হাসপাতালে পচা পাউরুটি, কলা সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১, ২০১৯, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ

হাসপাতালের রোগিদের জন্য পচা পাউরুটি, পচা কলাÑ খুবই মারাত্মক ব্যাপার। হাসপাতালে কেউ সাধ করে যায় নাÑ অসুখে সুস্থ হতেই হাসপাতালে যেতে হয়, ভর্তি থাকতে হয়- চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হতে হয়। কিন্তু সেই রোগিদেরই যদি পচা খাদ্য সরবরাহ করা হয়Ñ তা হলে বিষয়টি কেমন দাঁড়াবে? এটা অনেকটা ‘মরার ওপর খাড়ার ঘা’- এর মত নয় কি! রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এমনই এক খবর দৈনিক সোনার দেশসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। জনমনে বিষয়টি ক্ষোভ ও উদ্বেগের কারণ হয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ২৯ আগস্ট সকালে হাসপাতালের রোগিদের নাশতায় পচা পাউরুটি ও পচা কলা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। রোগি বা রোগির স্বজনরা ওই খাবার গ্রহণ করার পর কেউ তা মুথে নিতে পারে নি, ফেলে দিয়েছেন। কিন্তু এটা কীভাবে হলো? এটাকে কি শুধুই ভুল বলা যাবে? হাসপাতালের একজন, দুজন রোগি ওই পচা পাউরুটি ও কলা সরবরাহ পাননিÑ সব রোগিদের জন্য ওই পচা পাউরুটি ও কলা সরবরাহ করা হয়েছে। অর্থাৎ জেনে-বুঝেই ওই অখাদ্য সরবরাহ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে দুর্নীতির ব্যাপারটা চলে আসছে।
রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক দুর্গন্ধযুক্ত পাউরুটি সরবরাহের বিষয়টি অনেকটা স্বীকার করেও নিয়েছেন। তবে তিনি ঘটনাকে আড়াল করতেও চেয়েছেন- যা হাস্যকরই মনে হয়েছে। সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেছেন- ‘বিষয়টি আমি শুনেছি তবে পাউরুটিগুলো পচা না। আসলে পাউরুটিগুলো গরম থাকা অবস্থায় প্যাকেট করা হয়েছে। কিছু প্যাকেট ফুটো না করায় গ্যাস বের হয়নি। তাই কিছুটা সমস্যা হয়েছে।’ পাউরুটি যে গরম থাকা অবস্থাতেই প্যাকেট করা হয়েছে এ তথ্য তিনি কীভাবে পেলেন। তার বক্তব্যই যদি সঠিক হয় তা হলে দুর্গন্ধময় পাউরুটি রোগিদের মধ্যে সরবরাহের উদ্যোগই নিলেন কেন সংশ্লিষ্টরা? তবে পচা কলা সরবরাহের ব্যাপারে তার কোনো বক্তব্য সংবাদ মাধ্যমে আসে নি।
যাহোক, রামেক হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও রাজশাহী সদর আসনের সাংসদ ফজলে হোসের বাদশা ঘটনায় বিব্রত ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একই সাথে অভিযোগ তদন্ত করে সাত দিনের মধ্যে ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। দোষ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের সনদ বাতিলসহ আইনি ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া বাঞ্ছনীয়। যে বা যারা রোগিদের খাদ্য নিয়ে নয়-ছয় করেছে তাদের অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। তবে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হতে হবে। শ,ুধু ঠিকাদারকে লক্ষ্য করে তদন্ত করলে ঘটনার সাথে অন্য কোনো পক্ষ জড়িত থাকলে তারা আড়াল হয়ে যাবে। ভেতরের যোগসাজস উড়িয়ে দেয়া যায় না। সুষ্ঠু তদন্তের মধ্যেই কেবল প্রকৃত দোষিরা সনাক্ত হবে- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ