২১ আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার দিন আজ

আপডেট: আগস্ট ২১, ২০১৯, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


স্মরণকালের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার দিন আজ। ২০০৪ সালের এই দিনে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত জোট সরকারের নেতা-মন্ত্রীদের প্রত্যক্ষ মদদে জঙ্গি-সন্ত্রাসীরা আওয়ামীলীগের সন্ত্রসবিরোধী শান্তি-সমাবেশে নৃশংস গ্রেনেড হামলায় ২৪ জন নিহত ও গ্রেনেডের স্পিøন্টারের আঘাতে প্রায় ৩০০ জন্য আহত হন। ওই হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানও নিহত হন।
সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জঙ্গি বোমা হামলার প্রতিবাদে সেদিন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে ঢাকা মহানগর আওয়ামীলীগের ডাকে সমাবেশ শেষে সন্ত্রাসবিরোধী শান্তি মিছিল হওয়ার কথা ছিল। মিছিল শুরুর আগ মুহূর্তে খোলা ট্রাকমঞ্চে দাঁড়িয়ে শেখ হাসিনার বক্তব্য শেষ হওয়া মাত্র বিকেল ৫:২২ মি. তাকে লক্ষ্য করে মুহূর্মহু গ্রেনেড হামলা হয়। মৃত্যুর জাল ছিন্ন করে অলৌকিকভাবে শেখ হাসিনা বেঁচে যান। মানববর্ম রচনা করে তার জীবন রক্ষা করে প্রিয় নেত্রীকে গাড়িতে উঠিয়ে দেন তারই সহকর্মী-সহমর্মিরা। তারপরও বঙ্গবন্ধু কন্যাকে হত্যার শেষ প্রচেষ্টা হিসাবে তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে ১২ টি গুলি ছুঁড়েছিল সন্ত্রাসীরা।
১৪ বছর পর ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর নৃশংস এই হত্যা মামলার রায় ঘোষনা করা হয়।আদালত রায়ে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়ার বড় ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনকে দেয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। এছাড়া এ মামলার আসামি ১১ সরকারি কর্মকর্তাকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন ১০ অক্টোবর সকালে আলোচিত ওই ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের দুই মামলায় এই রায় ঘোষণা করেন।
২০০৪ সালের ২১ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী শোভাযাত্রায় গ্রেনেড হামলায় আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন; আহত হন কয়েকশ নেতাকর্মী।
সেদিন অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান আজকের প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু গ্রেনেডের প্রচণ্ড শব্দে তার শ্রবণশক্তি নষ্ট হয়।
খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ মোট ৪৯ জন এ মামলার আসামি। সাজাপ্রাপ্ত তারেক রহমান এবং হারিছ চৌধুরীসহ ১৮ জন পলাতক রয়েছে। দাবি উঠেছে এই পলাতক অপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করার।
শেখ হাসিনাকে হত্যা করে দলকে নেতৃত্বশূন্য করতেইরাষ্ট্রযন্ত্রকে সম্পূর্ণরূপে ব্যবহার করে এই হামলা চালানো হয়েছিল এবং তাতে তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপি-জামায়াত জোটের শীর্ষ নেতাদের প্রত্যক্ষ মদদ ছিল বলে এ মামলার তদন্তে উঠে আসে।
মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার ভাগনে সাইফুল ইসলাম ডিউক, খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, হুজি নেতা মুফতি আবদুল হান্নান, সাবেক সাংসদ শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, সাবেক আইজিপি মো. আশরাফুল হুদা, শহিদুল হক ও খোদা বক্স চৌধুরী এবং মামলাটির তিন তদন্ত কর্মকর্তা সাবেক বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, সিআইডির সিনিয়র এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান, এএসপি আবদুর রশীদ ও সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার আরিফুল ইসলামসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়।