২৮ ঘণ্টা পর রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ চালু

আপডেট: জুলাই ১২, ২০১৯, ১:০৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


চারঘাটে লাইনচ্যুত বগির উদ্ধারে কাজ করছেন শ্রমিকরা-সোনার দেশ

২৮ ঘণ্টা পর সারাদেশের সঙ্গে রাজশাহীর রেল যোগাযোগ চালু। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় লাইনচ্যুত বগির শেষটি তুলতে সক্ষম হয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। তারপর থেকেই সারাদেশের সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়ে যায়।
গত বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজশাহীর হলিদাগাছির দিঘলকান্দি এলাকায় তেলবাহী ট্রেনের ৮টি বগি লাইনচ্যুত হয়। এর ফলে রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়ে যাত্রীরা। তবে ২৮ ঘণ্টা পর গতকাল রাত ১০টার দিকে শেষ বগিটি রেললাইনে তুলতে সক্ষম হয় কর্তৃপক্ষ।
পশ্চিমাঞ্চল রেলের প্রধান সংকেত ও টেলি যোগাযোগ প্রকৌশলী অসীম কুমার তালুকদার জানান, রাত ১০টার দিকে শেষ বগিটি লাইনে তোলা হয়। তারপর লাইন ক্লিয়ার করতে কিছু সময় লেগেছে। এরপর ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনটি, যা আড়ানি স্টেশনে অপেক্ষামানরত ছিলো, তা রাজশাহী স্টেশনে প্রবেশ করে। এরপর রাজশাহী থেকে পদ্মা এক্সপ্রেস হয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
দুপুর দেড়টার দিকে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী আফজাল হোসেন বলেন, তেলবাহী ট্রেনের আটটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার সঠিক কারণ এখনো বের করা যায়নি। তবে এজন্য গঠিত তদন্ত কমিটি কাজ করছে। তারা প্রতিবেদন জমা দিলে ঠিক কী কারণে দুর্ঘটনা ঘটে তা জানা যাবে।
তিনি বলেন, বুধবার রাত থেকে ক্রেনের সাহায্যে লাইনচ্যুত বগিগুলোকে শূন্যে উঠিয়ে লাইনে নিয়ে স্থাপন করা হচ্ছে। তার আগে ভেঙে যাওয়া রেললাইনগুলো কেটে সরিয়ে দিয়ে নতুন লাইন প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে। অনেক স্থানে পুরোনো ও দুর্বল স্লিপার সরিয়ে নতুন স্লিপারও বসাতে হচ্ছে। এতে লাইনচ্যুত তেলবাহী ট্রেনের ওয়াগনগুলোর উদ্ধার কাজে বেশি সময় লাগছে।
এর ওপর বুধবার রাতভর থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় উদ্ধার কাজে বেগ পেতে হয়। দুপুর ১টা পর্যন্ত চারটি তেলবাহী বগি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। অন্য চারটি বগি উদ্ধারে কতো সময় লাগবে তা এখনই সুনির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। তবে বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকাগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা এখনো বাতিল করা হয়নি। আশা করা যাচ্ছে, এ সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হবে।
এদিকে ২৬ ঘণ্টা ট্রেন বন্ধ থাকায় বুধবার রাতের ও বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সব ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের রাজশাহীর স্টেশন ম্যানেজার আবদুল করিম জানান, চারঘাটের হলিদাগাছিতে লাইনচ্যুত বগিগুলোর উদ্ধার কাজ শেষ হয়নি। যে কারণে রাজশাহী থেকে বৃহস্পতিবার সকালে আন্তঃনগর ট্রেন বনলতা, সাগরদাঁড়ি, সিল্কসিটি, কপোতাক্ষ ও বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। টিকিট ফেরত নিয়ে যাত্রীদের টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে। বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত তারা ৭ হাজার যাত্রীর ২৬ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছেন। তবে হাতে আর নগদ টাকা নেই। তাই টাকাও ফেরত দেয়া হচ্ছে না। যাত্রীদের পরে যোগাযোগ করতে বলা হচ্ছে।
রাজশাহীর রেলওয়ে স্টেশনের প্রধান বুকিং কর্মকর্তা আবদুল মমিন জানিয়েছেন গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা পর্যন্ত ৭ হাজার যাত্রীর ২৬ লাখ টাকারও বেশি টিকিটের মূল্য ফেরত দেয়া হয়েছে।
মমিন জানান, গতকাল বুধবার রাতের ঢাকাগামী ট্রেনসহ মোট ৮টি ট্রেনের রাজশাহীর যাত্রীদের টিকিটের টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে। এসব ট্রেনের মধ্যে রয়েছে ধূমকেতু এক্সপ্রেস, তিতুমীর এক্সপ্রেস, সাগরদাঁড়ি, কপোতাক্ষ, বরেন্দ্র এক্সপ্রেস, মধুমতি এক্সপ্রেস, বনলতা এক্সপ্রেস, সিল্কসিটি ও টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রীদের টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পরই কর্তৃপক্ষ ঘটনার জন্য পশ্চিম রেলের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রশিদকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছেন। ঘটনার তদন্তের জন্য বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ আরিফুল ইসলামকে সভাপতি করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তার ঘটনার পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবেন।
বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) খন্দকার শহিদুল ইসলাম বলেন, রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলার জন্যই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই এলাকাটি প্রকৌশলী আব্দুর রশিদের দায়িত্বে ছিল। তদন্ত শেষে এই দুর্ঘটনার জন্য আরও কে কে দায়ী হতে পারে তা আরও সুনির্দিষ্ট করা হবে। তখন তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় লোকজনের ধারণা, রেললাইনের ওপর দিয়ে একটি নতুন রাস্তার কাজ হয়েছে। এ জন্য লাইনের ওপর দিয়ে ভারী ট্রাক চলাচল করেছে। লাইন কিছুটা দেবে গেছে। এরই মধ্যে ভারী বৃষ্টি হয়েছে। আর রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলা রয়েছে। সব মিলিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে বিকল্প পন্থায় রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ চালু রেখেছে রেল কর্তৃপক্ষ। ঢাকা অভিমুখী সকল ট্রেন ঈশ্বরদী থেকে এবং অন্যান্য ট্রেন নাটোর থেকে ছাড়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে করে বনলতা ও ধূমকেতু এক্সপ্রেস ছাড়া অন্য ট্রেনগুলো রাজশাহী না ঢুকে ফিরে গেছে। তবে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় ব্যাপক চাপ পড়েছে আন্তঃজেলা লোকাল বাসের উপর।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ