হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে টাকা মোবাইল হারাচ্ছে রোগি-স্বজনরা

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯, ১:৫৯ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


বুধবার বেলা সাড়ে বারোটা। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগ। তড়িঘড়ি করে পুলিশকে খুঁজছেন এক নারী। পুলিশেকে পেয়ে তিনি জানালেন, তার ব্যাগে রাখা ৩ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোনটি একটু আগে চুরি হয়ে গেছে। হাতের ব্যথা নিয়ে বেলা ১২টায় বহির্বিভাগের অর্থপেডিকস ডাক্তার দেখানোর টিকিট কাটার লাইনে টিকিট কেটে ৩৪ নম্বর রুমের কাছে যেতেই ভ্যানিটি ব্যাগের চেইন খোলা দেখতে পান তিনি। টিকিট কাটার কাজে ব্যস্ত থাকার সুযোগে ব্যাগ থেকে টাকা ও মোবাইল ফোনটি বের করে নিয়েছে চোর। পুলিশকে তিনি জানালেন, এক নারী তাকে ফলো করছিলেন। তবে পুলিশ খুঁজেও সন্দেহভাজন ওই নারীকে খুঁজে পেলেন না। রাবেয়া খাতুন নামের ওই নারী জানান, তার ব্যাগের ভেতরে ৩ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন ছিলো। এখন শুধু খুচরা টাকাগুলো ব্যাগে পড়ে রয়েছে। বাড়ি যাওয়ার ভাড়া পর্যন্ত নেই। তাই হাসপাতালের পরিচিত এক বড় ভাইয়ের কাছে টাকা ধার নিয়ে বাড়ি ফিরবেন।
পুলিশ জানান, সিসিটিভি না থাকায় চোরকে চিহ্নিত করা কঠিন। ভিড়ের মধ্যে কে চুরি করেছে তা-ও নিশ্চিত হওয়া যায় না। মাঝে মাঝে দুই একজনকে ধরে থানায় নেয়া হলেও কিছু দিনের মধ্যে তারা ছাড়া পেয়ে যায়। তবে পরবর্তীতে হাসপাতালের আশেপাশে দেখলে তাদের বাইরে বের করে দেয়া হয়।
তবে সিসিটিভি না থাকায় রামেক হাসপাতালে এমন ঘটনা এখন নিত্যদিনের। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, গত সপ্তাহ থেকে অনেক রোগী ও তার স্বজনের মোবাইল ও টাকা চুরি গেছে। পুঠিয়া থেকে বোনের চিকিৎসা করাতে এসছিলেন হেলেনা বেগম। তার সাথেও এমন ঘটনা ঘটেছে। চিকিৎসা নিতে আসা মেহেদী হাসান জানান, তার বন্ধুর বোনের সাথেও এমন ঘটনা ঘটেছে। সবার সামনেই ভ্যনিটি ব্যাগের ভেতর থেকেই চুরি যাচ্ছে টাকা ও মোবাইল ফোন।
হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও চিকিৎসকরা জানান, একটা সিন্ডিকেট এই চুরিচক্রের সাথে জড়িত। তা না হলে এমন ঘটনা প্রতিদিন ঘটতো না। বর্তমানে এই সমস্যা অনেকটা বেড়েছে। চিকিৎসকদের কাছে দেখানোর সময় রোগী ও তার স্বজনরাও অভিযোগ করেন।
তবে অনেক দূরদূরান্ত থেকে রোগিরা আসায় থানায় অভিযোগ করতেও ভয় পান তারা। অনেকে বাড়তি ঝামেলায় পোহাতে চান না বলে অভিযোগও করতে চান না।
এই বিষয়ে এক পুলিশ সদস্যের সাথে কথা বলা হলে তিনি জানান, হাসপাতাল থেকে টাকা চুরি কিংবা কোনো জিনিস খোয়া যাওয়ার বিষয়ে রাজপাড়া থানায় জিডি করা হলে আমাদের পক্ষে কাজ করা সহজ হয়। মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং করে কাজ করায় সুবিধা হয়। তবে সবচেয়ে ভালো হয় যদি হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণে সিসিটিভি থাকে ও নারীদের জন্য কিছু নারী পুলিশকে হাসপাতালে দায়িত্ব দেয়া হয়। হাজার হাজার রোগির বহির্বিভাগে মাত্র দুইজন কনস্টেবল ডিউটিতে থাকে- যা রোগি-স্বজনদের চেয়ে অনেক কম।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে কর্মরত আনসার ও পুলিশ সবাই পুরুষ। কিন্তু হাসাপাতালে বেশিরভাগ রোগি আসে নারী। কিছু নারী পুলিশ সদস্যকে হাসপাতালে দায়িত্ব দেয়া অনেক জরুরি হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে নগর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার গোলাম রহুল কুদ্দুস জানান, বিষয়টি আমার জানা ছিলো না। আমি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলবো। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই বিষয়গুলো নিয়ে পদক্ষপে নিলে ভালো হয়।
রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, এমন ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। চোরকে নিশ্চিত করে থানায় দিলে চোররা কয়েকদিনের মাথায় জামিন নিয়ে ছাড়া পেয়ে যায়। এই জন্য অনেক দালালের ছবি আমরা বহির্বিভাগে ঝুলিয়ে রেখেছি যেন সবাই সচেতন হয়। আজকের বিষয়টি নিয়ে কাল সকল আনসার সদস্যদের বলবো আর বহির্বিভাগে যেন পর্যাপ্ত সিটিটিভি বসানো হয় সে বিষয়ে পরিচালককে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার চেষ্টা করা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ