২২ আগস্ট শুরু হচ্ছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন?

আপডেট: আগস্ট ১৬, ২০১৯, ১:১১ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


সেনা নিপীড়নের মুখে রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা হাজার হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে আগামী সপ্তাহে নতুন প্রচেষ্টা শুরু করছে মিয়ানমার ও বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার উভয় দেশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি বাংলাদেশের হস্তান্তর করা ২২ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা থেকে ৩ হাজার ৫৪০ জনকে ফিরে যেতে দেওয়ার কথা জানিয়েছে মিয়ানমার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন আগামী ২২ আগস্ট এসব রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছেন তারা। বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ছোট পরিসরে নতুন করে প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে কাউকে জোর করে ফেরত পাঠানো হবে না।
জাতিগত নিধন ও গণহত্যার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তি সম্পন্ন হয়। একই বছরের ৬ জুন নেপিদোতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমার ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর মধ্যেও সমঝোতা চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী গত বছরের ১৫ নভেম্বর রোহিঙ্গা প্রত্যর্পণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। তবে আবারও হামলার মুখে পড়ার আশঙ্কায় রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরতে অস্বীকৃতি জানানোয় ব্যর্থ হয় ওই উদ্যোগ।
রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে নতুন করে উদ্যোগের অংশ হিসেবে গত মাসে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থোয়ের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দল। ১৫ সদস্যের দলটি দুই দিন ধরে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আলোচনা ও বৈঠক করে। এসব বৈঠকে রোহিঙ্গাদের তরফে ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে মিয়ানমারের নাগরিকত্ব ও চলাফেরায় স্বাধীনতার দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, প্রায় এক বছর আগে নেওয়া উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার পর নতুন করে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের কর্মকর্তারা। মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মিয়ান্ট থো জানিয়েছেন, ‘২২ আগস্ট ৩ হাজার ৫৪০ জন রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছি আমরা’। বাংলাদেশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, ছোট পরিসরে প্রত্যর্পণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে কাউকে জোর করে ফেরত পাঠানো হবে না। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ কেবল নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও স্থায়ী প্রত্যর্পণ ছাড়া আর কিছুই চায় না।’
তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন