হাসপাতাল থেকে কারাগারে খালেদা

আপডেট: নভেম্বর ৯, ২০১৮, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


খালেদা জিয়াকে গতকাল হাসপাতাল থেকে কারাগারে নেয়া হয়-সংগৃহীত

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে রেখে এক মাস চিকিৎসা দেয়ার পর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে নাজিমুদ্দিন রোডের পুরানো কেন্দ্রীয় কারাগারে।
সেখানে ঢাকার নবম বিশেষ জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাসে খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে নাইকো দুর্নীতি মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরু হয়েছে দীর্ঘ দিন পর।
বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে খালেদাকে হাসপাতাল থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার পর হুইল চেয়ারে করে এজলাসে হাজির করা হয়। শুনানির প্রথম দিন এ মামলার অন্যতম আসামি মওদুদ আহমদ নিজেই তার অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরু করেন।
পরে আদালত ১৪ নভেম্বর মামলার পরবর্তী তারিখ রেখে শুনানি মুলতবি করেন। সেদিন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি হওয়ার কথা।
বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এখন অনেকটাই স্থিতিশীল। তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে।
তবে আদালতে গিয়ে খালেদাকে দেখে এসে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তিনি এখনও ‘দারুণ অসুস্থ’।
জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কারাদ- হলে গত ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নাজিমুদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত এই কারাগারেই রাখা হয়েছিল। চিকিৎসার জন্য উচ্চ আদালতের নির্দেশে গত ৬ অক্টোবর তাকে কারাগার থেকে নেয়া হয় বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে।
তিনি হাসপাতালে থাকা অবস্থায় ২৯ অক্টোবর কারাগারের ভেতরে বসানো জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাস থেকেই জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট মামলার রায় আসে, সেখানে তাকে সাত বছরের কারাদ- দেয়া হয়। পরদিন হাই কোর্টে জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার আপিল রায়ে তার সাজা পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করা হয়।
এ দুই মামলার রায় আসার পর জরুরি অবস্থার সময় দায়ের করা নাইকো দুর্নীতি মামলার শুনানি শেষ করতে উদ্যোগী হয় সরকার।
এজলাস স্থানান্তর
এতদিন বকশীবাজারে কারা অধিদপ্তরের প্যারেড মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী এজলাসে বসে ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মাহমুদুল কবির নাইকো দুর্নীতি মামলার কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। কিন্তু খালেদা জিয়াকে হাজির করতে না পারায় এবং অপর আসামি মওদুদ আহমদের বার বার সময়ের আবেদনে গত ডিসেম্বর থেকে এ মামলা অভিযোগ গঠনের শুনানি পর্যায়ে আটকে ছিল।
এর মধ্যেই এ মামলার কার্যক্রম স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়ে বুধবার একটি আদেশ জারি করে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ।
যুগ্ম সচিব (প্রশাসন) বিকাশ কুমার সাহা স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, “নিরাপত্তাজনিত কারণে এ মামলার বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করিবার জন্য ঢাকা মহানগরের ১২৫ নাজিমুদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের কক্ষ নম্বর ০৭ কে অস্থায়ী আদালত হিসেবে ঘোষণা করা হল।”
হাসপাতাল থেকে কারাগার
সরকার আদালতের এজলাস স্থানান্তরের আদেশ জারির পর নাইকো মামলার প্রধান আসামি খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শাহবাগে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল এবং নাজিমুদ্দিন রোডে কারাগার এলাকায় নেওয়া হয় ব্যাপক নিরাপত্তা।
বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে পুলিশের একটি কালো এসইউভি বঙ্গবন্ধু মেডিকেল থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদাকে নিয়ে পুরান ঢাকায় কারাগারের পথে রওনা হয়। ১৫ মিনিটের মাথায় গাড়িটি কারাভবনের মূল ফটক দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে।
আর খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত জিনিসপত্র সকালেই একটি গাড়িতে করে হাসপাতাল থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয় বলে একজন কারা কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ আল হারুন সাংবাদিকদের বলেন, “দীর্ঘ এক মাস চিকিৎসা শেষে উনি (খালেদা জিয়া) আজকে ১১টা ৩০ মিনিটে উনার নিজ আবাসস্থলে ফিরে গেছেন। উনার শারীরিক অবস্থা যথেষ্ট স্থিতিশীল আছে এবং আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে চেষ্টা করেছি, উনাকে চিকিৎসা সহায়তা দেয়ার জন্য।”
পরিচালক বলেন, কারা কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন মনে করলে এবং সহায়তা চাইলে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের চিকিৎসক দল কারাগারে গিয়ে তাকে চিকিৎসা দিয়ে আসবে।
নাইকে দুর্নীতি মামলা
ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনটি গ্যাসক্ষেত্র পরিত্যক্ত দেখিয়ে কানাডীয় কোম্পানি নাইকোর হাতে তুলে দিয়ে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার ক্ষতি করার অভিযোগে মামলাটি করা হয়।
২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় মামলাটি দায়ের করে দুদক। তদন্তের পর ২০০৮ সালের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা পড়ে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ছাড়া মামলার অপর আসামিরা হলেন- সাবেক মন্ত্রী মওদুদ আহমদ, সাবেক প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, সাবেক সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া এবং নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ