১৬ শতাংশ ফেসবুক আইডি ভুয়া অথবা নকল

আপডেট: February 17, 2020, 12:10 am

সোনার দেশ ডেস্ক


বিশ্বের সর্ব বৃহৎ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে যত আইডি আছে ব্যবহারকারীদের তার ১৬ শতাংশ আইডিই ভুয়া অথবা নকল।
সম্প্রতি জার্মানির পরিসংখ্যান ও বিশ্লেষণী সাময়িকী স্ট্যাটিসটা প্রকাশ করেছে এমনই তথ্য।
ফেসবুক সূত্রের বরাতে স্ট্যাটিসটা জানায়, এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পৃথিবীতে সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ২৪০ কোটি। তবে ফেসবুক এ আইডির সংখ্যা ব্যবহারকারীর সংখ্যার থেকেও বেশি।
ফেসবুক নিজেই জানায়, তাদের সাইটে যতো আইডি আছে, গ্রাহকদের তার ১৬ শতাংশই ভুয়া অথবা নকল। এখানে নকল বলতে একই ব্যক্তির একাধিক আইডিকে বোঝানো হচ্ছে বলে ফেসবুকের বরাতে জানায় স্ট্যাটিসটা।
স্ট্যাটিসটার পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৫ সালে সক্রিয় ব্যবহারকারীর তুলনায় এতে নকল আইডির অনুপাত ছিল প্রায় ৫ শতাংশ। এরপর ২০১৮ পর্যন্ত সেটি বাড়তেই থাকে। ’১৬ সালে এসে সেটি হয় ৬ শতাংশ, ’১৭ সালে ১০ শতাংশ এবং ’১৮ সালে তা এসে ১১ শতাংশে। ২০১৯ সালে নকল আইডির সংখ্যা না বাড়লেও, কমেনি অবশ্য।
অন্যদিকে ২০১৫ সালে ভুয়া আইডির অনুপাত ছিল দুই শতাংশের কিছু কম। ’১৬ সালে ছিল প্রায় এক শতাংশ। ’১৭ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ থেকে ৪ শতাংশে। তবে ’১৮ সালে ভুয়া আইডির অনুপাত আরও একটু বেড়ে হয় ৫ শতাংশ। অবশ্য সেটিও অপরিবর্তিত আছে ২০১৯ অবধি।
এদিকে ফেসবুকে থাকা এসব ভুয়া ও নকল আইডির বেশিরভাগই বিভিন্ন অপরাধ ও অপরাধমুখী কাজের সঙ্গে জড়িত বলে জানান সাইবার অপরাধ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিশেষজ্ঞরা।
সম্প্রতি ঢাকায় এক সেমিনারে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, শুধু ঢাকাতেই সাইবার ক্রাইমের যতো অভিযোগ আমরা পাই তার ১০ শতাংশই ফেসবুক সম্পর্কিত। আমরা মনে করি, প্রকৃত অর্থে যতো অপরাধের ঘটনা ঘটে তার ১০ শতাংশ আমাদের পর্যন্ত আসে। এর অর্থ, আরও অনেক অপরাধ আড়ালেই থেকে যায়।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বাংলানিউজকে বলেন, বিশ্বে ফেসবুকের সক্রিয় ব্যবহারকারীর আছেন প্রায় ২৪০ কোটি। সব থেকে বেশি ব্যবহারকারী ভারতের, প্রায় ২৬ কোটি। বাংলাদেশেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সক্রিয় ফেসবুক ব্যবহারকারী আছেন প্রায় সাড়ে তিন কোটি। এখন এদের ১৬ শতাংশ যদি ভুয়া বা নকল আইডির হয়ে থাকে তাহলেও প্রায় ৪৫ লাখ। বিপুল সংখ্যক এই ভুয়া ও নকল আইডি সত্যিই উদ্বেগজনক।
ফেসবুক ও বিভিন্ন সময় নিজস্ব এলগরিদমের মাধ্যমে ভুয়া ও নকল আইডি শনাক্ত করে বন্ধ করে দেয়। ফলে কেউ যদি ভিন্ন পরিচয়ে ফেসবুক আইডি ভালো উদ্দেশেই ব্যবহার করে থাকেন তাহলে জাতীয় পরিচয় পত্রের সঙ্গে মিল রেখে সঠিক নাম-পরিচয়, জন্ম তারিখ দিয়ে আইডি খোলার পরামর্শ দেন জোহা।
অন্যদিকে বাস্তব জীবনে অপরিচিত এমন ব্যক্তির অথবা সন্দেহজনক আইডির সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন তিনি।
তথ্যসূত্র: বাংলানিউজ