১০ জীবন বীমা কোম্পানির তহবিল কমেছে ৩৭৬ কোটি টাকা ব্যাখ্যা চেয়েছে আইডিআরএ

আপডেট: আগস্ট ২৭, ২০১৮, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


প্রিমিয়াম আয়ের বিপরীতে ব্যবস্থাপনা ব্যয় ও আনুষঙ্গিক কিছু খরচ বেড়ে যাওয়ায় চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে বিদেশী জীবন বীমা কোম্পানি এলআইসি বাংলাদেশের জীবন বীমা তহবিল ১ কোটি ৪ লাখ টাকা কমে গেছে। একইভাবে জীবন বীমা খাতের পুরনো অনেক কোম্পানিরও লাইফ ফান্ড কমেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কমেছে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের। দাবি পরিশোধে এগিয়ে থাকা কোম্পানিটির জীবন বীমা তহবিল কমেছে ১৩৩ কোটি ১১ লাখ টাকা। হিসাব বছরের প্রথম তিন মাসে ফারইস্ট ইসলামী লাইফের তহবিল কমেছে ১০১ কোটি টাকা। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) সূত্রে জানা গেছে, প্রথম প্রান্তিকে সব মিলিয়ে ১০টি জীবন বীমা কোম্পানির নিট জীবন বীমা তহবিল ৩৭৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা কমেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, কোনো কোম্পানির জীবন বীমা তহবিল কমে যাওয়ার অর্থ হলো, তাদের গ্রাহক ও বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি বাড়ছে। কারণ আইন অনুযায়ী জীবন বীমা তহবিলের ৯০ শতাংশের মালিক বীমা গ্রাহক। বাকি ১০ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের।
জীবন বীমা তহবিল কমে যাওয়া প্রসঙ্গে এলআইসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অরূপ দাসগুপ্ত বলেন, ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা ব্যয় ছাড়াও আনুষঙ্গিক অনেক খরচ রয়েছে। এছাড়া নতুন কোম্পানি হিসেবে আমাদের কিছু বাড়তি ব্যয় তো রয়েছেই। মূলত এ কারণেই তহবিলের পরিমাণ কমে গেছে। ব্যবসা বাড়াতে পারলে এ সমস্যা আর থাকবে না।
তহবিল কমে যাওয়া অন্য কোম্পানিগুলো হলোÍ ফারইস্ট ইসলামী লাইফ, গোল্ডেন লাইফ, হোমল্যান্ড লাইফ, মেঘনা লাইফ, ন্যাশনাল লাইফ, পদ্মা লাইফ, প্রাইম লাইফ ও সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স।
তহবিল কমে যাওয়া প্রসঙ্গে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিএম ইউসুফ আলী বলেন, মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় সম্প্রতি ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি বীমা দাবি পরিশোধ করেছি আমরা, ফলে তহবিল কমেছে। আগামীতে আমাদের ব্যবসা আরো বাড়বে। তখন জীবন বীমা তহবিলও স্বাভাবিক অবস্থায় চলে আসবে।
বীমা তহবিল তথা গ্রাহক সঞ্চয় কমে যাওয়াকে গ্রাহকদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখছে আইডিআরএ। আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হওয়ার কারণেই তহবিলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে মনে করছে সংস্থাটি। সম্প্রতি জীবন বীমা তহবিল কমে যাওয়া এসব কোম্পানিকে কারণ দর্শাতে বলেছে সংস্থাটি। সেই সঙ্গে এ প্রবণতা রোধে কী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে, তা জনতে চেয়ে কোম্পানিগুলোকে চিঠি দিয়েছে আইডিআরএ। এছাড়া ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের খাতওয়ারি হিসাব পরীক্ষা করে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে ব্যয় সংকোচননীতি অনুসরণের নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে।
এ প্রসঙ্গে আইডিআরএর নির্বাহী পরিচালক (যুগ্ম সচিব) খলিল আহমদ বণিক বার্তাকে বলেন, আমরা কোম্পানিগুলোর কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছি। তাদের ব্যাখ্যা পাওয়ার পরই বলতে পারব, গ্রাহক সঞ্চয়ের অর্থ অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা হয়েছে কিনা। কোম্পানিগুলোকে অবশ্যই ব্যবসা বাড়াতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে সমস্যায় পড়বেন বীমা কোম্পানির গ্রাহকরা।
আইডিআরএর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ২২ কোটি ৬২ লাখ টাকা জীবন বীমা তহবিল কমেছে। আইন ভেঙে নির্ধারিত সীমার চেয়ে ৩৩৩ শতাংশেরও বেশি ব্যবস্থাপনা ব্যয় করেছে কোম্পানিটি। এসব বাড়তি ব্যয়ের কারণেই কোম্পানিটির জীবন বীমা তহবিল কমছে। আইডিআরএর হিসাবে, প্রথম বর্ষ প্রিমিয়াম আয়ের ৯০ শতাংশ ও নবায়ন প্রিমিয়াম আয়ের ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ব্যবস্থাপনা খাতে ব্যয় করতে পারে কোম্পানি। অথচ প্রথম বর্ষ প্রিমিয়াম আয়ের তুলনায় ৪৩৬ দশমিক ২৪ শতাংশ বেশি ব্যবস্থাপনা বাবদ ব্যয় করেছে পদ্মা লাইফ। অর্থাৎ ১০০ টাকা প্রিমিয়াম সংগ্রহের জন্য কোম্পানিটি প্রায় ৪৩৬ টাকা ব্যয় করেছে, যা নির্ধারিত ব্যয়সীমার চেয়েও প্রায় ৩৩৩ দশমিক ২৪ শতাংশ বেশি। তবে নবায়ন প্রিমিয়াম সংগ্রহে নির্ধারিত সীমার তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ কম ব্যয় দেখিয়েছে কোম্পানিটি।
পদ্মা ইসলামী লাইফের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. চৌধুরী মোহাম্মদ ওয়াসীউদ্দীন বলেন, আলোচ্য সময়ে আমাদের বীমা দাবি পরিশোধের হার অনেক পড়েছে, ফলে তহবিল কমেছে। একই কারণে আমরা ২০১৭ সালের জন্য বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দিতে পারিনি।
জানা গেছে, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ন্যাশনাল লাইফের জীবন বীমা তহবিল কমেছে ২৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। তহবিল কমে যাওয়া প্রসঙ্গে কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জামাল মোহাম্মদ আবু নাসের বলেন, দাবি পরিশোধ ছাড়াও আমাদের ব্যবস্থাপনা ব্যয় কিছুটা বেড়েছে। এ কারণে চলতি বছরের জীবন বীমা তহবিল কমেছে। আমরা বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।
এছাড়া প্রথম প্রান্তিকে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের তহবিল ১০১ কোটি ৫৩ লাখ, গোল্ডেন লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ১ কোটি, হোমল্যান্ড লাইফের ১ কোটি ৮৮ লাখ, মেঘনা লাইফের ৩৫ কোটি ১২ লাখ, প্রাইম ইসলামী লাইফের ৪০ কোটি ৫৪ লাখ ও সন্ধানী লাইফের তহবিল ৯ কোটি ৭২ লাখ টাকা কমেছে। তথ্যসূত্র: বণিক বার্তা