হিরের সুতো দিয়ে এ বার তৈরি হবে কাপড়!

আপডেট: নভেম্বর ১২, ২০১৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ণ


সোনার দেশ ডেস্ক
সে একটা যুগ ছিল। যখন মণি-মুক্তো খচিত, হিরে বসানো জামাকাপড় পড়তেন রাজা রানিরা। সোনার পাড় দেয়া, রূপোর ঝালর বসানো পোশাকে সেজে উঠতেন রাজকুমার-রাজকুমারী। কিন্তু আজ সেই দিন অতীত। সে রাজাও নেই আর রাজত্বও নেই। কিন্তু হিরে তো আছে। সেই হিরেকেই ফের পোশাকে ফিরিয়ে নিয়ে আনতে চাইছেন পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক দল বিশেষজ্ঞ। কিন্তু এ বার আর পুরনো স্টাইলে জামার কাপড়ের ওপর হিরে বসানো নয়, এক্কেবারে হিরের সুতোয় জামা বানাতে চাইছেন বিজ্ঞানীরা। আর সেই কারণেই এই বিশেষজ্ঞদল আবিষ্কার করেছেন ডায়মন্ড ন্যানোথ্রেড বা ডিএনটি। গত বছরই কার্বন ন্যানোটিউবের মতো এই ডায়মন্ড ন্যানোটিউব তৈরি করেছিলেন ওই বিশেষজ্ঞদল। যা একটি ফাঁপা সিলিন্ডারের মতো টিউব। তবে মাথার চুলের থেকেও দশ হাজার গুণ ছোট। কিন্তু এই টিউব স্টিলের থেকেও বেশি মজবুত।
অস্ট্রেলিয়ার ক্যুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি দলও ডিএনটি’র উপর দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। সম্প্রতি ‘ডায়মন্ড ন্যানোস্কেল’ নামক একটি আন্তর্জাতিক সায়েন্স জার্নালে এই দলের অন্যতম বিজ্ঞানী হাইফেই ঝ্যান জানান, এই নতুন ডিএনটি শুধুমাত্র কাপড়ের ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা হবে তা নয়। এর ব্যবহার হবে অনেক বিস্তৃত। টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি থেকে গাড়ি শিল্প সব জায়গাতেই ডায়মন্ড ন্যানোথ্রেড-এর ব্যবহার বাড়বে আগামী দিনে। ঝ্যান আরও জানান, এই ডিএনটি ঠিক সাধারণ হিরের মতো দেখতে নয়। এটি কার্বন অণুগুলোর এক ধরনের বিন্যাস, যা হিরের বিন্যাসের প্রায় কাছাকাছি।
তবে ঝ্যানের মতে, ডিএনটি খুবই টেকসই, মজবুত এবং হালকা ওজনের হওয়ায় মেকানিক্যাল কাজে তা যথেষ্ট কাজে আসবে। শুধু তাই নয়, বুলেট প্রুফ জ্যাকেট তৈরিতে, সেতু নির্মাণে স্টিল কেবলের বদলেও ব্যবহার করা যাবে এই ডিএনটি। মনে করা হচ্ছে, স্পেস এলিভেটর থেকে বিল্ডিং নির্মাণ সর্বক্ষেত্রেই এই ডায়মন্ড ন্যানোথ্রেড ব্যবহার করা যাবে।
ঝ্যান জানান, এ বিষয়টি দ্রুত কার্যকরি করতে গ্লোবাল কার্বন কম্যুনিটির সঙ্গে কথা বলা হয়েছে।- আনন্দবাজার পত্রিকা