বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

হাসপাতালে তথ্য প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার সুমতির জন্য সাধুবাদ

আপডেট: January 16, 2020, 12:56 am

সমালোচনার মুখে হাসপাতালগুলোতে সাংবাদিকদের প্রবেশ ও তথ্য সংগ্রহ বিষয়ে দেয়া নির্দেশনাটি প্রত্যাহার করে নিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। তাদের নতুন নির্দেশনায় হাসপাতালের তথ্য প্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত বিষয় বাদ দিয়ে দর্শনার্থী ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বলা হয়েছে।
১৪ জানুয়ারি উপ-সচিব মো. আবু রায়হান মিঞার স্বাক্ষরে নতুন নির্দেশনাটি প্রকাশ করা হয়।
নতুন নির্দেশনায় দেখা গেছে, সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে গত ১২ জানুয়ারি দেয়া নির্দেশনায় যে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছিল তা বাদ দেয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সম্প্রতি রাজশাহী সফরে আসলে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে রামেক হাসপাতালে তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করেন এবং সংবাদ সংগ্রহে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুমতির লাগবে বলেও জানান। ১২ জানুয়ারি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মো. আবু রায়হান মিঞা স্বাক্ষরিত বিতর্কিত নির্দেশনায় বলা হয়েছিল গবেষণা, জরিপ, অন্য কোনো তথ্য বা সংবাদ সংগ্রহের জন্য তথ্য সংগ্রহকারী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন। সংগৃহীত তথ্য বা সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতার বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন। বিনা অনুমতিতে হাসপাতালের ভেতরে রোগী বা স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের কোনও স্থিরচিত্র বা ভিডিওচিত্র ধারণ করতে পারবেন না। সংগৃহীত তথ্য প্রকাশের আগেই বস্তুনিষ্ঠতার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সম্মতি গ্রহণ করতে হবে।
এই নির্দেশনা জারির পর পর এটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়, গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত সংবাদও প্রকাশিত হয়। তারপরই মন্ত্রণালয় তাদের আগের নির্দেশনা থেকে সরে আসে। কিন্তু সংবাদ মাধ্যম নিয়ে কেন এই ভীতি। ভীতি তখনই আসে যখন বিষয়টির প্রতি কোনো দুর্বলতা থাকে। কর্তৃপক্ষের এই মানসিক অবস্থা দীর্ঘ বছর ধরেই চলে আসছে। কিন্তু তাতে কোনো সমস্যার সমাধান হয়েছে বলে মনে হয় না। বরং এর ফলে জটিলতারই সৃষ্টি হয়। গণতন্ত্রের অপরিহার্যতা নির্ভর করে অবাধ তথ্যপ্রবাহের ওপর। এই তথ্যপ্রবাহ জনগণের জন্য- যা তাদের অধিকারবিশেষ। আর সংবাদ মাধ্যম দেশের মানুষেরই প্রতিনিধিত্ব করে। অবাধ তথ্যপ্রবাহ এক অর্থে জনগণের কাছে ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহিতাও। এটাকে বিঘ্নিত করার যে কোনো প্রয়াসই গণতন্ত্রের জন্যই ক্ষতিকর। এরফলে আইনের শাসনও উপেক্ষিত হয়। বরং তথ্যপ্রবাহ অবারিত থাকলে তথ্যবিভ্রাটও সহনশীল পর্যায়ে থাকে। সন্দেহ নেই সংবাদ মাধ্যম দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে কাজ করে থাকে। তাই সংবাদ মাধ্যম উন্নয়নেরও সহায়ক।
বর্তমান সরকার অবাধ তথ্যপ্রবাহ এবং দুনীর্তির বিরুদ্ধে দৃঢ়তর অবস্থান নিয়েছে। সরকারের এই অবস্থানকে আরো সুদৃঢ় করতে পারে সংবাদ মাধ্যমই। যাহোক, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাদের ভুল বুঝতে পেরে নির্দেশনা প্রত্যাহার করায় তাদের সাধুবাদ জানাই।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ