মধ্যে থাম লুয়াং একটি। উত্তরাঞ্চলীয় চিয়াং রাই প্রদেশের মায়ে সাই শহরের পর্বতগুলোর নিচে এর অবস্থান। এলাকাটির একটি সীমিত অংশ পর্যটকদের অনুকূলে। বেশিরভাগ এলাকাই অনুন্নত। এ গুহা থেকে শিশুদের বের করে আনতে তিন দিনের ওই শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের ফুটেজ প্রকাশ করেছে থাই নেভি সিল। সেখানে দেখা গেছে, কীভাবে বিশেষজ্ঞ ডুবুরিরা বিপজ্জনক পথ পাড়ি দিয়ে শিশুদের উদ্ধার করে আনছেন।