‘১ লাখ কোটি টাকার মাদক বাণিজ্য হয় বাংলাদেশে’

আপডেট: জুন ২৭, ২০১৯, ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেছেন, বছরে বাংলাদেশে প্রায় এক লাখ কোটি টাকার মাদক বাণিজ্য হয়। এতো বড় অর্থনীতি, যা আমাদের জাতীয় বাজেটের প্রায় এক পঞ্চমাংশ। এই মাদক আমাদের অর্থনীতি, দেশ, যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।
বুধবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ, ইউল্যাব অডিটোরিয়ামে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বেনজীর আজমেদ বলেন, আগে ভারতের সীমান্ত এলাকায় ফেনসিডিল কারখানাগুলো ছিলো। সেখান থেকে বাংলাদেশে ফেনসিডিল পাচার হতো। এখন মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশ পাচার হওয়া ইয়াবা ভয়াবহ আকারে রূপ ধারণ করেছে। কই মিয়ানমারের যুবকরাতো ইয়াবা খাচ্ছেনা, আমাদের যুবকরা কেন খাচ্ছে? তিনি বলেন, লাখ লাখ রোহিঙ্গা নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু মজার বিষয় হলো, যে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে ইয়াবা পাচারের সঙ্গে জড়িত তারা এখনো সেখানেই রয়ে গেছে। ইয়াবা জাতীয় হুমকিতে পরিণত হয়েছে।
বেনজির আহমেদ বলেন, এখন পর্যন্ত র‌্যাব ৭০০ কোটি টাকার বেশি মাদক জব্দ করেছে। প্রায় ২১ হাজার জনকে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে। মাদক কতটুকু নিয়ন্ত্রণ হয়েছে জানি না। তবে আগে যেখানে রাস্তাঘাটে প্রকাশ্যে ইয়াবা বিক্রি হতো, সেগুলো বন্ধ হয়ে গেছে।
“আমরা সাপ্লাই বন্ধে কাজ করছি। কিন্তু ডিমান্ড বন্ধ করতে না করতে পারলে, কোন না কোনভাবে মাদক প্রবেশ করবেই।”
মাদকবিরোধী যুদ্ধে ফলাফল বিচারের এখনো সময় আসেনি মন্তব্য করে বেনজীর আহমেদ বলেন, এ যুদ্ধে সকলের, সকল স্তরের জনগণের অংশগ্রহন জরুরী। সবাই মিলে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলে এ সমস্যা থেকে দেশকে মুক্ত করতে হবে।
তিনি বলেন, মাদক বিরোধী ধারাবাহিক অভিযানের পরেও প্রত্যন্ত অঞ্চলে মাদক পৌঁছে যাচ্ছে। কারণ মিয়ানমারের সঙ্গে কক্সবাজারের যে বিশাল সমুদ্র সীমানা, সেই এলাকায় লাখ লাখ নৌকা চলাচল করে। নিয়মিত এতোগুলো নৌযান স্কিনিং করা সম্ভব নয়। তারপরেও দীর্ঘ পরিশ্রমের পর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন সময় ইয়াবাসহ নৌযান আটক করা হয়।
তথ্যসূত্র: রাইজিংবিডি