২০১৯-২০ এর প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জিং বটে, অসাধ্য নয়

আপডেট: জুন ১৫, ২০১৯, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ

আওয়ামী লীগের তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বছরে পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত হয়েছে বৃহস্পতিবার। ২০১৯-২০ অর্থবছরের এই বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। এটি দেশের সর্বোচ্চ বাজেট প্রস্তাব। ব্যয় খাতে বরাদ্দ ৩ লাখ ২০ হাজার ৪৬৯ কোটি এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের মূল বাজেটের আকার ছিল ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। সংশোধনে তা ৪ লাখ ৪২ হাজার ৫৪১ কোটি টাকায় নেমে আসে। প্রায় এক লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকার ঘাটতি রেখেই এবারের বাজেট ঘোষিত হয়েছে।
এই বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারলে মূল্যস্ফীতি ৫.৫ শতাংশের মধ্যে আটকে রেখেই ৮.২০ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি পাওয়া সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী। অর্থনীতিবিদরা বাজেট ঘাটতির এই পরিমাণকে গ্রহণযোগ্য সীমার মধ্যেই ধরেন।
প্রস্তাবিত বাজেটের পাঁচটি নতুন দিক রয়েছে। এগুলো হলোÑ(১) দীর্ঘদিন পর ভ্যাট আইন কার্যকরের উদ্যোগ, (২) গবাদি পশু ও ঝুঁকি মোকাবিলায় শস্যবিমা (৩) তরুণ সমাজের জন্য ‘তরুণদের শক্তি বাংলাদেশের সমৃদ্ধি’ (৪) আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী গ্রামকে শহরে পরিণত করার উদ্যোগ ও (৫) সরকারের ব-দ্বীপ পরিকল্পনার দিক তুলে ধরা।
অর্থাৎ সরকারি কর্মচারীদের গ্রুপ বিমার আওতায় আনা এবং সার্বজনীন পেনশনের প্রস্তাব যেমন এসেছে তেমনি কৃষকদের জন্য শস্য বিমা ও কারখানার শ্রমিকদের জন্য এসেছে দুর্ঘটনা ভাতা দেয়ার প্রস্তাব।
আবার গত কয়েকবছরের আলোচিত ব্যাংক খাতের জন্য ব্যাংক কমিশনের কথাও উঠে এসেছে বাজেট বক্তৃতায়। বাদ যায়নি শেয়ার বাজার প্রসঙ্গও।
তবে বাজেট পাশ হলে দাম বাড়বে দেশে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠা স্মার্টফোন, সিগারেট, গুল, জর্দা ও আইসক্রিমের মতো পণ্যের।
আর দাম কমার সম্ভাবনা আছে চিকিৎসা সরঞ্জাম, ক্যান্সারের ওষুধ, এলইডি টেলিভিশন, এয়ার কন্ডিশনার, ওয়াশিং মেশিনের পাশাপাশি নিম্ন আয়ের মানুষের ব্যবহার্য ফিচার ফোনের মতো বেশ কিছু পণ্যের।
দেশের চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী বাজেটের পক্ষে এবং বিপক্ষে আলোচনা- সমালোচনা হচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন উচ্চাকাক্সক্ষার বাজেট, আবার কেউবা বলছেন, প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়ন করাই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এমন কথা আসছে যে, এই বাজেট গরিবের পকেট কাটবে। প্রস্তাবিত বাজেটে ধনীদের স্বার্থই রক্ষা করা হয়েছে।
প্রায় সাড়ে ষোল কোটি মানুষের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটের আকার মোটেও উচ্চকাক্সক্ষার প্রতিফলন নয়- বরং বাজেট বাস্তবায়নের বিষয়টি অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং হবে। চলতি বছরের বাজেট ঘোষণার সময়ও একই ধরনের কথা বলা হয়েছিল যে, বাজেট বাস্তবায়ন হবে চ্যালেঞ্জিং। চ্যালেঞ্জের কতটুকু সফল হওয়া গেছে এই আলোচনাটা মোটেও হচ্ছে না। হ্যাঁ এটা ঠিক যে, বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতার ক্ষেত্রে এখনো কিছু ঘাটতি থেকে গেছে কিন্তু এটাও স্বীকার করতে হবে যে সক্ষমতার পরিধিটাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাজেট বাস্তবায়নের একটা বড় চ্যালেঞ্জ হলোÑ দেশে বিরাজমান দুর্নীতি। দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরাটাও আরেক চ্যালেঞ্জ। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষিত আছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধের অবস্থানকে আরো সুগঠিত করতে হবে।
বাজেট বাস্তবায়নের কাজটি সবসমই চ্যালেঞ্জিং তবে সেটি দুঃসাধ্য নয়। সরকারের নেতৃত্বের দক্ষতায় সেটি বাস্তবায়ন সম্ভব। সরকার বাজেট বাস্তবায়নে দক্ষতা ও যোগত্যা প্রমাণে সফল হবে বলেই আমাদের ধারণা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ