২২ জর্দায় ক্ষতিকর উপাদান নিরুৎসাহিত করার সময় এসেছে

আপডেট: নভেম্বর ৪, ২০১৯, ১:১৮ পূর্বাহ্ণ

হাকীমপুরী, শাহজাদী ও রতন জর্দাসহ দেশের ২২টি জর্দা, খয়ের ও গুলে বিষাক্ত হেভি কেমিক্যাল লেড, ক্যাডমিয়াম ও ক্রোমিয়াম পেয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ), যা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এগুলো দীর্ঘদিন খাওয়ার কারণে মাড়ি ও লিভার ক্যান্সারের মতো জটিল রোগ হয়।
এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যারা পানের সঙ্গে খয়ের খান তাদের জন্য রয়েছে আরও দুঃসংবাদ। কারণ একধরনের গাছের বাকল থেকে এই পণ্যটি তৈরির কথা থাকলেও সেটি কোনো কোনো ক্ষেত্রে শুধু কেমিক্যাল রঙ দিয়ে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা গেছে ফার্নিচারের বার্নিশে ব্যবহারের জন্য যেসব কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় সেগুলো দিয়েই সরাসরি খয়ের তৈরি হচ্ছে। যার মধ্যে ক্ষতিকর ভারী ধাতু লেড, ক্রোমিয়াম ও ক্যাডমিয়ামের মতো পদার্থ পাওয়া গেছে। তাহলে খুব স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে যে, স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ নেশাদ্রব্য এতো সহজরভ্য কেন? নেশা হিসিাবে পানের একটা সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা আছে। কিন্তু পানের সাথে যা কিছু খাওয়া হয় তার সবগুলোই স্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি করে। সুপারিকে নিরব ঘাতক হিসেবে দেখা হয়।
স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয় নিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গুটখা, খৈনি ইত্যাদি তামাকজাত নেশাদ্রব্য এবং সব ধরনের পানমশলা নিষিদ্ধ হতে যাচ্ছে। ৭ নভেম্বর থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে পরবর্তী এক বছরের জন্য। এই এক বছরে এসব জিনিস তৈরি, মজুত, জোগান এবং বিক্রি আইনত অপরাধ বলে বিবেচিত হবে।
নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ এক বছর হলেও বাৎসরিক নবায়নের মাধ্যমে তা চিরস্থায়ী হতে পারে। চলতি বছরেই পশ্চিমবঙ্গের প্রতিবেশী রাজ্য বিহারে ১২ ধরনের পানমশলা নিষিদ্ধ করেছে। ওই পানমশলাগুলোতে ক্ষতিকর ম্যাগনেশিয়াম কার্বনেট আছে; যা ক্যান্সারের কারণ বলে গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে। আর তারও আগে বিহারে নিষিদ্ধ হয়েছে গুটখা। এ বছর একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা রাজস্থানেও জারি হয়েছে।
পান বাংলাদেশের অর্থকরি ফসল বটে। কিন্তু পানের সাথে যেসব অনুসঙ্গ ব্যবহার হয় সেগুলি স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এই ক্ষতিকর দিকটি খুব কমই যারা পান খান তারা জানেন। পানের নেশাকে সমাজ-পরিবার খুবই সহজভাবে দেখে। পরিবার নিয়ে পানচর্চা হয়। তবে এখন সময় পাল্টেছে। তরুণদের মধ্যে মধ্যে পান নিয়ে খুব একটা আগ্রহ লক্ষ্য করা যায় না। তবুও পানের জনপ্রিয়তায় খুব একটা ধাক্কা লাগেনি। কেননা এটি একটি নেশা- যা আসক্তদের নির্ভরশীল করে তোলে।
পানের নেশা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকরই শুধু নয়- আসক্তরা পরিবেশ নোংরা করে ব্যাপকভাবে। ফলে পান নেশা হিসেবে উৎসাহিত করার সুযোগ নেই। কেননা পান স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর ঝুঁকি তৈরি করেছে। নেশা হিসেবে পানকে নিরুৎসাহিত করার সময় এসেছে। পানের অনুসঙ্গ হিসেবে জর্দার ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা দরকার। সিগারেটের মতই জর্দার ওপর অধিক করারোপ করে এর ব্যবহার কমিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ