হাসপাতালে দালালবিরোধী অভিযান অভিযান নিয়মিত হবে কি?

আপডেট: নভেম্বর ১২, ২০১৯, ১:০৯ পূর্বাহ্ণ

৭ নভেম্বরের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগের শৃঙ্খলা পরিস্থিতি একেবারে উল্টো ছিল। প্রতিদিনের যে বিশৃঙ্খলা, দালালদের দৌরাত্ম সেটা ছিল না। হাসপাতালের বহির্বিভাগের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিকে খুবই ‘স্বাভাবিকভাবে’ দেখে অভ্যস্থ হয়েছেন রোগিরা এবং এর ফলস্বরূপ হয়রানি ও লাঞ্ছনার সম্মুখিন হয়েছেন তারা। বরং এর উল্টো পরিস্থিতিটাই ‘অস্বাভাবিক’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু ৭ নভেম্বরের চিত্রটা ছিল প্রত্যাশিত, খুবই প্রত্যাশিত। হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনেরা তেমনি পরিবেশ কামনা করেন। কিন্তু সেই পরিবেশটা পাওয়া যায় না। সেখানে রোগী ও স্বজনদের নানা ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ধকল সইতে হয়। যেটা চিকিৎসা সেবার জন্য অনুকূল পরিবেশ নয়।
দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ৭ নভেম্বর হাসপাতালের বহির্বিভাগ দালালমুক্ত ছিল। দালালবিরোধী অভিযান চলায় হাসপাতালে তাদের টিকিটি পর্যন্ত দেখা যায় নি। রোগিরা শৃঙ্খলায় ও স্বস্তির মধ্যে চিকিৎসাসেবা নিতে পেরেছেন। অভিযানকালে পাঁচ দালালকে আটক করা হয়। এর মধ্যে তিনজনকে কারাদণ্ড ও দুই জনকে অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। অভিযান শুরু করা হয় সকাল দশটা হতে দুপুর দুইটা পর্যন্ত। রামেক হাসপাতালের চিকিৎসকগণও এই অভিযানের ফলে দীর্ঘদিন পর চিকিৎসাসেবা দিতে স্বস্তিবোধ করেছেন। চিকিৎসকদের মতে সুষ্ঠু চিকিৎসাসেবা দেয়ার ক্ষেত্রে দালালরা বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এই অভিযানকালীন সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে রোগিরা চিকিৎসাসেবা নিতে পেরেছেন। এ জন্য তারা সন্তুষ্ট- এমন পরিবেশই তারা চায়।
বিভিন্ন সময়ে দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী হাসপাতালে দুই শতাধিক পুরুষ ও নারী দালাল নির্বিঘ্নে দাপিয়ে বেড়ায়। তারা ‘ধরাকে সরা জ্ঞান’ করে। রোগী বা রোগীর স্বজন প্রতিবাদ করলে দালালরা মারমুখি আচরণ করে, কখনো বা হেনস্থা করতেও ছাড়ে না। দালালরা রোগিদেরকে তাদের পছন্দের কিèনিকে নিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করাতে বাধ্য করে এবং রোগিদের কাছ থেকে কয়েকগুন অর্থ হাতিয়ে নেয়। এ ছাড়াও হাসপাতালে মোবাইল ফোন ও টাকা খোয়ানোর ঘটনা প্রায় নিত্যদিনের। দালালদের দৌরাত্ম নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে প্রায়ই প্রতিবেদন প্রকাশ হয় কিন্তু তাদের দৌরাত্ম্য কমানোর কোনো উদ্যোগ কর্তৃপক্ষ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন। এর ফলে দালালরা নিজেদের শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলতে পেরেছে। সংবাদ সূত্র মতে এর পিছনে হাসপাতালের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ডাক্তারদের আশ্রয়-প্রশ্রয় আছে।
তবে হাসপাতালে নিয়মিত দালালবিরোধী অভিযান পরিচালিত না হলে ৭ নম্বেরের পরিবেশ রক্ষা করা যাবে না। দালালরা আবারো তাদের দৌরাত্ম্য চালিয়ে যেতে পারবে এবং রোগী ও স্বজনরা যে ভাবে নিগৃহীত ও নিঃস্ব হচ্ছিল সেটা হতেই থাকবে। হাসপাতালে দালালবিরোধী অভিযান নিয়মিত পরিচালনাই হবে রোগিদের হাসপাতালে সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার অনেকটাই নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ