১ জুলাই থেকেই নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন : অর্থমন্ত্রী

আপডেট: এপ্রিল ১, ২০১৯, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম দিন (১ জুলাই) থেকেই নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন করবে সরকার। আগামী জুলাইয়ে বাস্তবায়ন হতে যাওয়া ভ্যাট আইনে একাধিক স্তর থাকবে, এক্ষেত্রে সিঙ্গেল রেটের পরিবর্তে সহনীয় মাল্টিপল রেট থাকবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তাফা কামাল।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের ক্ষেত্রে কোনও ভ্যাট দিতে হবে না। এ আইনের আওতায় ভ্যাট আদায়ে ফাঁকি রোধে ইলেকট্রনিক ফিসকাল ডিভাইস বা ইএফডি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হবে। ইএফডি কেনার প্রক্রিয়া এনবিআরে চলমান রয়েছে। অর্থাৎ কোনও প্রতিষ্ঠান থেকে ক্রেতা পণ্য কিনলে মূল্য ইলেকট্রনিক ক্যাশ রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে পরিশোধ করবে। যা থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ভ্যাটের দৈনিক ও মাসিক হিসাব পাওয়া যাবে। এমনকি এর মাধ্যমে ব্যবসায়ীর সব বেচা-কেনার তথ্যও সংরক্ষিত থাকবে। তাই ভ্যাট ফাঁকির কোনও সুযোগ থাকবে না। এছাড়া এই ভ্যাট আদায়ে ফাঁকি রোধে ইলেকট্রনিক ফিসকাল ডিভাইস ব্যবহারের জন্য এনবিআরে যে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে, তাতে একটি বড় কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে।’
রোববার (৩১ মার্চ) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) আবাসিক প্রতিনিধি রাগনার গুডমুন্ডসনের সৌজন্য সাক্ষাতের সময় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী জানান, নানা বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও বাংলাদেশের অর্থনীতি যেভাবে এগুচ্ছে, তা প্রশংসাযোগ্য। বাংলাদেশের ডেট টু জিডিপি পৃথিবীর মধ্যে অন্যতম কম। এটা একটি সরকারের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে নির্দেশ করে। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা সত্ত্বেও বাংলাদেশ গত ১০ বছরে সরকারের ধারাবাহিক সাফল্যে ৭ শতাংশের ওপরে প্রবৃদ্ধি অর্জনে সমর্থ হয়েছে এবং ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের প্রত্যাশা করছি। বর্তমানে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ১৯০৯ মার্কিন ডলার। আমরা এটা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ অবকাঠামো খাতে যেভাবে এগুচ্ছে, তা অচিরেই শিল্প বিনিয়োগকে আরও বেশি আকর্ষণ করবে।’
মন্ত্রী আইএমএফকে জানান, সরকার চাইছে ২০২৫ সালের মধ্যে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে শতভাগ কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দিতে। সরকার আশা করছে, উল্লিখিত পরিমাণ কর্মসংস্থান তৈরি হলে জাতীয় পর্যায়ে দরিদ্র্যের হার ১৬ ভাগে নেমে আসবে। এক্ষেত্রে, কর্মসংস্থান তৈরিতে সরকার কারিগরিভাবে দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তুলবে। এছাড়াও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরিতে সরকার ব্যয় বাড়াবে, যাতে করে বেসরকারি খাত বেশি মাত্রায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে ভূমিকা রাখতে পারে। সরকার ফাস্ট ট্র্যাক (অগ্রাধিক) প্রকল্পগুলো যথাসময়ে বাস্তবায়নে সবচেয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে। সবশেষে যে কাজটি সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে, তাহলো অভ্যন্তরীণ সম্পদ অর্জনে দক্ষতা দেখানো। এটা ঠিক আমাদের ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত এখনও কাঙ্খিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তবে এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কারের ব্যবস্থা করা হবে। মন্ত্রী ও আইএমএফের আবাসিক প্রতিনিধি রাগনার গুডমুন্ডসন রাজস্ব খাত সংস্কারে অটোমেশনের বিষয়ে আইএমএফের সঙ্গে এনবিআরের প্রকল্পটি নিয়ে আলাপ-আলোচনা করেন। বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল ও শক্তিশালী হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ। সংস্থাটির মন্তব্য, বাংলাদেশে সামাজিক সূচক উন্নত হয়েছে, মুদ্রাস্ফীতি কমেছে, বেড়েছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। তবে রাজস্ব ঘাটতি এখনও মাঝারি পর্যায়ে রয়েছে। বাজেট প্রণয়ন এবং এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া আরও উন্নত করার মাধ্যমে বাজেটের বিশ্বাসযোগ্যতা আরও সমৃদ্ধ করার সুযোগ রয়েছে।-বাংলা ট্রিবিউন