২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচার: যে ১৪ বিষয় বিবেচনায় নিয়েছেন আদালত

আপডেট: অক্টোবর ১১, ২০১৮, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


বর্বরোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচারে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল-১-এর বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন ১৪টি বিষয় বিবেচনায় নিয়েছেন। গ্রেনেড হামলার আগে-পরে এ মামলার তদন্তের গতি-প্রকৃতি কীভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে, সেটা তুলে ধরেন। এছাড়া, এতে তারেক রহমানের রাজনৈতিক কার্যালয় বনানীর হাওয়া ভবন, সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুর ধানমন্ডির সরকারি বাসভবনে ষড়যন্ত্রমূলক বৈঠক, গ্রেনেড, টাকা সরবরাহ ও আলামত নষ্টসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বুধবার (১০ অক্টোবর) এ মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালত। রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদ- দিয়েছেন বিচারক। এ ঘটনার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে যাবজ্জীবন কারাদ- দেয়া হয়েছে।
আদালত এ মামলার বিচারে যে ১৪ বিষয় বিবেচনায় নিয়েছেন :
১) অভিন্ন অভিপ্রায়ে অপরাধ ও ষড়যন্ত্রমূলক সভা করে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আসামি আহসান উল্লাহ কাজলের ভাড়া করা ফ্ল্যাট বাড়ি নম্বর-ম-৩০ পশ্চিম মেরুল বাড্ডার মৃত জয়নাল আবেদিনের তৃতীয় তলার বাড়ির গেরেজ সংলগ্ন পূর্ব পাশের তিন কক্ষ বিশিষ্ট ফ্ল্যাট থেকে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঘটনাস্থল ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে হামলার জন্য আসামিরা একত্রিত হয়ে পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নেয় কিনা ও গ্রেনেড নিক্ষেপকারীরা এই ঘটনাস্থল থেকে গ্রেনেড সংগ্রহ করেছে কিনা।
২) অবসরপ্রাপ্ত খাদ্য পরিদর্শক রুহুল আমিনের বাড়ি হোল্ডিং নম্বর ২/৫ আনন্দ নগর, বাড্ডা। আসামি মুফতি আব্দুল হান্নান মুন্সী ওই বাড়ি ভাড়া নিয়ে অভিন্ন অভিপ্রায়ে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র করে জঙ্গি কাজে নিযুক্ত ছিল কিনা। ওই বাড়ি থেকে মুফতি আব্দুল হান্নান মুন্সী ২০০৫ সালে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হয় কিনা।
৩) মেরুল বাড্ডার রাজউক প্লট নং ৫৩, লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম রাব্বানীর (অব.) চারতলা বাড়ির তৃতীয় তলার উত্তর অংশের ফ্ল্যাট আসামিরা ভাড়া নিয়ে গ্রেনেড সংরক্ষণ করতো কিনা এবং বিভিন্ন গ্রেনেড হামলায় ওই বাড়ি থেকে গ্রেনেড সরবরাহ করা হয়েছে কিনা।
৪) রোড নম্বর ৫/এ, বাড়ি নম্বর ৬১, ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা, বাড়িটি বিএনপি জামায়াত চারদলীয় জোট সরকারের উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুর দ্বিতল সরকারি বাসভবন। ওই বাসভবনে ২০০৪ সালের ১৮ আগস্ট আব্দুস সালাম পিন্টু, লুৎফুজ্জামান বাবর, মুফতি আব্দুল হান্নান মুন্সী, আহসান উল্লাহ কাজল, মাওলানা আবু তাহের, মাওলানা তাজউদ্দিনরা ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতারা গ্রেনেড নিক্ষেপ করে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছে কিনা। ২০০৪ সালের ১৮ আগস্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করে গ্রেনেড প্রাপ্তি, অর্থবল, প্রশাসনিক সহায়তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াসহ ২০ আগস্ট আসামি আহসান উল্লাহ কাজল ও মুফতি মঈন ওরফে আবু জান্দাল তৎকালীন উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুর ধানমন্ডির বাসা থেকে আসামি মাওলানা তাজউদ্দিনের সরবরাহকৃত ১৫টি আর্জেস গ্রেনেড এবং নগদ ২০ হাজার টাকা সংগ্রহ করেন কিনা।
৫) প্লট নং-৩, সেকশন-১, ব্লক-সি, মিরপুরে মসজিদ-ই আকবর কমপ্লেক্সে আসামি মাওলানা আবু তাহের শিক্ষকতা করতেন কিনা। কমপ্লেক্সের মসজিদের ইমাম সাহেবের অনুপস্থিতিতে মাঝে মাঝে জুমার নামাজের সময় মুসল্লিদের উদ্দেশে জেহাদি বক্তব্য রাখতেন কিনা। ২০০৪ সালের ১৯ আগস্ট আসামি আহসান উল্লাহ কাজল, মাওলানা আবু তাহের, আব্দুস সালাম পিন্টু, মুফতি মঈন পরিকল্পনা ও অপরাধ সংঘটনের জন্য প্রয়োজনীয় শলা-পরামর্শ ও ষড়যন্ত্র করেন কিনা।
৬) ৩/১১ আলী অ্যান্ড নূর রিয়াল এস্টেট, সাত মসজিদ রোড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা। এ বাড়ির নিচতলায় হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা হতো কিনা। ওই বাড়িতে গ্রেনেড সংরক্ষণ করা হতো কিনা এবং এই মামলার অনেক আসামি ওই বাড়িতে যাতায়াত করতো কিনা। আসামিরা দেশের বাইরে ও দেশের ভেতর হামলা পরিচালনার জন্য মাওলানা তাজউদ্দিনের কাছ থেকে গ্রেনেড সংগ্রহ করতেন কিনা। মাওলানা তাজউদ্দিন বিয়ের পর একই বাড়ির তৃতীয় তলা বসবাস করতেন কিনা এবং সেখানে গ্রেনেড সংগ্রহ করতেন কিনা। ওই বাড়িতে আসামি আব্দুস সালাম পিন্টু ও মাওলানা আবু তাহেরের যাতায়াত ছিল কিনা।
৭) গুলশান থানার লালাসরাই মোজার রোড নং ১৩, ব্লক নং ডি, বাড়ি নম্বর ৫৩, বনানী মডেল টাউনের জনৈক আশেক আহমেদ, বাবা-আবদুল আবদুল খালেক। তার বাসাটি হাওয়া ভবন নামে পরিচিত। ওই হাওয়া ভবন বিএনপি জামায়াত ঐক্য জোট সরকারের কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু ছিল কিনা। ওই ঘটনাস্থলে পলাতক আসামি তারেক রহমান অপরাধ সংঘটনের জন্য ষড়যন্ত্রমূলক সভা করে কিনা ও জঙ্গি নেতারা তারেক রহমানের সঙ্গে বিভিন্ন সময় মিটিং করে কিনা।
৮) মোহাম্মদপুর থানার আলী অ্যান্ড নূর রিয়েল এস্টেট এলাকার সাতগম্বুজ মসজিদে ঘটনার আগে আসামি মুফতি আব্দুল হান্নান মুন্সী, মাওলানা আব্দুস সালাম, মাওলানা তাজউদ্দিন, মাওলানা আব্দুর রউপ, আব্দুল মাজেদ ভাট অভিন্ন অভিপ্রায়ে ও ষড়যন্ত্রমূলক সভা করে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতাদের হত্যার পরিকল্পনা করে কিনা।
৯) মোহাম্মদপুর সুপার মার্কেটের কাছে হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামীর অফিসে ও খিলগাঁও থানা এলাকায় হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামি বাংলাদেশের প্রধান কার্যালয়ে বিভিন্ন সময় আসামিরা অভিন্ন অভিপ্রায়ে অপরাধমূলক সভা ষড়যন্ত্র করেছে কিনা।
১০) অভিন্ন অভিপ্রায়ে ও পূর্ব পরিকল্পনার আলোকে পরস্পর যোগসাজশে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ঘটনায় জড়িত আসামিদের গ্রেনেড আক্রমণ চালানোর সুবিধার জন্য ও অপরাধীদের রক্ষার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কিনা।
১১) অভিন্ন অভিপ্রায়ে ও পূর্ব পরিকল্পনার আলোকে প্রশাসনিক সহায়তা দিয়ে মামলার ঘটনায় ব্যবহৃত অবিস্ফোরিত সংরক্ষণযোগ্য তাজা গ্রেনেড আলামত হিসেবে জব্দ করার পরও তা সংরক্ষণের ব্যবস্থা না করে এবং আদালতের অনুমতি না নিয়ে অপরাধীদের বাঁচানোর উদ্দেশ্যে সেনাবাহিনী কর্তৃক ধ্বংস করার ও আলামত নষ্ট করায় অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কিনা।
১২) অভিন্ন অভিপ্রায়ে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র সংক্রান্ত সভা ও পূর্ব পরিকল্পনার আলোকে পরস্পর যোগসাজশে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মূল আসামিদের সহায়তা করার লক্ষ্যে আসামিদের নির্ভিঘেœ ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে ও পরবর্তী সময়ে আসামিদের অপরাধের দায় থেকে বাঁচানোর সুযোগ করে দেওয়ার অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কিনা।
১৩) প্রকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করে বরং তাদের রক্ষা করার জন্য প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে অন্য লোকের ওপর দায় বা দোষ চাপিয়ে প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার লক্ষ্যে মিথ্যা ও বানোয়াট স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কিনা।
১৪) উল্লিখিত ঘটনাস্থলগুলোয় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ও পূর্বপরিকল্পনা করে পরবর্তী সময়ে মূল ঘটনাস্থল আওয়ামী লীগ কার্যালয় ২৩ নম্বর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের সামনের ঘটনার তারিখ ও সময় আর্জেস গ্রেনেড হামলার পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাকর্মীসহ ২৪ জনকে হত্যা এবং তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অসংখ্য নেতাকর্মীকে গুরুতর আহত করার অপরাধে আসামিরা দ-বিধির ১২০/বি, ৩২৪, ৩২৬, ৩০৭, ৩০২, ১০৯, ২০১, ২১২, ২১৭, ২১৮, ২৩০ ও ৩৪ ধারায় শাস্তি দেয়া যায় কিনা।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার জনসভায় গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। হামলায় আওয়ামী লীগের ২২ জন নেতাকর্মী ও অজ্ঞাত দুই ব্যক্তি নিহত হন। হামলার পরদিন ২২ আগস্ট মতিঝিল থানার এস আই শরীফ ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে দ-বিধির ১২০/বি, ৩২৪, ৩২৬, ৩০৭, ৩০২, ২০১, ১১৮, ১১৯, ২১২, ৩৩০, ২১৮, ১০৯ ও ৩৪ ধারায় একটি মামলা (নং-৯৭) দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর প্রথমে মতিঝিল থানা পুলিশ ও পরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ মামলাটির তদন্ত করে। গোয়েন্দা পুলিশ কিছুদিন মামলাটির তদন্ত চালানোর পর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সিআইডির সাবেক বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, সাবেক এএসপি মুন্সী আতিকুর রহমান, সাবেক এএসপি আবদুর রশিদ পর্যায়ক্রমে তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত হয়ে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তদন্ত শুরুর কয়েক দিন পরই নোয়াখালীর সেনবাগের জজ মিয়া নামের এক যুবককে গ্রেফতার করে গ্রেনেড হামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেন সিআইডি কর্মকর্তারা। কিন্তু ২০০৭ সালে ওয়ান ইলেভেনের পটপরিবর্তনের পর ২১ আগস্ট হামলা মামলারও চিত্র পাল্টে যেতে থাকে। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় সিআইডির এএসপি ফজলুল কবিরকে। ২০০৮ সালের ৯ জুন হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নানসহ ২২ জনকে অভিযুক্ত করে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে সিএমএম আদালতে দুটি অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন এএসপি ফজলুল কবির। ওই বছরই মামলা দুটির কার্যক্রম দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল ১-এ স্থানাস্তর করা হয়। এ আদালতে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের ২৯/১১ (হত্যা) ও ৩০/১১ (বিস্ফোরক) ধারায় মামলা দুটির বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। পুরনো ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডে পুরনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে পিডব্লিউডির একটি পুরনো সরকারি ভবনকে অস্থায়ী আদালত ঘোষণা করা হয়। এ আদালতে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের ২৯/১১ (হত্যা) ও ৩০/১১ (বিস্ফোরক) ধারায় মামলা দুটির বিচার কার্যক্রম চলে।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় গেলে পুরোপুরি পাল্টে যায় এ মামলার তদন্তের ধারা। ৬১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের পর ২০০৯ সালের ২৫ জুন আদালতের কাছে এ মামলার অধিকতর তদন্তের আবেদন জানান রাষ্ট্রপক্ষ। শুনানি শেষে ওই বছরের ৩ আগস্ট আদালত অধিকতর তদন্তের আবেদন মঞ্জুর করেন। অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল কাহার আকন্দকে। দীর্ঘ তদন্তের পর তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরী, মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ ও আবদুস সালাম পিন্টুসহ আরও ৩০ জনকে অভিযুক্ত করে ২০১১ সালের ২ জুলাই আদালতে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন। অধিকতর তদন্তে গ্রেনেড হামলার সঙ্গে জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি) পাশাপাশি হাওয়া ভবনের সংশ্লিষ্টতাও খুঁজে পান তিনি। মামলাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অভিযোগে সিআইডি’র প্রথম তিন তদন্ত কর্মকর্তাকেও অধিকতর তদন্তে অভিযুক্ত করেন আবদুল কাহার আকন্দ।
তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন