১০৪০ টাকায় কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা শুরু রাজশাহী বিভাগে লক্ষ্যমাত্রা ২৬ হাজার ৬৪৩ টন

আপডেট: মে ২১, ২০১৯, ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


জমি থেকে ধান কেটে মাড়াইয়ের জন্য নিয়ে আসছেন শ্রমিক। ছবিটি সম্প্রতি তানোর উপজেলা রাতুল গ্রাম থেকে তোলা সোনার দেশ

রাজশাহীতে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে বোরো ধান কেনা শুরু করেছে সরকার। গতকাল সোমবার রাজশাহীর কয়েকটি উপজেলায় এ ধান কেনা উৎসবের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সাংসদরা। এবছর ধানের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার ৪০ টাকায়। তবে ধান কেনা শুরু হয়েছে নির্ধারিত সময়ের প্রায় ২৪ দিন পর।
আঞ্চলিক খাদ্য অধিদফতরের হিসাবে, রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় এবার বোরো ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৬ হাজার ৬৪৩ টন। এর মধ্যে রাজশাহী জেলায় ২ হাজার ১২ টন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক হাজার ৪৪৬ টন, নওগাঁয় ৫ হাজার ৬৬২ টন, নাটোরে ২ হাজার ১১৫ টন, পাবনায় ১ হাজার ৯২৫ টন, সিরাজগঞ্জে ৫ হাজার ৮৮৩ টন, বগুড়ায় ৫ হাজার ৫৮৬ টন এবং জয়পুরহাটে ২ হাজার ১৪ টন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোমবার রাজশাহী অঞ্চলের জেলায় জেলায় শুরু হয়েছে বোরো ধান কেনা। বিভিন্ন সংসদীয় এলাকায় স্থানীয় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত থেকে ধান কেনার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। ধান কেনা নজরদারি করছেন প্রত্যেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা। এবার প্রতি কেজি বোরো ধান কেনা হচ্ছে ২৬ টাকা দরে। সে হিসাবে প্রতি মণ ধানের দাম পড়ছে এক হাজার ৪০ টাকা।
খাদ্য অধিদফতরের স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন, ২৫ এপ্রিল থেকে বোরো ধান কেনার কথা ছিল। কিন্তু কৃষকের তালিকা তৈরিতে বিলম্ব হওয়ায় ধান কেনা শুরু করতে বিলম্বিত হয়। এ কার্যক্রম চলবে আগামি ৩১ আগস্ট পর্যন্ত।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কয়েক বছর ধরে স্থানীয় ধান কেনা কমিটির উপদেষ্টা ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানরা। এবার উপদেষ্টা হয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্যরা। এই কমিটির অনুমোদিত তালিকা ধরেই কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা শুরু হয়েছে।
সোমবার সকালে জেলার পুঠিয়া উপজেলায় বোরো ধান সংগ্রহের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ডা. মনসুর রহমান। এ সময় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জিএম হিরা বাচ্চু ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওলিউজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
এরই মধ্যে দুপুরে ধান কেনা শুরু হয়েছে রাজশাহীর তানোরে। তানোর পৌর সদরের গোল্লাপাড়া খাদ্যগুদামে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাসরিন বানু উপস্থিত ছিলেন।
একই সময় জেলার অন্যান্য উপজেলাতেও বোরো ধান কেনা শুরু হয়। বোরো ধান ছাড়াও চাল ও গম কেনা হচ্ছে একইসঙ্গে। সরাসরি কৃষকের কাছ থেকেই ধান, গম ও চাল কেনা হচ্ছে।
রাজশাহীর খাদ্য নিয়ন্ত্রক নাজমুল হক ভূঁইয়া বলেন, উপজেলার কৃষকদের তালিকা তৈরিতে জটিলতার কারণে কিছুটা বিলম্বে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হবে।